সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচনী লড়াই ক্রমশই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। সেই আবহেই এক নাটকীয় মোড় নিয়ে শনিবার মনোনয়ন জমা দিলেন নির্দল প্রার্থী রাজন্যা হালদার। শুক্রবার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত জটিলতার কারণে মনোনয়ন জমা দিতে না পারলেও, একদিনের মধ্যেই সেই সমস্যার সমাধান করে বারুইপুর মহকুমা শাসকের দফতরে পৌঁছে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের প্রার্থিতা নিশ্চিত করেন তিনি।
রাজন্যার এই প্রত্যাবর্তন শুধু প্রশাসনিক জট কাটানোর ঘটনা নয়, রাজনৈতিক মহলেও নতুন করে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। কারণ, সোনারপুর দক্ষিণে এবার লড়াইটা কেবল তৃণমূল বনাম বিজেপির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না—বরং নির্দল প্রার্থী হিসেবে রাজন্যার উপস্থিতি সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলছে।
উল্লেখ্য, এই কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন বর্তমান বিধায়িকা লাভলি মৈত্র। অন্যদিকে, বিজেপির হয়ে লড়ছেন অভিনেত্রী তথা নেত্রী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। এই দুই পরিচিত মুখের মাঝখানে রাজন্যার লড়াই অনেকটাই ‘আউটসাইডার’ হিসেবে হলেও, তাঁর রাজনৈতিক যাত্রাপথ কিন্তু যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
একসময় তৃণমূলের সঙ্গেই যুক্ত ছিলেন রাজন্যা। পরে দল ছাড়ার পর তাঁর বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জল্পনাও জোরালো হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। সেখান থেকেই নিজের রাজনৈতিক পথ নিজেই তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ঘোষণা করেন, নির্দল প্রার্থী হিসেবেই লড়বেন এবং মাটির মানুষের কথা বলবেন।
শুক্রবার মনোনয়ন জমা দিতে গিয়ে ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত অসঙ্গতির কারণে তাঁকে ফিরে আসতে হয়েছিল। সেই মুহূর্তে অনেকেই ভেবেছিলেন, হয়তো তাঁর লড়াই শুরু হওয়ার আগেই থেমে যাবে। কিন্তু শনিবারের পদক্ষেপে স্পষ্ট—তিনি লড়াই ছাড়ার মানুষ নন।
মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে গিয়ে রাজন্যা বলেন, “আমরা কোনও তারকা নই যে হাতে সানস্ক্রিন বা স্যানিটাইজার নিয়ে মানুষের সঙ্গে হাত মেলাব। আমরা মাটির মানুষ, মানুষের সমস্যার সমাধান করতেই রাজনীতিতে এসেছি।”
এই বক্তব্যেই তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট—জনসংযোগ নয়, জনস্বার্থের রাজনীতি করতে চান তিনি। পাশাপাশি, উন্নয়ন ইস্যুতেও সরব হয়েছেন রাজন্যা। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বরাদ্দ অর্থের হিসেব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষ এখনও সেই উন্নয়নের সুফল পাচ্ছেন না, যার কথা বারবার বলা হয়।
রাজন্যার এই সরাসরি আক্রমণ এবং ‘মাটির মানুষ’ ইমেজ তাঁকে কতটা ভোটের ময়দানে সুবিধা এনে দিতে পারে, সেটাই এখন দেখার। তবে একথা নিশ্চিত, সোনারপুর দক্ষিণে এবারের নির্বাচন আর একমুখী থাকছে না। বরং ত্রিমুখী লড়াইয়ে প্রতিটি ভোটের মূল্যই বাড়তে চলেছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজন্যার মতো প্রার্থী স্থানীয় স্তরে একটা আলাদা প্রভাব ফেলতে পারেন, বিশেষ করে যদি তিনি জনসংযোগে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেন। এখন নজর আগামী প্রচারে—সেখানে কতটা গতি আনতে পারেন তিনি, সেটাই নির্ধারণ করবে তাঁর জয়ের সম্ভাবনা।