রাহুল সিংহ মজুমদার। কলকাতা সারাদিন।
টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসের (Tata Consultancy Service) বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ। কর্মীদের যৌন হেনস্থা থেকে শুরু করে ধর্ষণ, এমনকী ধর্মান্তকরণের অভিযোগ উঠেছে।
ইতিমধ্যেই সাত অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর মধ্যেই বড় পদক্ষেপ। বন্ধ হয়ে গেল টিসিএসের (TCS) ওই অফিস। জানা গিয়েছে, বিতর্কিত ঘটনাটি সামনে আসতেই মহারাষ্ট্রের নাসিকে টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেসের বিপিও বন্ধ করে দেওয়া হল।
দেশের সবথেকে বড় তথ্য প্রযুক্তি সংস্থা। সেই সংস্থার অন্দরেই কি না এমন সব ভয়ঙ্কর কাজ! ধর্মান্তকরণের চেষ্টা, যৌন হেনস্থার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেসের নাসিক ব্রাঞ্চে। পুলিশি তদন্তে উঠে এল কীভাবে বেছে বেছে টার্গেট করা হত টিসিএসের কর্মীদের।
ট্রেনিং টিম থেকে শুরু করে এইচআর ম্যানেজার- কমপক্ষে ৭-৮ জন জড়িত ছিল এই গোটা চক্রে। তারা মহিলাদের যৌন হেনস্থা, ধর্মান্তকরণ করত। ইতিমধ্যেই ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পলাতক এইচআর ম্যানেজার।
তদন্তে উঠে এসেছে যে টিসিএসে নতুন যারা জয়েন করত, তাদের ব্যক্তিগত তথ্য জেনে, তাদের মধ্যে থেকে নিজেদের ‘টার্গেট’ বেছে নিত। মূলত যে সকল মহিলা কর্মীদের বেতন ১৮ থেকে ২৫ হাজার টাকার মধ্যে, তাদেরই নিশানা করা হত যৌনাচার ও ধর্মান্তকরণের জন্য।
আপাতত কর্মীদের বাড়ি থেকেই কাজ করতে বলা হয়েছে। পরবর্তী নোটিস না আসা পর্যন্ত ওয়ার্ক ফ্রম হোম-ই চলবে। সম্প্রতিই টিসিএসের নাসিক সেন্টারের বিরাট পর্দাফাঁস হয়। জানা যায়, সংস্থার অন্দরে কর্মীদের যৌন হেনস্থা, মানসিক অত্যাচার, শারীরিক নিগ্রহ ও ধর্মান্তকরণ করার চেষ্টা চলত। অভিযোগ সামনে আসতেই পুলিশ ছদ্মবেশে অফিসে কাজ করা শুরু করে এবং গোটা ঘটনা প্রত্যক্ষ করে।
প্রমাণের ভিত্তিতে আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এখনও পলাতক মহিলা এইচআর ম্যানেজার। কমপক্ষে টিসিএসের নয়জন কর্মী জানিয়েছেন যে বিগত বেশ কয়েক বছর ধরেই এই ধরনের নিগ্রহ চলছিল। কর্মীদের বাধ্য করা হত নির্দিষ্ট ধর্মাচারণ করতে।
পুলিশ মোট নয়টি এফআইআর দায়ের করেছে। স্টেট ইনটেলিজেন্স ডিপার্টমেন্ট, অ্যান্টি-টেররিজম স্কোয়াড ও ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন-কেও তদন্তে যোগ করা হয়েছে। জাতীয় মহিলা কমিশনও নিজস্ব তদন্ত কমিটি তৈরি করেছে।
নতুন যারা চাকরিতে যোগ দিচ্ছে, তাদের আর্থিক অবস্থা যাচাই করা হত। যাদের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়, পারিবারিক সমস্যা আছে, টাকার প্রয়োজন, মূলত তাদেরই টার্গেট করা হত। জানা গিয়েছে, নতুন কর্মীদের ট্রেনিংয়ের সময় একটি নির্দিষ্ট ধর্ম ও তার দেব-দেবীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করা হত। যখন এই ‘টার্গেট’-রা এমন কথাবার্তা শুনে আপসেট হত, তখন আসতেন এইচআর ম্যানেজার। ওই মহিলা কর্মীও এই ধর্মান্তকরণ গ্যাংয়ের সদস্য। তিনি পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে কর্মীদের বিশ্বাস অর্জন করতেন এবং তারপর তাদের প্রভাবিত করতেন পোশাক ও জীবনযাত্রা বদল করার জন্য। এরপরই তাদের ধর্মান্তকরণ করার জন্য জোর করা হত।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে নাসিক সিটি পুলিশে একটি রাজনৈতিক দলের কর্মী অভিযোগ জানান। তিনি জানান যে টিসিএসের নাসিক অফিসে বিপিও ইউনিটে সন্দেহজনক কাজ হচ্ছে। বিধর্মী কাজ করছেন অনেকে। এই তথ্য পেয়েই পুলিশ গোপনে অভিযান শুরু করে। মহিলা পুলিশ কর্মীরা হাউসকিপিং স্টাফ হিসাবে টিসিএসের অফিসে যোগ দেন। সেভাবে নজরদারি চালানোর পরই আসল সত্য সামনে আসে।