সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
একুশের বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে তৃণমূল ছেড়ে যোগ দিয়েছিলেন বিজেপিতে। এবারে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রাক্তন ফুটবলার দীপেন্দু বিশ্বাস আবার ফিরে এলেন তৃণমূলে। বিজেপিতে মন না টেকায় আবার তৃণমূলে যোগ দিলেন কিংবদন্তি ফুটবলার ও প্রাক্তন বিধায়ক দীপেন্দু বিশ্বাস। বসিরহাট তৃণমূলের জেলা পার্টি অফিসে এই যোগদান কর্মসূচি হয় রবিবার। দীপেন্দু বিশ্বাসের সঙ্গেই তৃণমূলে যোগ দিলেন বসিরহাটের প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান পার্থ সারথী বোস ও কংগ্রেস নেতা কাদের সরদার।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে বসিরহাট দক্ষিণ বিধানসভার উপ নির্বাচনে বিজেপির শমীক ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে তৃণমূলের হয়ে ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দীপেন্দু। সেই সময় শমীক ভট্টাচার্যের কাছে পরাজিত হন তিনি। পরবর্তী সময়ে ২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনে ফের শমীক ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে তৃণমূলের হয়ে ভোটে লড়াই করেন দীপেন্দু বিশ্বাস ও জয়ী হন। ২০১৬ থেকে ২০২১ পর্যন্ত তিনি বসিরহাট দক্ষিণ বিধানসভার বিধায়ক ছিলেন দীপেন্দু বিশ্বাস।
তবে ২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূল তাঁকে প্রার্থী না করায় ক্ষুব্ধ হয়ে বিজেপিতে যোগ দেন। সেখানেও টিকিট না পেয়ে এবং প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় কয়েক মাসের মধ্যেই দল ছাড়েন। রাজ্য বিজেপির তৎকালীন সভাপতি দিলীপ ঘোষ-এর কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান তিনি। অবশেষে বসিরহাট দক্ষিণের প্রাক্তন বিধায়ক ও জাতীয় দলের প্রাক্তন ফুটবলার দীপেন্দু বিশ্বাস ফের তৃণমূলে ফিরে এলেন। বিধানসভা ভোটের আগে এই যোগদান রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে এবং বসিরহাটে শাসক শিবিরের শক্তি আরও বাড়ল বলে মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন দীপেন্দু বিশ্বাস। এবার আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন করলেন। তৃণমূল ছাড়ার সিদ্ধান্ত যে ভুল ছিল, তা কার্যত স্বীকার করেছেন দীপেন্দু। তিনি বলেন, ‘অনেক লড়াই করে ফুটবলার দীপেন্দু হয়েছি, তাই লড়াই আমার সবসময় সঙ্গী।’ কেন ফের তৃণমূলে ফেরা— সে প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, ‘মুখ্যমন্ত্রী বসিরহাটে যেভাবে উন্নয়ন করছেন, তার সাথী হতেই তৃণমূলে ফেরা।’ আগামী বিধানসভা নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হবেন কি না, তা নিয়ে জল্পনা থাকলেও তাঁর বক্তব্য, ‘দল যে দায়িত্ব দেবে, তা পালন করব।’