সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
‘ওঁর ইচ্ছা হয়েছে আবেদন করেছে।’ স্ত্রী রিঙ্কু মজুমদার ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির টিকিট প্রার্থী হতে চেয়ে বিজেপির সল্টলেকের দপ্তরে বায়োডাটা জমা দেওয়ার বিষয়ে এমনটাই জানালেন রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষ। সেই সঙ্গে দিলীপ ঘোষের স্ত্রী হিসেবে না দেখে রিঙ্কুকে একজন দলীয় কার্যকর্তা হিসেবে দেখা উচিত বলে মনে করেন দিলীপ। সেই সঙ্গে দিলীপের মতামত বিষয়টিতে কোন বিতর্ক না হওয়া উচিত।
জানা গিয়েছে, গত ৩১ জানুয়ারি নিজের জীবনপঞ্জি জমা করেছেন দিলীপ পত্নী রিঙ্কু। ওই দিন সন্ধ্যায় বিজেপির সল্টলেকের দপ্তরে গিয়ে একজনের হাতে এই জীবনপঞ্জি তুলে দিয়েছেন তিনি। ওই জীবনপঞ্জিতে রিঙ্কু তিন আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন বলে খবর। মেদিনীপুর শহর, বীজপুর ও নিউটাউনে লড়তে চেয়েছেন তিনি। জমা দেওয়া জীবনপঞ্জির ছত্রে ছত্রে বিজেপিতে তাঁর কাজের কথা লিখেছেন সাপুরজির প্রাক্তন বাসিন্দা। ওই জীবনপঞ্জির প্রথমেই তিনি লিখেছেন, তৃণমূল স্তরের ও সামাজিকভাবেও একজন সক্রিয় নেত্রী তিনি। এর সঙ্গেই উঠে এসেছে দলের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর কাজের কথা। তিনি বর্তমানে কী কী করেন বা করেছেন, সেই বিষয়টিও ওই জীবনপঞ্জিতে তুলে ধরেছেন দিলীপ ঘোষের স্ত্রী। রিঙ্কু মজুমদারের দাবি, ‘আমি মিসেস ঘোষ হয়েছি মাত্র কয়েক মাস হল! কিন্তু ২০১৩ সাল থেকে নিউটাউনে থাকি। দলের কাজ করেছি। বিয়ে, ছেলের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু আমার পরিকল্পনাতেই ছিল মানুষের জন্য কাজ করব! সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেছি। আর সিভি তো অনেকেই জমা করছেন। আমার তো একটা রাজনৈতিক সত্ত্বাও আছে, আমি চাই লড়াই করতে, জিততে চাইব অবশ্যই।’
রোজকার নিয়ম মেনে বৃহস্পতিবারও সকালে নিউ টাউনের ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়েছিলেন বঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। সেখানে তাকে জিজ্ঞাসা করা হয় তার স্ত্রীর বিধায়ক হওয়ার জন্য বিজেপির টিকিটে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে লড়াইয়ের ইচ্ছা প্রকাশ করে বিজেপি অফিসে যে বায়োডাটা জমা দিয়েছেন সেই বিষয়ে। স্ত্রী রিঙ্কুর প্রার্থী হওয়ায় বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বরাবরের ঠোঁট কাটা বলে পরিচিত দিলীপ ঘোষের সোজাসাপ্টা জবাব, ‘দলে আমার থেকেও পুরনো। অনেক দিনের কার্যকর্তা। আমি এমএলএ, এমপি হয়ে গেলাম। ওঁর ইচ্ছা হয়েছে আবেদন করেছে। হাজার হাজার লোক আবেদন করেছে। কে প্রার্থী হবেন দল ঠিক করবে।’
পাশাপাশি এদিন এসআইআর শুনানি, স্ক্রুটিনি নিয়েও বিস্ফোরক মন্তব্য করেন দিলীপ ঘোষ।চূড়ান্ত তালিকায় দেড় লক্ষের বেশি নাম ভুল করে তোলা হয়নি! এই দাবির প্রেক্ষিতে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘ভুল করে নয়, ইচ্ছা করে তোলা হয়নি। দেড় কোটি লোককে ডেকে হ্যারাসমেন্ট করা হয়েছে। যার মধ্যে ফিফটি পার্সেন্ট লোককে ডাকার কোনও দরকার-ই ছিল না। বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি, ভালো মানুষ, যারা আগেও বহুবার ভোট দিয়েছেন, তাদেরকে ডেকে দু’ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হল। তারপর বলা হল চলে যান। একটা ফটো তুলে রেখে দেওয়া হল। বহু লোক আমাকে এই কমপ্লেইন করেছে। শুধু বসিয়ে রাখা, হ্যারাসমেন্ট করা যাতে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে যান। আর তারপর যাতে তাঁরা কমিশন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে স্টেটমেন্ট দেন।’

শাসক তৃণমূলকে বিঁধে দিলীপ ঘোষের আরও কটাক্ষ, ‘এটা তো এখন এটা ওপেন সিক্রেট! ইলেকশন অবধি যা খুশি করো। আমাদের জিতিয়ে দাও। আমি জানি না। এরকম বহু অভিযোগ আমার কাছে আসছে । একটা পরিবার নদিয়ার, সম্পন্ন লোক। কিন্তু যেহেতু তারা বিজেপি করে পাঁচ ভাইয়ের নাম আসছে না তালিকায়। বিডিও বলেছেন দয়া করুন, আমার পক্ষে সম্ভব নয় নাম তোলা। কারণ, নেতারা বলেছে নাম তোলা যাবে না।’