কলকাতা সারাদিন প্রতিবেদন।
পূর্ব কলকাতার আনন্দপুর সংলগ্ন নাজিরা বাদে অগ্নিকাণ্ডের পরেও ঘুম ভাঙ্গেনি একদল অসাধু প্রোমোটারদের। বহাল তবিয়তে সরু গলিতে, যেখানে ফায়ার ব্রিগেডের গাড়ি প্রবেশ করতে পারবে না সেরকম জায়গায় তৈরি করা হচ্ছে প্রকাণ্ড আবাসন। যেখানে থাকতে পারবে কয়েকশো পরিবার।
এবারে জায়গাটি রাজারহাট পঞ্চায়েত সমিতির অন্তর্ভুক্ত পাথরঘাটা পঞ্চায়েতের চকপাচুড়িয়াতে। জানা গিয়েছে হাইভ কন্সট্রাকশন হাউসিং প্রজেক্ট নামক একটি প্রকাণ্ড আবাসন প্রকল্প গড়ে তুলছে মা ল্যান্ড ডেভেলপারস প্রাইভেট লিমিটেড এন্ড সরোজ কুমার গিরি।
গত বছরে পাঁচতলা ওই একাধিক আবাসন গড়ে তোলার জন্য ছাড়পত্র দিয়েছিল রাজারহাট পঞ্চায়েত সমিতি। জেলা পরিষদের কাছে ওই ডেভেলপার তাদের বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন করানোর পরে পঞ্চায়েত সমিতির পক্ষ থেকে এই ছাড়পত্র দেওয়া হয়। যেখানে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করছেন একটি খাল পাড়ে এই প্রকাণ্ড প্রজেক্টটি গড়ে তোলা হচ্ছে। সেই প্রজেক্ট এলাকায় প্রবেশ পথ বলতে খাল পাড়ের উপর তৈরি একটি ছ ফুটের স্ল্যাব। প্রজেক্ট এর সামনের রাস্তা ১০ থেকে ১৫ ফুটের সমান। অথচ এই আবাসনে আগামী দিনে যদি কোন বড় অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটে তাহলে স্বভাবতই সেখানে অগ্নি নির্বাপনের গাড়ি প্রবেশের রাস্তা থাকছে না। কারণ রাজাহাটের এই প্রজেক্ট সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে নিউ টাউন ডিএলএফ ২ এর অফিসে বড় আইটি কোম্পানি গুলির অফিস।
তার পাশে একটি সরু ১০ ফুটের রাস্তা হল এটির অন্যতম প্রবেশ পথ। এছাড়া চকপাচুরিয়ায় খালপাড়ের ওই ছ’ফুটের স্ল্যাব আবাসনে প্রবেশের মূল প্রবেশ পথ। বিল্ডিং আইন অনুযায়ী জি প্লাস ফোর অর্থাৎ পাঁচ তলা বিল্ডিং গড়ে তুলতে গেলে কুড়ি ফুটের অধিক রাস্তা থাকতে হবে। শুধু তাই নয় কুড়ি ফুটের অধিক রাস্তা মূল বড় রাস্তার সঙ্গে সমপরিমাণ জায়গা নিয়ে যুক্ত থাকতে হবে।

অথচ এই আবাসন তৈরি কারি সংস্থা প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে দিনে দুপুরে কার্যত নিজেদের দাপটে এলাকায় তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি এই নিয়ে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের কাছে একটি অভিযোগ পত্র জমা পড়ে। যদিও এখনো সেই অভিযোগের উপর ভিত্তি করে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি প্রশাসন।
এই বিষয়ে রাজারহাট পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি প্রবীর কর জানিয়েছেন, বিষয়টি আমরা খোঁজ নিয়ে দেখব। এইরকম অবৈধ কাজ হলে অবশ্যই তার প্রতিবাদ করা হবে, প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।

প্রশ্ন হল আবাসন তৈরি হলে সেখানে যে বাসিন্দারা এসে থাকবেন তাদের সুরক্ষার বিষয়টি আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডের পরেও ভেবে দেখার সুযোগ পেলেন না মা ল্যান্ড ডেভেলপারস প্রাইভেট লিমিটেড এন্ড সরোজ কুমার গিরি নামক নির্মাণকারী ওই সংস্থা। এলাকার বাসিন্দারা সেই কারণেই প্রশ্ন তুলছেন কিভাবে এত বড় অবৈধ কাজ কেবলমাত্র অতিরিক্ত অর্থ লাভের আশায় রাতারাতি তৈরি হচ্ছে।

যদিও গোটা বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন বর্তমানে। বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের অগ্নি নির্বাপন সংস্থার কাছেও সাধারণ মানুষ দারস্ত হতে চলেছেন। কারণ ওই এলাকাটি এমনিতেই নিম্নবর্গীয়। ফলে আশেপাশের বাড়ি ঘর কার্যত সম্পূর্ণ পাকা নয়। সেই কারনে এখানে কোন বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে এলাকার বাসিন্দারাই সবার প্রথম বিপদের সম্মুখীন হবেন।