শৌনক মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
“সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত শিক্ষকরা কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন। কাজ চালিয়ে যাওয়ার সেই কথাই আপনাদের বলছি। আপনাদের স্কুলে যোগদান করতে অনুরোধ করছি। বেতনের কথা মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, আজ আমি আবার বলছি বেতন নিশ্চিত করা দায়িত্ব নিচ্ছি।” সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বাংলার চাকরিহারা শিক্ষক শিক্ষিকাদের উদ্দেশ্যে এই কথা জানিয়ে রাজ্য সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করলেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু।
ব্রাত্য বসু বলেন, “চাকরিহারাদের স্বার্থে রাজ্য় সরকারের বিদ্যালয় শিক্ষা দফতর নিরন্তর কাজ করে চলেছে। আজও মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, কারা চাকরি খেয়েছেন তা আপনারা জানেন। আমরা বলেছি, এই কেসটায় আমরা না হয় হেরেছি কিন্তু জিতল কারা? এই প্রশ্নের উত্তর আপনারা দিতে পারলে ভালো হয়। সুপ্রিম কোর্টে বিষয়টি এখনও বিচারাধীন রয়েছে। তার মধ্যেই আমরা কাজ করে চলেছি। আমরা এটাও জানিয়েছি যে দ্রুত আমরা রিভিউ পিটিশনে যাচ্ছি। অর্থাৎ আইনি প্রক্রিয়া এখনও চালু রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে ইতিমধ্যেই বলেছেন উপযুক্ত শিক্ষকরা এবছর ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন। রিভিউ পিটিশনও যে করছি সেটাও আমরা জানিয়েছি। তাই এমন কিছু করা উচিত নয় যেটা আমাদের রিভিউ পিটিশনকে দুর্বল করে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ যেন লঙ্ঘিত না হয় তা আপনাদের মাথায় রাখতে অনুরোধ করছি।”
এরপরেই হিংসাত্মক আন্দোলনের ফলে আইনি প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে ব্রাত্য বসু বলেন, “সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত শিক্ষকরা কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন। কাজ চালিয়ে যাওয়ার সেই কথাই আপনাদের বলছি। আপনাদের স্কুলে যোগদান করতে অনুরোধ করছি। বেতনের কথা মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, আজ আমি আবার বলছি বেতন নিশ্চিত করা দায়িত্ব নিচ্ছি। কালও ডিভিশন বেঞ্চে এসএসসি মামলা রয়েছে। আপনাদের জন্যই এসএসসি লড়াই করছে। মধ্যশিক্ষা পর্ষদও ঘেরাও করে রাখা হয়েছে। আমরা আগেই বলেছিলাম যা কাজ আমরা করব তা আইনি পরামর্শ নিয়েই করব। সেইভাবেই আমরা এগোচ্ছি। আমাদের কাজ আমাদের করতে দিন। আপনারা গিয়ে আপনাদের কাজ করুন। এইটা আপনাদের কাছে আমাদের বিনীত অনুরোধ।”
বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন, “বৈঠক ওঁরা চেয়েছিলেন। শুরুতেই কথা হয়েছিল আইনি পরামর্শ ছাড়া আমরা এগোব না। ওরা বেশকিছু দাবি করেছিলেন তার মধ্যে কিছু মানা যাবে, কিছু করা যাবে না। সুপ্রিম কোর্ট তা করতে বলেননি আমাদের। কোনও তালিকা প্রকাশ করতে বলেননি আমাদের। আইনজীবীদের কথাও এটা। তাই আমরা তালিকা প্রকাশ করতে পারিনি। যে তালিকার কথা বলা হচ্ছে তা এসএসসি শিক্ষা দফতরকে দিতে পারে। সেই অনুযায়ী কাজ করতে পারে শিক্ষা দফতর। যে ১৭২০৬ জনের কথা উঠেছে তাদের কাউকে কি টারমিনেশন লেটার দেওয়া হয়েছে? উত্তর হল ‘না’। এদের কারও কাজ কাজ করার সমস্যা হচ্ছে না। কারও বেতন বন্ধ করা হয়নি। তাহলে আন্দোলনের স্বার্থে এমন কিছু করবেন না যাতে রিভিউ পিটিশন দুর্বল করে দেয়। কারা স্কুলে যেতে পারবেন তা বোঝাতে সুপ্রিম কোর্ট একটা ভাষা ব্যবহার করেছেন । সেটি হল ‘নট টেনটেইড’। সেই অনুযায়ী আমরা এগোচ্ছি। মুখ্যমন্ত্রী সর্বতোভাবে শিক্ষকদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।”

অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের পর ক্ষোভ প্রকাশ করে চাকরিহারাদের একাংশের দাবি, “সুপ্রিম কোর্ট বলেছে আমাদের চাকরি চলে গিয়েছে কারণ পরিকল্পিত প্রতারণা হয়েছে। কারা করেছে এই প্রতারণা? চাকরি যারা করছে তাঁরা নিশ্চয়ই করেনি। যারা করেছে তাঁদের শাস্তি না হয়ে আমাদের হয়েছে। কষ্ট করে চাকরি পেয়েছি, স্কুলে পড়িয়ে কাজের বিনিময়ে টাকা পেয়েছি। বেতনটা যেমন সব আবার বেতনটাই এক্ষেত্রে সব নয়। কাউন্সেলিংয়ে দুর্নীতি হয়েছে বলেই কিন্তু এখন এই কথা আসছে। এভাবে দুর্নীতি ঢাকা যায় না। মাইনে নয় আমরা মেরুদণ্ডের জন্য বসে আছি। আমরা সম্মানের জন্য বসে আছি।”