সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
বাংলায় আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগেই রাজ্য সভায় ভোটের বাদ্যি বেজে গেল। গোটা দেশের দশ রাজ্যের ৩৭ রাজ্যসভা আসনে ভোটগ্রহণের জন্য নির্বাচনী প্রক্রিয়ার কথা ঘোষণা করলো জাতীয় নির্বাচন কমিশন। এই ৩৭ রাজ্যসভা আসনের মধ্যে বাংলা থেকে রয়েছে পাঁচ রাজ্যসভা আসন। যার মতে এই মুহূর্তে তৃণমূলের তিন সাংসদ এবং কংগ্রেসের সমর্থনে সিপিএমের একজন সাংসদ রয়েছেন। অন্য একটি আসন সম্পূর্ণ ফাঁকা রয়েছে তৃণমূলের টিকিটের রাজ্য সভায় যাওয়া মৌসম বেনজির নূর কংগ্রেসের যোগদানের পরে সেই আসনে পদত্যাগ করার পর থেকে। এছাড়া তৃণমূলের তরফে রাজ্যসভার বর্তমান সাংসদ সাকেত গোখলে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সুব্রত বক্সির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ২ এপ্রিল।
বর্তমান বিধায়ক সংখ্যার হিসেবে পাঁচটি আসনের মধ্যে চারটি আসনে তৃণমূলের জয় প্রায় নিশ্চিত হয়ে রয়েছে। বাকি একটি আসন বিজেপির ঝুলিতে যেতে পারে বলে আশা। তবে পঞ্চম আসনেও তৃণমূল যদি প্রার্থী দেয় তাহলে ভোটাভুটি হওয়ার সম্ভাবনা থাকছে।
এর মধ্যে দুটি ক্ষেত্রে বারবার বদল হয়েছে সাংসদের মুখ। ২০১৯ সালে লোকসভা ভোটে পরাজিত হয় তৃণমূলের দীনেশ ত্রিবেদী, মৌসম বেনজির নুর ও অর্পিতা ঘোষ। তিন জনকেই রাজ্যসভায় পাঠায় তৃণমূল। ২০২১ সালে বিধানসভা ভোটের আগে সংসদে অন রেকর্ড তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করেন দীনেশ ত্রিবেদী। ছাড়েন সাংসদ পদ ও দলের সদস্যপদ। তার ছেড়ে যাওয়া আসনে পাঠানো হয় অবসরপ্রাপ্ত আমলা জহর সরকারকে। আরজি কর আন্দোলনের সময় সাংসদ পদ ও দল ছেড়ে দেন জহর সরকার। ফাঁকা হয়ে যাওয়া আসনে পাঠানো হয় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে। অন্যদিকে গোয়া বিধানসভা ভোটের আগে সংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেন অর্পিতা ঘোষ। সেই জায়গায় পাঠানো হয়, গোয়ার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লুইজিনহো ফালেরিওকে। বেশিদিন তিনি স্থায়ী হননি। সদস্যপদ ও দল ছাড়েন লুইজিনহো। সেই ফাঁকা আসনে পাঠানো হয় আরটিআই অ্যাক্টিভিস্ট সাকেত গোখেলকে। রাজ্যসভায় এবার বাংলা থেকে তৃণমূল কাদের পাঠাবে, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে বিজেপির প্রার্থী কে হবেন, তা নিয়েও চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে রাজনৈতিক মহলে।
কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে নির্বাচনী প্রক্রিয়া। ওই দিনই জারি হবে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ৫ মার্চ। ৬ মার্চ মনোনয়নপত্রের যাচাই হবে। প্রার্থীরা চাইলে ৯ মার্চ পর্যন্ত মনোনয়ন প্রত্যাহারের সুযোগ পাবেন। ১৬ মার্চ সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। একই দিন বিকেল ৫টা থেকে গণনা শুরু হবে। ২০ মার্চের মধ্যেই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে কমিশন। তালিকা অনুযায়ী, মহারাষ্ট্রে ৭টি আসন শূন্য হবে। তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গে ৬টি করে আসনে ভোট হবে। পশ্চিমবঙ্গের একটি আসন ৫ জানুয়ারি, ২০২৬ থেকে শূন্য হিসেবে গণ্য হয়েছে। ওড়িশা ও অসমে ৩টি করে, বিহারে ৪টি এবং ছত্তীসগঢ়ে ২টি আসনে নির্বাচন হবে। হরিয়ানা ও হিমাচল প্রদেশে ১টি করে এবং তেলেঙ্গানায় ২টি আসন রয়েছে।