সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
শেষ হয়েও হল না শেষ! সিপিএম নেতা প্রতীক উর রহমানের দল ছাড়া ও তৃনমূলে যোগ দেওয়ার জল্পনা নিয়ে চাপানউতোরের মাঝেই শনিবার অভিষেকের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দেন তিনি। তৃণমূলে যোগ দেওয়ার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে বহিষ্কারের কথা ঘোষণা করে সিপিএম রাজ্য কমিটি। প্রতীক উরকে নিয়ে অস্বস্তিতে পড়ার পর এবার তাঁকে শাস্তি দিতে গিয়েও বিপাকে পড়ল আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। কারণ প্রতীক উর রহমানকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত জানিয়ে যে লিখিত বিবৃতি দেওয়া হয়েছে, তাতে বহিষ্কার বানানই ভুল লেখা হয়েছে। বহিষ্কারের বদলে সেখানে লেখা রয়েছে বহিস্কার।
সিপিএমের জারি করা ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ‘গুরুতর দল বিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত থাকা এবং শত্রু শিবিরে যোগ দেওয়ার অপরাধে পার্টি গঠনতন্ত্রের ১৯ নম্বর ধারার ১৩ উপধারা অনুযায়ী প্রতীক উর রহমানকে তৎক্ষণাৎ বহিস্কার করা হয়েছে।’ সিপিএমের বিবৃতিতে এই বানান বিভ্রাট নিয়ে খোঁচা দিতে ছাড়েনি শাসক দল তৃণমূল। বানান ভুল নিয়ে সিপিএম নেতৃত্বকে খোঁচা দিয়েছেন সিপিএমের আর এক বহিষ্কৃত নেতা বর্তমানে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
বানান বিভ্রাট নিয়ে খোঁচা দিয়ে দলের সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বিজেপি বিরোধী লড়াইকে জোরদার করতে আমাদের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে প্রতীক উর রহমান তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। তাঁর এই যোগদানের পর সিপিএমের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি একটি প্রেস বিবৃতি দিয়ে তাঁকে বহিষ্কার করেছে। সিপিএম নিজেদের মেধা চর্চার সর্বোচ্চ কেন্দ্র মনে করে। মহম্মদ সেলিমের জমানায় সিপিএমের মেধা চর্চার এত রমরমা প্রকৃতপক্ষে সিপিএমে নিম্ন মেধার চাষ হচ্ছে। নিম্ন মেধার তথাকথিত হোলটাইমারদের তুলে ধরার চেষ্টা চলছে। প্রতীক উর রহমানকে বহিষ্কার করার বিবৃতিতে সেটা আবারও প্রমাণিত হল। আমার বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল যে সিপিএম প্রতীকূর রহমানকে বহিষ্কার করতে যে বিবৃতি দিয়েছে, তাতে বহিষ্কার বানানটাই ভুল। হাজার হাজার তেজি মেধা সম্পন্ন ঘোড়াকে নিয়ে নাকি আলিমুদ্দিন স্ট্রিট কাজ করছে, তারা নাকি বহিষ্কার বানানটাই ঠিক করে লিখতে পারছে না। চারদিকে এত মেধা রয়েছে, প্রেস বিবৃতিটা দেওয়ার আগে একবার কাউকে দেখিয়ে নিলে হত না? দয়া করে ওই প্রেস বিবৃতিটা সেলিম সাহেবরা পাল্টে নেবেন, এটাই আশা রাখি।’

আর এই ভুল ধরেই সিপিআই(এম)-কে তীব্র কটাক্ষ করেছে তৃণমূল। ফেসবুকে তৃণমূলের পোস্টে লেখা হয়েছে, ‘দশকের পর দশক ধরে সিপিআই(এম) তাদের তথাকথিত ‘আদর্শ’ আর ‘নীতি-নৈতিকতার’ আড়ালে নিজেদের সেরা বলে দাবি করে এসেছে। কিন্তু আজ সেই মুখোশ পুরোপুরি খসে পড়েছে।তাদের সেই ঢাকঢোল পেটানো ‘আদর্শ’ আজ কোথায়? এখন শুধু টিকে থাকার জন্য সুবিধামতো জোট করা। যাদের একসময় চরম শত্রু বলত, আজ তাদের সঙ্গেই গলাগলি। মুখে যাদের নিন্দা করে, কাজে তাদেরই সুবিধা করে দিচ্ছে। স্টুডিওতে বসে বড় বড় সাম্যের কথা বলে, আর সাধারণ মানুষ সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেলে তাদের নিয়ে ঠাট্টা-তামাশা করে। এই সব স্বঘোষিত বুদ্ধিজীবীরা, যারা একসময় নীতি-আদর্শ নিয়ে জ্ঞান দিত, তারা আজ ঠিকমতো বাংলা বানানটুকুও লিখতে পারে না। আজ তাদের এই ভণ্ডামি আর দেউলিয়াপনা দেখে বোঝা যায়, অহংকার আর আসার আস্ফালনের কারণেই তাদের শূন্যে নামতে হয়েছে!’