সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
কিছুদিন আগেই কাঁথি সমবায় ব্যাঙ্কে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করে ভোট হয়েছে। সেই দৃষ্টান্তকে সামনে রেখে কাঁথি কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন ব্যাঙ্কের পরিচালন সমিতির ভোটেও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের আর্জি জানিয়ে মামলা হয় কলকাতা হাইকোর্টে। তবে সেই আবেদনে সাড়া দিল না উচ্চ আদালত। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, এর আগে সুপ্রিম কোর্ট যে কারণে কাঁথির অন্য একটি সমবায় ব্যাঙ্কের ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়েছিল, এখানে সেই যুক্তি কার্যকর হবে না। আবেদনকারীকে সিঙ্গল বেঞ্চে আবেদন করার পরামর্শ দেয় প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ।
শনিবার কাঁথির ওই কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন ব্যাঙ্কের পরিচালন সমিতির ভোট। সূত্রের খবর, ৭৮টি আসনের মধ্যে ১২টিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন তৃণমূল সমর্থিত প্রার্থীরা। কিন্তু ভোটের আগে কেন্দ্রীয় বাহিনী চেয়ে আদালতে যান কাঁথিরই এক বাসিন্দা। গত মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম ও বিচারপতি চৈতালি চট্টোপাধ্যায় দাসের ডিভিশন বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন পেশায় আইনজীবী ওই মামলাকারী। আবেদনকারীর বক্তব্য, আগামী শনিবার (২৯ মার্চ) ওই কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের নির্বাচন রয়েছে। সেখানে শাসকদলের সমর্থিত প্রার্থীরা অশান্তি করতে পারে। আদালতে সেই আশঙ্কা জানিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েনের আবেদন জানান স্বপন বেরা।
এই কন্টাই কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কে বিস্তর অভিযোগ আছে। শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল কংগ্রেসে থাকাকালীন এই ব্যাঙ্কের কর্তা ছিলেন। তখন অনেক টাকা নয়ছয় হয়েছে বলে তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ। আর এবার সেখানেই নির্বাচন হবে। সুতরাং কন্টাই সমবায় ব্যাঙ্ক সামনে থাকলেও মূল লড়াই তৃণমূল কংগ্রেস বনাম বিজেপির মধ্যে। তাই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের আবেদন করা হয়। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের ডিভিশন বেঞ্চ আজ এই বিষয়ে জানিয়েছেন, এই মামলা জনস্বার্থ যোগ্য নয়। তাই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়নের আবেদন মঞ্জুর করা যাবে না। তবে কেন্দ্রীয় বাহিনী বা নিরাপত্তা চাইলে একক বেঞ্চে আবেদন জানাতে পারেন মামলাকারী বলেও জানিয়ে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।
এই কেন্দ্রীয বাহিনী মোতায়েনের ক্ষেত্রে যিনি আবেদন করেছেন, তিনি ওই সমবায় ব্যাঙ্কের সদস্য এবং বিজেপির ঘনিষ্ঠ বলে সূত্রের খবর। তাই তাঁর আশঙ্কা, এই নির্বাচনে ব্যাপক গোলমাল হতে পারে। তাই কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রয়োজন। মামলাকারী ব্যক্তির নিশানায় মূলত আছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরাই। তাই যদি অশান্তি হয় তখন তা রুখতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রয়োজন। আর কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করে ভোট করানো উচিত বলেই যুক্তি ছিল মামলাকারীর। আগামী শনিবার এই সমবায় ব্যাঙ্কের ভোট আছে। তার আগে আজ কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট করে দিল যে, কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা যাবে না।

কাঁথির এই সমবায় ব্যাঙ্কের ভোটকে সামনে রেখে গোলমাল হবে ধরে নেওয়া হচ্ছে। যদিও এই বিষয়কে গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল কংগ্রেস। শাসকদলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, যাঁরা হারবে তাঁরাই চিন্তিত। তৃণমূল কংগ্রেস জিতবে। তাই এসবের দরকার নেই। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে এক সমবায় ব্যাঙ্কের নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। এমনকী ভোট কেন্দ্রে সিসিটিভি বসানোর নির্দেশ পর্যন্ত দেওয়া হয়েছিল। পাঁচটি ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে রাখা হয়েছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী। সব ভোট কেন্দ্রের ২০০ মিটার এলাকা জুড়ে ছিল ১৪৪ ধারা। তার সঙ্গে ছিল কমপক্ষে ৩০০ সিসিটিভি।