সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের আগে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় বাবরি মসজিদ তৈরির জন্য কোনো আইনি বাধা থাকল না হুমায়ুন কবীরের সামনে। ভারতে বাবর বা বাবরি মসজিদের নামে কোনও মসজিদ তৈরি করা যাবে না – এমনই নিষেধাজ্ঞা চেয়ে দায়ের হওয়া একটি মামলা খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। আবেদনকারীর যুক্তি ছিল, মুঘল শাসক বাবর ছিলেন একজন ‘হিন্দু-বিরোধী আক্রমণকারী’ এবং বহু হিন্দুকে হত্যার জন্য তিনি দায়ী। তাই তাঁর নামে মসজিদ তৈরি হতে পারে না।
সম্প্রতি মুর্শিদাবাদেই সাসপেন্ডেড তৃণমূল বিধায়ক তথা জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর একটি মসজিদ নির্মাণ করছেন। যার নাম দেওয়া হয়েছে বাবরি মসজিদ। মূলত সেই মসজিদ যাতে তৈরি করা না যায় তার জন্যই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন আবেদনকারী।
বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ আবেদনকারীর সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শোনার পরেই মামলাটি খারিজ করে দেয়। শুনানির সময় আবেদনকারীর আইনজীবী বিশেষভাবে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের একটি মসজিদের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বাবর একজন নিষ্ঠুর হিন্দু-বিরোধী আক্রমণকারী হওয়া সত্ত্বেও মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদের নামে একটি মসজিদ তৈরি করা হচ্ছে। এজলাসে মামলাকারীর আইনজীবী মোঘল সম্রাট বাবরকে ‘সাম্রাজবাদী’ বলে অভিহিত করেন। তাঁর যুক্তি, দেশের অন্দরে বাবরের নামে নতুন করে কোনও মসজিদ বা স্থাপত্যনির্মাণ করা উচিত নয়। এমনকি, বাবর যেহেতু হিন্দুদের দাসে পরিণত করেছিলেন, তাই তাঁকে নতুন করে সম্মান প্রদানের কোনও জায়গা নেই বলেই বিচারপতি বেঞ্চকে জানান সওয়ালকারী। তবে এই যুক্তি শোনার পরেও কোনও বিশেষ প্রতিক্রিয়া দেয়নি বিচারপতি বেঞ্চ। মামলা গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করে শীর্ষ আদালত। ফলত নিজে থেকেই মামলাটি প্রত্যাহার করে নেন আইনজীবী।
প্রসঙ্গত, জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান তথা প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক হুমায়ুন কবীর ২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদে এই বাবরি মসজিদ তৈরির শিলান্যাস করেন। তিনি ঘোষণা করেন, ‘বাংলার ৩৭ শতাংশ মুসলিম জনসংখ্যা যে কোনও মূল্যে এই মসজিদ তৈরি করবে, এর একটা ইটও কেউ সরাতে পারবে না।’ হুমায়ুন কবীর নিজের সাংবিধানিক অধিকারের কথা উল্লেখ করে বলেন যে তিনি অসাংবিধানিক কিছু করছেন না।
তাঁর কথায়, ‘যে কেউ মন্দির বা গির্জা তৈরি করতে পারে, আমিও পারি।’ হুমায়ুন কবীর জোর দিয়ে বলেন যে আইনি চ্যালেঞ্জ দিয়ে মসজিদের নির্মাণ কাজ আটকানো যাবে না। তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা করা হয়েছে, কিন্তু আল্লাহ যার সঙ্গে আছেন, তাকে কেউ থামাতে পারে না। ভারতের সংবিধানেও স্পষ্ট লেখা আছে যে কেউ মসজিদ তৈরি করতে পারে; এটা একটা অধিকার। আদালতও তাই বলেছে। এখানে বাবরি মসজিদ হবে, হাসপাতাল হবে, বিশ্ববিদ্যালয় হবে এবং মানুষের সুবিধার জন্য নানা ব্যবস্থা করা হবে…।’