প্রিয়াঙ্কা মান্না। কলকাতা সারাদিন।
বয়স বাড়লে শরীরে কিছু পরিবর্তন আসবেই—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া বা মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়াকে মোটেই “ভাগ্যের ব্যাপার” বলে ছেড়ে দেওয়ার দরকার নেই। স্নায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, মস্তিষ্ক এমন এক অঙ্গ যা সঠিক যত্ন পেলে সারা জীবন নিজেকে নতুন করে গড়ে তুলতে পারে। প্রতিদিনের কিছু ছোট কিন্তু সচেতন অভ্যাসই মস্তিষ্ককে রাখে চনমনে, স্থিতিশীল এবং স্মৃতিশক্তিতে ভরপুর।
১. নিয়মিত নড়াচড়া করুন, শরীর চালান
সক্রিয় জীবনযাপন মস্তিষ্কের জন্য একেবারে প্রাকৃতিক টনিকের মতো কাজ করে। শরীর নড়াচড়া করলে মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ বাড়ে, ফলে অক্সিজেন ও পুষ্টি সহজে পৌঁছয়। প্রতিদিন হাঁটা, হালকা দৌড়, যোগব্যায়াম বা স্ট্রেচিং নতুন স্নায়ু সংযোগ তৈরি করতে সাহায্য করে। সারাদিন বসে থাকলে মন ভারী ও ধীর হয়ে যায়, কিন্তু দিনে অন্তত কিছুটা সময় শরীর চালালে মানসিক সতেজতা বজায় থাকে।
২. ঘুমকে অবহেলা করবেন না
ঘুম মানেই শুধু বিশ্রাম নয়, এটি মস্তিষ্কের নিজস্ব “মেরামতের সময়”। ঘুমের মধ্যেই অপ্রয়োজনীয় তথ্য ঝেড়ে ফেলা হয়, স্মৃতি গুছিয়ে নেওয়া হয় এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণের কাজ চলে। নিয়মিত কম ঘুম হলে মনোযোগ কমে যায়, সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয় এবং অল্পতেই বিরক্তি আসে। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো এবং রাতে স্ক্রিন কম দেখা মস্তিষ্ককে অনেকটাই সুস্থ রাখে।
৩. নতুন কিছু শিখুন, নিজেকে চ্যালেঞ্জ দিন
অনেকে ভাবেন বয়স বাড়লে শেখার ক্ষমতা কমে যায়, কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলেন—এটা পুরোপুরি ভুল ধারণা। নতুন ভাষা শেখা, অচেনা বিষয় পড়া, কিংবা দৈনন্দিন কাজ একটু অন্যভাবে করা—এই সবই মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে। কোনও বিষয় বুঝতে কষ্ট হওয়া মানেই দুর্বলতা নয়, বরং নতুন স্নায়ুপথ তৈরি হওয়ার লক্ষণ।
৪. খাবারে রাখুন ভারসাম্য
মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে খাদ্যাভ্যাসের ভূমিকা বিশাল। শাকসবজি, ফলমূল, বাদাম, বীজ, মাছ এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত জল পান করলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ঠিক থাকে। অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার ও চিনি চিন্তাভাবনাকে ধীর করে দিতে পারে। কঠোর ডায়েট নয়, বরং শরীর কী চাইছে সেটার দিকে খেয়াল রাখাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের।
৫. মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন
দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ মস্তিষ্ককে দ্রুত ক্লান্ত করে তোলে। অযথা দুশ্চিন্তা, অতিরিক্ত খবর দেখা বা সব সময় মানসিকভাবে উত্তেজিত থাকা স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি করে। গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস, একা হাঁটা, বা প্রতিদিন কিছুটা নিরিবিলি সময় কাটানো মস্তিষ্ককে শান্ত হতে সাহায্য করে। শান্ত মনই সুস্থ মস্তিষ্কের ভিত।
৬. সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখুন
মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ মস্তিষ্কের জন্য এক ধরনের প্রাকৃতিক সুরক্ষা। গল্প করা, মন দিয়ে শোনা, হাসি-আড্ডা—সবই স্মৃতি, ভাষা ও আবেগকে সক্রিয় রাখে। বড় বন্ধু মহল দরকার নেই; কয়েকজন কাছের মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগই যথেষ্ট। একাকীত্ব মস্তিষ্ককে দুর্বল করে, আর সম্পর্ক তাকে শক্ত রাখে।
এই ছয়টি অভ্যাস একসঙ্গে মস্তিষ্ককে শুধু সুস্থই রাখে না, যে কোনও বয়সে শেখার ক্ষমতা ও মানসিক স্থিতিশীলতাও বাড়ায়। নিয়মিত Brain Health Habits মেনে চললে স্মৃতিশক্তি যেমন বাড়ে, তেমনই জীবনও হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত।