রাহুল সিংহ মজুমদার। কলকাতা সারাদিন।
দিন কয়েক আগেই আনন্দপুরের আগুনে ২৭ জন মানুষ জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করা সত্ত্বেও হুঁশ ফেরেনি সোনারপুরের মানুষের। যেভাবে রাতারাতি সোনারপুর এলাকায় একের পর এক জলা জমি ভরাট হয়ে প্রশাসনের একাংশের পাশাপাশি শাসকদলের নেতাদের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ মদতে বেআইনি নির্মাণ গড়ে উঠছে, তাতে রীতিমতো অশনি সংকেতে দেখছে মানুষ।
সোনারপুর উত্তর বিধানসভার অন্তর্গত নাজিরা বাদে ৮৭ জন জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মারা যাওয়ার পরেও তার মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরেই সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভার অন্তর্গত ঘাসিয়ারা বিবেকানন্দ পল্লীতে সোনারপুর দক্ষিণের প্রাক্তন বিধায়ক প্রয়াত জীবন মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির পাশেই বিশাল একটি পুকুর ভরাট করার জন্য রাতারাতি ঘিরে ফেলল তৃণমূল ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত প্রোমোটার।
অথচ এই পুকুরের পাশ দিয়েই নিজের রাজনৈতিক কার্যালয়ে যান স্থানীয় বিধায়িকা অরুন্ধতী মৈত্র ওরফে লাভলী মৈত্র। সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভার অন্তর্গত ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কৃষ্ণপদ মন্ডল বিধায়কের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হওয়ার জন্যেই কৃষ্ণপদ মন্ডলের প্রত্যক্ষ মদতে এভাবে এলাকার মানুষের তীব্র আপত্তি ও গ্রাহ্য করে রাতারাতি বিশাল এলাকা জুড়ে থাকা পুকুরটি ঘিরে ফেলে ভরাট করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।
এই পুকুর ভরাটের উদ্যোগ শুরু হওয়ার পরেই রাজপুর সোনারপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান ডাক্তার পল্লব দাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন অবিলম্বে পুকুর ভরাটের চেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়ার পাশাপাশি চারদিকের টিন খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পুরসভার চেয়ারম্যানের সেই নির্দেশ পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো কার্যকর হয়নি।
সোনারপুরের তৃণমূল ঘনিষ্ঠ প্রোমোটার এই পুকুর ভরাটের চক্রান্তের সঙ্গে যুক্ত বলে এলাকার মানুষের একাংশের অভিযোগ। (যদিও সেই অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখেনি কলকাতা সারাদিন।)

তবে এভাবে সোনারপুরে ঘাসিয়ারা এলাকায় রাতারাতি বিশাল পুকুর ভরাটের চেষ্টার বিরুদ্ধে রাস্তায় আন্দোলনে নেমেছে বিজেপির যাদবপুর সাংগঠনিক জেলার নেতা কর্মীরা।

বিজেপির যাদবপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অরিশ্বর মাইতির নেতৃত্বে এলাকার কয়েকশো বিজেপি নেতাকর্মী এবং সমর্থক সোনারপুর এলাকা জুড়ে এভাবে একের পর এক কুকুর এবং জলা জমি ভরাটের জন্য স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করে বিশাল পদযাত্রা করলেন সোনারপুরে।

পাশাপাশি বিজেপি নেতৃত্তের অভিযোগ, শুধুমাত্র সোনারপুরের পুরসভা এলাকায় নয়, সোনারপুর গ্রামীণ এলাকা বলে পরিচিত কামরাবাদ দুই গ্রাম পঞ্চায়েত এবং সোনারপুর ২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ব্যাপকভাবে চলছে পুকুর এবং জলাজমি ভরাট করে বেআইনি নির্মাণের কাজ। যার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতারা এবং জনপ্রতিনিধিরা। আগামী দিনে সেই সমস্ত এলাকাতেও স্থানীয় মানুষকে নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন বিজেপির যাদবপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অরিশ্বর মাইতি।