শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের জুলাই অগাস্টে গণঅভ্যুত্থানের পরে সবেমাত্র ফলাফল ঘোষণা হয়েছে বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনের। গতকাল দেড় বছর ধরে বাংলাদেশের উপদেষ্টা সরকারের অধীনে থাকাকালীন বাংলাদেশ একের পর এক জেলায় হিন্দু নিধন এবং হিন্দু নাগরিকদের উপরে অত্যাচারের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে বারে বারে। বিশেষ করে ভারত বিরোধিতা এবং হিন্দু বিরোধীতার পাশাপাশি বাংলাদেশে ইসকনকে নিষিদ্ধ করার দাবিও উঠেছে এই সময়ের মধ্যেই। আর এই আবহে বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পরে তাৎপর্যপূর্ণভাবে দেখা গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের প্রায় প্রত্যেকটি জেলাতেই একচেটিয়া ভাবে আসনে জয়ী হয়েছে উগ্র মৌলবাদী এবং হিন্দু বিরোধী বলে পরিচিত জামায়াত।
পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে বাংলাদেশের জামায়াতের জয় পাওয়ার ঘটনা ভারত তথা পশ্চিমবঙ্গের সার্বভৌমত্ব এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার ক্ষেত্রে অশনি সংকেত বলে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বাংলাদেশে যখন বিএনপি’র নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে সেই সময় বাংলাদেশের নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে জামাতের এই বারবার অংকের ঘটনা প্রকাশেই নেই রবিবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি মানচিত্র পোস্ট করেছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেই মানচিত্রে দেখানো হয়েছে কিভাবে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তে রাতারাতি বেড়ে উঠেছে উগ্র মৌলবাদী বলে পরিচিত জামায়াতের প্রভাব। শুভেন্দু নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন,
‘সমগ্র বিশ্ব যখন ঢাকার শাসন পরিবর্তনের দিকে তাকিয়ে, তখন ভারতের পূর্ব সীমান্তে এক গুরুতর রাজনৈতিক সংহতি গড়ে উঠেছে। বাংলাদেশের ২০২৬ সালের নির্বাচনে সীমান্তবর্তী ৬৮টি আসনে জামাত এ ইসলামী জয়লাভ করেছে, যা সাতক্ষীরা থেকে রংপুর পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের সংবেদনশীল সীমান্ত এলাকার বিপরীতে অবস্থিত। শিলিগুড়ি করিডর ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে সংযোগের কৌশলগত জীবনরেখা। এই অঞ্চলজুড়ে কোনো আদর্শিক সংহতি তৈরি হলে তা অবশ্যই বাড়তি সতর্কতা এবং শক্তিশালী সীমান্ত পরিকাঠামোর দাবি রাখে।’
এই ঘটনার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে টেনে এনে শব্দ অভিযোগ করেছেন ভারত এবং বাংলাদেশের সীমান্তে বিএসএফকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে না দেওয়ার জন্য অনেকখানি দায়ী পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সরকার। বিএসএফকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সুপারিশ মেনে প্রয়োজনীয় জমি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তুলে তিনি লিখেছেন, ‘তবুও ভারতীয় অংশে, তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার সীমান্তে বিএসএফের বেড়া নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণে বারবার পূর্ণ সহযোগিতা করতে ব্যর্থ হয়েছে।এমনকি মাননীয় কলকাতা হাইকোর্টও রাজ্য সরকারকে সীমান্ত বেড়ার জন্য প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং স্পষ্টভাবে বলেছিলেন যে জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক বিলম্ব হওয়া উচিত নয়। পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির এই সময়ে পশ্চিমবঙ্গের প্রয়োজন : বিএসএফের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা।

নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সীমান্তবর্তী এলাকায় বেড়া দেওয়ার কাজ সম্পূর্ণ করা। অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি। ভোটব্যাংক রাজনীতি নয়, নিরাপত্তা কেন্দ্রিক শাসন ব্যবস্থা। শুধুমাত্র বিজেপি সরকার, অর্থাৎ “ডবল ইঞ্জিন” সরকারই পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে পারে। ২০২৬ সালে অন্য কোনো ফলাফল এবং সীমান্তের ওপারে উগ্র রাজনৈতিক মতাদর্শের উত্থান অবৈধ অনুপ্রবেশকে ত্বরান্বিত করবে এবং তথাকথিত “বৃহত্তর বাংলাদেশ”এর ধারণাকে শক্তিশালী করবে।
পশ্চিমবঙ্গের নিরাপত্তাই ভারতের নিরাপত্তা।’