সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
বদলে যাচ্ছে কেরলের নাম। মঙ্গলবার নতুন নাম ‘কেরলম’-এ সিলমোহর দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। কেরলের নামবদলের জন্য দু’বার (২০২৩ এবং ২০২৪ সালে) প্রস্তাব পাশ করানো হয়েছে কেরল বিধানসভায়। ওই প্রস্তাবে কেরলের বাম সরকার কেন্দ্রকে রাজ্যের নতুন নাম কেরলম করার প্রস্তাব দেয়। প্রধানমন্ত্রীর দফতরের ঠিকানা সাউথ ব্লক থেকে সেবাতীর্থ কমপ্লেক্সে যাওয়ার পর মঙ্গলবারই প্রথম কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠক বসেছিল সেখানে। আর সেই বৈঠকেই কেরলের নতুন নামকরণের প্রস্তাবে অনুমোদন দিল ভারত সরকার।
কেরলের মতো পশ্চিমবঙ্গের নাম বদলের প্রস্তাবে কেন্দ্রীয় সরকার কোনও সিদ্ধান্ত নিয়েছে কি না অথবা আগামী দিনে কোনও পদক্ষেপ করা হবে কি না, এ দিন সেই প্রশ্ন করা হয়েছিল অশ্বিনী বৈষ্ণবকে। তবে একাধিকবার প্রশ্ন করা সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গের নাম বদলের বিষয়টি এড়িয়ে যান কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী। অশ্বিনী বৈষ্ণব শুধু বলেন, আজকে মন্ত্রিসভার বৈঠকে যা সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেটুকুই জানাতে এসেছি।
তবে বাংলার সঙ্গেই 2026 সালেই বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে কেরালার। এইভাবে হঠাৎ করে বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে কেরালার সিপিএম সরকারের দাবি মেনে রাজ্যের নাম বদল করার পিছনে সিপিএম এবং বিজেপির গোপন আঁতাত রয়েছে বলেই মনে করছে তৃণমূল। আর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্তের পরেই কেন্দ্রের মোদি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কারণ ২০১৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের নামবদলের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। রাজ্যের তৃণমূল সরকারের প্রস্তাব ছিল পশ্চিমবঙ্গ নাম বদলে ‘বাংলা’ করা হোক। সেই প্রস্তাব এখনও কেন্দ্রের অনুমোদন পায়নি।
কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের কথা জানার পরেই মমতা বলেন, ‘কেরলের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব মেনে নিয়েছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। তাতে কেরলের ভাইবোনেদের অভিনন্দন জানাচ্ছি আমি। সকলকে অভিনন্দন। কিন্তু একটা কথা ভেবে অবাক হচ্ছি, সব জায়গার নাম বদল হয় রাজ্য সরকাররে অনুমোদন নিয়ে। আমাদের দীর্ঘ দিন ধরে ওয়াই-জ়েডে পড়ে থাকতে হয় কেন? আমাদের রাজ্যের ছেলে-মেয়েরা যখন পরীক্ষা দিতে যায়, তখন তাদের পিছনের বেঞ্চে বসতে হয়। আমি মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে কোথাও গেলে আমাকে সবার শেষে সুযোগ দেওয়া হয় এই নামের বর্ণানুক্রমে। বাংলার সংস্কৃতি, সভ্যতা, মননশক্তি, চিন্তা, দর্শন— সব ভেবে রাজ্যটার নাম বাংলা করতে চেয়েছিলাম। বিধানসভায় দু’ থেকে তিন বার পাশ করেছি। আপনারা দেননি। এক বার যখন প্রস্তাব দিলাম, ওরা বলল, আপনারা নামটাকে বাংলা, হিন্দি, ইংরেজি তিনটি ভাষায় এক শব্দ এক করে দিন। তখন আমরা আবার বিধানসভায় পাশ করালাম। হিন্দি, ইংরেজি, বাংলা— তিন ভাষাতেই বাংলা করা হয়।’
মুখ্যমন্ত্রী জানান, তার পরেও সেই নাম পরিবর্তনে অনুমোদন দেয়নি কেন্দ্র। তিনি জানান, তার পরে যত বার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর দেখা হয়েছে বা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে, যখন এখানে বৈঠক করতে এসেছেন, তখন সেই বিষয়টি তিনি জানিয়েছেন। কিন্তু তার পরেও লাভ হয়নি। তাঁর কথায়, ‘কেন জানি না! ওরা বাংলা-বিরোধী বলেই আমার মনে হয়। ওরা বাংলার মনীষীদের অসম্মান করে। বাংলা কথাটা নির্বাচনের সময় ভোটের জন্য বলে। কিন্তু ওরা বাংলা বিরোধী। সেই জন্য বাংলা নামটা করল না।’

তবে এর পাশাপাশি আগামী দিনে যে বাংলার পরিবর্তিত নামের অনুমতি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে ছিনিয়ে আনবেন সেই হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘ওরা পেয়ে গেল কারণ, কেরলে বিজেপি-র সঙ্গে সিপিএম-এর একটা জোট গড়ে উঠছে। অলিখিত নয়, এখ লিখিত হয়ে গেল, আজকের ঘটনা প্রমাণ। বাংলা কেন বঞ্চিত হবে বার বার। একদিন তো আপনারা চলে যাবেন! বাংলা নামটা আদায় করে আনব আমরা।’