ব্রেকিং
  • Home /
  • কলকাতা /
  • Sonarpur /
  • TMC draft candidate list : ছন্নছাড়া বিজেপি সিপিএম, ২৯৪ আসনে প্রার্থী প্রায় চূড়ান্ত! দেখুন ২০২৬-এ তৃণমূলের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা

TMC draft candidate list : ছন্নছাড়া বিজেপি সিপিএম, ২৯৪ আসনে প্রার্থী প্রায় চূড়ান্ত! দেখুন ২০২৬-এ তৃণমূলের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা

সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন। বাংলার রাজনৈতিক ময়দানে আবারও নির্বাচনী দামামা। আনুষ্ঠানিকভাবে ভোট ঘোষণা না হলেও শাসক ও বিরোধী—দুই শিবিরেই প্রস্তুতি তুঙ্গে। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই মুহূর্তে সংগঠন, কৌশল ও প্রার্থী বাছাই—সবদিক থেকেই অনেকটা এগিয়ে রয়েছে All India Trinamool....

TMC draft candidate list : ছন্নছাড়া বিজেপি সিপিএম, ২৯৪ আসনে প্রার্থী প্রায় চূড়ান্ত! দেখুন ২০২৬-এ তৃণমূলের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা

  • Home /
  • কলকাতা /
  • Sonarpur /
  • TMC draft candidate list : ছন্নছাড়া বিজেপি সিপিএম, ২৯৪ আসনে প্রার্থী প্রায় চূড়ান্ত! দেখুন ২০২৬-এ তৃণমূলের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা

সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন। বাংলার রাজনৈতিক ময়দানে আবারও নির্বাচনী দামামা। আনুষ্ঠানিকভাবে ভোট ঘোষণা না হলেও....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন

সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।

বাংলার রাজনৈতিক ময়দানে আবারও নির্বাচনী দামামা। আনুষ্ঠানিকভাবে ভোট ঘোষণা না হলেও শাসক ও বিরোধী—দুই শিবিরেই প্রস্তুতি তুঙ্গে। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই মুহূর্তে সংগঠন, কৌশল ও প্রার্থী বাছাই—সবদিক থেকেই অনেকটা এগিয়ে রয়েছে All India Trinamool Congress। অন্যদিকে Bharatiya Janata Party, Communist Party of India (Marxist), Indian National Congress এবং Indian Secular Front এখনও জোট, আসন বণ্টন ও মুখ নির্ধারণে ধোঁয়াশা কাটাতে পারেনি।

 

২৯৪ আসনে প্রস্তুত খসড়া তালিকা, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শীর্ষ নেতৃত্বের

শাসকদল সূত্রে খবর, রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা আসনের জন্য প্রার্থী তালিকা প্রায় চূড়ান্ত। দীর্ঘ সমীক্ষা, বুথভিত্তিক রিপোর্ট, সাংগঠনিক ফিডব্যাক এবং জনমত যাচাইয়ের পর তৈরি হয়েছে এই খসড়া। অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশেলে তৈরি এই তালিকায় একদিকে যেমন রয়েছেন বর্তমান বিধায়ক ও মন্ত্রীরা, তেমনই জায়গা পেয়েছেন একাধিক নতুন মুখ।

 

তবে শেষ সিদ্ধান্ত নেবেন দলনেত্রী Mamata Banerjee এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক Abhishek Banerjee। প্রার্থী ঘোষণার ক্ষেত্রে এবার ‘জেতার যোগ্যতা’ই মূল মাপকাঠি—এমনই ইঙ্গিত শাসক শিবিরের।

BJP Leaders Join TMC in nandigram : নন্দীগ্রামে বিজেপিতে বড় ভাঙ্গন, শুভেন্দুর নেতৃত্বে অনাস্থা প্রকাশ করে তৃণমূলে যোগদান নন্দীগ্রামের বিজেপি নেতাকর্মীদের

কলকাতা: বড় চমক নয়, কিছু কৌশলগত বদল

রাজ্যের রাজনৈতিক স্নায়ুকেন্দ্র কলকাতায় বড়সড় রদবদলের সম্ভাবনা কম। অধিকাংশ বর্তমান বিধায়কই ফের টিকিট পাচ্ছেন বলে খবর।

ভবানীপুরে ফের লড়াই করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই। রাসবিহারীতে দেবাশিস কুমার এবং কলকাতা বন্দরে ফিরহাদ হাকিম প্রায় নিশ্চিত বলেই জানা যাচ্ছে। টালিগঞ্জে অরূপ বিশ্বাসের প্রার্থী হওয়া একপ্রকার নিশ্চিত।

তবে বালিগঞ্জে বদলের জল্পনা তুঙ্গে। বর্তমান বিধায়ক ও মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়ের আসন বদল হতে পারে। তাঁর পরিবর্তে বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে আনা হতে পারে বলে সূত্রের দাবি। বেহালা পশ্চিম, যা একসময় পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ছিল, সেখানেও নতুন মুখ আসতে পারে। উত্তর কলকাতাতেও সীমিত কিছু পরিবর্তন ছাড়া বড় রদবদল সম্ভাবনা কম।

CPIM BJP Setting : ‘বাবা যদি সন্তানকে গলা টিপে মারেন..যাঁদের অঙ্গুলিহেলনে ৩৫ শতাংশ ভোট বিজেপি-তে চলে গেল, তাঁরা দল চালাবে?’ সেলিমের সঙ্গে বিজেপির সেটিং নিয়ে বিস্ফোরক প্রতীক উর

উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা: স্থিতিশীলতা, তবে বারাসতে ব্যতিক্রম

 

উত্তর ২৪ পরগনার ৩৩টি আসনে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। তবে বারাসতে তিনবারের তারকা বিধায়ক চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী নিজে আর লড়তে আগ্রহী নন বলে জানা গেছে। ফলে সেখানে নতুন মুখ আনা হচ্ছে। সুজিত বসু, মদন মিত্র, নির্মল ঘোষরা নিজেদের কেন্দ্রে প্রায় নিশ্চিত।

 

দক্ষিণ ২৪ পরগনায় যাদবপুর, সোনারপুর উত্তর, বারুইপুর—এই আসনগুলিতে পরীক্ষিত মুখরাই ফের লড়বেন।

 

প্রার্থী বদলের সম্ভাবনা প্রবল গোসাবায়। সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার প্রেক্ষিতে চিন্তাভাবনার স্তরে রয়েছে সোনারপুর দক্ষিণের প্রার্থী বদলের বিষয়টি। Gosaba & Sonarpur Dakshin – এই দুই বিধানসভা কেন্দ্রেই একাধিক যোগ্যতর প্রার্থীর বিবেচনায় রয়েছে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের।

 

কসবায় জাভেদ খানের প্রার্থীপদ প্রায় নিশ্চিত। তবে ভাঙড়—যেখানে শাসকদল গতবার হার মেনেছিল—সেখানে অভিজ্ঞ ও শক্তিশালী প্রার্থী নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে। কয়েকজন যুব নেতাকেও সুযোগ দেওয়া হতে পারে।

 

পূর্ব মেদিনীপুর: নন্দীগ্রামে কৌশলী চাল

পূর্ব মেদিনীপুর বিশেষত নন্দীগ্রাম এবারও হাইভোল্টেজ কেন্দ্র। বিরোধী দলনেতা Suvendu Adhikari-র বিরুদ্ধে কাকে নামানো হবে, তা নিয়ে জোর জল্পনা। শোনা যাচ্ছে, এবার কোনও ‘ভূমিপুত্র’-কে প্রার্থী করা হতে পারে, যাতে স্থানীয় আবেগকে গুরুত্ব দেওয়া যায়।

চণ্ডীপুরের বিধায়ক সোহম চক্রবর্তীর আসন বদল হতে পারে। পটাশপুরের উত্তম বারিককে অন্যত্র সরানো হতে পারে। রামনগরে অখিল গিরি এগিয়ে। হলদিয়ায় দলবদল করে আসা তাপসী মণ্ডলের নামও আলোচনায়।

 

হাওড়া-হুগলি: সীমিত বদল, তরুণ মুখের সম্ভাবনা

হাওড়া ও হুগলিতে বেশিরভাগ বর্তমান প্রার্থীরাই টিকিট পেতে পারেন। তবে হাওড়ায় কিছু আসনে তরুণ মুখ আনার ভাবনা রয়েছে। শিবপুরে মনোজ তিওয়ারির প্রার্থীপদ নির্ভর করছে শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের উপর। গৌতম চৌধুরী ও অরূপ রায়দের প্রার্থীপদ প্রায় নিশ্চিত।

হুগলিতে এক নামী গায়িকার প্রার্থী হওয়ার জল্পনা থাকলেও দলীয় সূত্রে তা নস্যাৎ করা হয়েছে।

 

দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চল ও মুর্শিদাবাদ: বাছাই করা পরিবর্তন

মুর্শিদাবাদে কয়েকটি আসনে প্রার্থী বদল হতে পারে। তবে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না। বীরভূম, বাঁকুড়া ও পশ্চিম বর্ধমানে কিছু বদল হলেও বড় চমক আপাতত নেই।

 

উত্তরবঙ্গ: বহুস্তরীয় অঙ্কে প্রার্থী বাছাই

উত্তরবঙ্গ বরাবরই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। রাজবংশী ভোটব্যাঙ্ক, চা বাগান অঞ্চল এবং পাহাড়ের রাজনীতি—সব মিলিয়ে জটিল সমীকরণ। ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলে কোচবিহারের ৯টি বিধানসভা আসনের মধ্যে পাঁচটিতে জয়ী হয়েছিল তৃণমূল। ফলে এই জেলায় আত্মবিশ্বাসী শাসক শিবির।

কার্শিয়াংয়ের বিদ্রোহী বিজেপি বিধায়ক বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা সম্প্রতি তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। তাঁকে প্রার্থী করা হবে কি না, তা নিয়ে জল্পনা রয়েছে। কংগ্রেস থেকে আসা মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির প্রাক্তন বিধায়ক শংকর মালাকারের নামও আলোচনায়।

বিরোধী শিবিরে অনিশ্চয়তা

 

শাসকদল যখন প্রার্থী তালিকা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে এসেছে, তখন বিরোধীরা এখনও কৌশল নির্ধারণেই ব্যস্ত। বিজেপি ২৯৪ আসনে একা লড়াইয়ের বার্তা দিলেও সাংগঠনিক দুর্বলতা স্পষ্ট। সিপিএম-আইএসএফ জোটে আসন বণ্টন নিয়ে দর কষাকষি চলছে। কংগ্রেসও প্রার্থী বাছাইয়ে চাপে।

ফলে প্রশ্ন উঠছে—যেখানে তৃণমূল প্রার্থী নিয়ে প্রায় মাঠে নেমে পড়েছে, সেখানে বিরোধীরা কি সময়মতো প্রস্তুত হতে পারবে?

 

পুরনো বনাম নতুন—কী বার্তা যাবে ভোটারদের কাছে?

এবারের নির্বাচনে কয়েকটি বিষয় বিশেষ নজরে—

কতজন পুরনো মুখ বাদ পড়ছেন

কতজন নতুন প্রার্থী জায়গা পাচ্ছেন

তারকা বা পরিচিত ব্যক্তিত্বদের ভূমিকা কী

রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে আমার মূল্যায়ন—তৃণমূল এবার আগেভাগেই ‘মনস্তাত্ত্বিক লিড’ নিতে চাইছে। ভোট ঘোষণার আগেই প্রার্থী চূড়ান্ত করে তারা সংগঠনকে বুথস্তরে সক্রিয় করতে চাইছে। অন্যদিকে বিরোধীদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ—সংগঠন মজবুত করা, আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করা এবং বিশ্বাসযোগ্য মুখ তুলে ধরা।

চূড়ান্ত লড়াই শুরু হতে এখনও বাকি। তবে প্রাথমিক চালেই শাসক শিবির যে আক্রমণাত্মক অবস্থানে, তা বলাই যায়। এখন দেখার—এই প্রস্তুতি কতটা ভোটবাক্সে প্রতিফলিত হয়। বাংলার রাজনৈতিক ময়দানে আবারও শুরু হতে চলেছে হাইভোল্টেজ অধ্যায়।

আজকের খবর