তৃণমূল কংগ্রেস ফের কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খুলল। অভিযোগ, বাংলাকে পরিকল্পিতভাবে বাদ দেওয়া হচ্ছে একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্প থেকে। এবার সেই অভিযোগ স্পষ্ট হয়ে উঠল রাজ্যসভায় তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ ব্রায়েনের প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের দেওয়া তথ্যে।
🔍 MGNREGA-তে ভয়ঙ্কর তথ্যপ্রকাশ
ডেরেক ও’ব্রায়েন জানতে চেয়েছিলেন, ১০০ দিনের কাজ (MGNREGA)-এর আওতায় কত পরিবার নথিভুক্ত এবং বাস্তবে কত পরিবার কাজ পাচ্ছে। তার জবাবে কেন্দ্র জানায়:
📈 ২০২৩-২৪ অর্থবছরে MGNREGA-তে নথিভুক্ত পরিবার ছিল ১৪.৮১ কোটি
📈 ২০২৪-২৫-এ তা বেড়ে হয়েছে ১৫.৯৯ কোটি
কিন্তু এখানেই গোলমাল। কারণ:
📉 গড় কর্মদিবস কমে গেছে ৫২.০৮ দিন থেকে ৫০.২৩ দিন
📉 মোট কাজ পাওয়া শ্রমিকের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৮.৩৪ কোটি থেকে ৭.৮৮ কোটি
এই পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে দিচ্ছে, নথিভুক্ত পরিবার বাড়লেও বাস্তবে কাজ পাচ্ছে কম পরিবার। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কাদের জন্য এই প্রকল্প?
🚫 বাংলাকে কার্যত মুছে দেওয়া!
ডেরেক ও’ব্রায়েন আরও প্রশ্ন করেন, পশ্চিমবঙ্গের বকেয়া মজুরি ও নির্মাণ সামগ্রীর টাকা কী পরিমাণে রয়েছে। এর জবাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের দেওয়া তালিকায় বাংলার নামই নেই!
📌 এর মানে, বাংলা সরকারি নথিতে নেই, যেন অস্তিত্বই নেই। এটা কি শুধুই অবহেলা? নাকি সচেতনভাবে বাংলাকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা?
তৃণমূলের তীব্র প্রতিক্রিয়া
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কড়া বার্তা এসেছে:
> “তোমরা আমাদের টাকা আটকে রাখো। আমাদের রাজ্যের মানুষকে গ্রেফতার করো, তাড়িয়ে দাও। এবার কি ইতিহাস থেকেও বাংলাকে মুছে দিতে চাইছ? দিল্লি চালাও, কিন্তু ভারত তোমাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। বাংলা তো নয়ই!”
তৃণমূলের মতে, শুধু রাজনৈতিক কারণে বাংলাকে আর্থিক ও প্রশাসনিকভাবে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। অথচ বাংলার কোটি কোটি মানুষ MGNREGA-র উপর নির্ভরশীল।
কেন্দ্র বনাম রাজ্য: রাজনৈতিক চক্রান্ত?
এই ঘটনা কেন্দ্র ও রাজ্যের সংঘাতকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যে তৃণমূলের জনপ্রিয়তাকে ভাঙতে চাইছে বিজেপি। তারই অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় প্রকল্পে আর্থিক বঞ্চনার পথ নেওয়া হয়েছে।