শৌভিক তালুকদার। কলকাতা সারাদিন।
‘তৃণমূল এসআইআর-এর বিরোধী নয়। আমরা এটাকে সঠিক ভাবে করাতে চাই। শতাব্দী যখন মৃতের তালিকাটা জ্ঞানেশ কুমারকে দিলেন, তখন তিনি অবাক। আমরা পাঁচটা প্রশ্ন করেছিলাম। জ্ঞানেশ কুমার নানান উত্তর দিয়েছেন। শুধু এই পাঁচটা বাদে।’ এভাবেই আজ দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠকের পর তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল তৃণমূলের সাংসদ প্রতিনিধি দল। কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র এবং মমতাবালা ঠাকুর প্রায় ৪০ মিনিট বক্তব্য রাখেন এদিনের বৈঠকে। তারপর মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার প্রায় ১ ঘণ্টা কথা বলেন। তৃণমূলের তরফে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এরপর জানানো হয়, ‘আমরা আমাদের ৫টি প্রশ্নের যদিও কোনও জবাব পাইনি।’ শতাব্দীদের আরও প্রশ্ন, ‘এসআইআর-এর ফলে এ পর্যন্ত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেই মৃত্যুর দায় কি কমিশন নেবে? তাঁদের পরিবারের জন্য কী ব্যবস্থা নিচ্ছে কমিশন? এতদিন এসআইআর নিয়ে তৃণমূল যা যা অভিযোগ করেছে, সেটার ভিত্তিতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?’
গত সোমবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, এবার দিল্লির বুকে এসআইআর বিরোধী আন্দোলনে নামবে তৃণমূল। সেজন্য ১০ সাংসদকে নিয়ে একটি টিম গড়ে দেন অভিষেক। শুক্রবার সকালে নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে গিয়ে কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে দেখা করেন ডেরেক ও ব্রায়েন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়, দোলা সেন, মহুয়া মৈত্র, প্রকাশ চিক বরাইক, সাজদা আহমেদ, মমতাবালা ঠাকুর, প্রতিমা মণ্ডল, সাকেত গোখলে। প্রায় দু’ঘণ্টা বৈঠক চলে।
বৈঠক শেষে তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের দাবি, তাঁদের কোনও প্রশ্নেরই উপযুক্ত জবাব দিতে পারেনি কমিশন। এই বৈঠক শুরুর আগেই জ্ঞানেশ কুমারের হাতে একটি তালিকা তুলে দেন তৃণমূল সাংসদরা।এটা মৃতের তালিকা। ডেরেকের কথায়, ‘এসআইআর-এর জেরে এখনও পর্যন্ত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেই মৃতদের তালিকাই আমরা কমিশনারের হাতে তুলে দিয়েছি। ওদের হাতে রক্ত লেগে রয়েছে।’ এদিন কমিশনের বৈঠকে মোট পাঁচটি প্রশ্ন তুলে ধরে তৃণমূলে প্রতিনিধি দল। সেগুলি হল – ১) ভুয়ো ভোটার এবং অনুপ্রবেশকারীদের বাদ দিতেই কি শুধু এসআইআর শুরু হয়েছে? তা হলে ত্রিপুরা বাদ কেন? ২) যাদের কমিশন ভুয়ো বলছে, তাঁদের ভোটে তো আমরা নির্বাচিত হয়েছি, মোদী সরকারও নির্বাচিত হয়েছে, তা হলে কী কেন্দ্র-রাজ্য সরকার অবৈধ? ৩) বিএলও-দের মৃত্যুর দায় কি কমিশন নেবে? কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে? ৪) বাংলাতে বিজেপি নেতারা যখন বলছেন, ১ কোটি ভোটার বাদ যাবে, মানুষকে ভয় দেখাচ্ছেন, কেন ওদের থামানো হচ্ছে না? ৫) বিহারে নির্বাচনের আগে মহিলাদের ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হল। কিন্তু এখানে বাংলা সহায়তা কেন্দ্রের কর্মীদের দিয়ে ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের কাজ পর্যন্ত রাজি নয় কমিশন, কেন?
ডেরেক ও ব্রায়েনের দাবি, নির্বাচন কমিশনের তরফে তাঁদের কোনও প্রশ্নেরই জবাব মেলেনি। তৃণমূলের প্রতিনিধিদের দাবি, প্রায় ৪০ মিনিট ধরে নানারকম ‘গল্প’ শুনিয়েছে কমিশন। কিন্তু সরাসরি যে পাঁচটা প্রশ্ন করা হয়েছিল, সেগুলির কোনও উত্তর মেলেনি।