সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
“মহামান্য হাইকোর্টের গাইডলাইন মেনে রামনবমীর মিছিল করাতে কোন আপত্তি নেই কলকাতা পুলিশের। সকলকেই কলকাতা পুলিশ স্বাগতম জানাচ্ছেন রামনবমী পালন করার জন্য। তবে সাধারণ মানুষের যাতে কোথাও অসুবিধা না হয় সে কথা মাথায় রাখতে হবে মিছিলের উদ্যোক্তাদের।” আগামীকাল অর্থাৎ রবিবার রামনবমী উপলক্ষে কলকাতা শহরে মিছিল বা শোভাযাত্রা বের করার উপরে কোন রকম নিষেধাজ্ঞা নেই বলে জানিয়ে দিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা।
রবিবার রান্নাবামী উপলক্ষে বাংলার বিভিন্ন জায়গায় অশান্তির আশঙ্কা আগেই প্রকাশ করা হয়েছে রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে। রাজ্যের ১০ জেলা ও পুলিশ কমিশনারেটকে সংবেদনশীল বলে ঘোষণা করা হয়েছে। আসানসোল, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা-সহ জেলা ও জেলার কমিশনারেটগুলিকে সতর্ক করা হয়েছে। ওই দশটি জেলা ও পুলিশ কমিশনারেটে ২৯ জন আইপিএসকে পাঠানো হচ্ছে। যাতে কোনও ধরনের গোলমালের শুরুতেই ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সেদিকে নজর রয়েছে পুলিশের।
অশান্তির আশঙ্কা থাকায় সর্বোচ্চ প্রশাসনিক স্তরে নজরদারি চালানোর জন্য এবার নবান্নও খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। রবিবার, ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও খোলা থাকছে রাজ্যের মূল প্রশাসনিক ভবন। জানা গিয়েছে, খোলা থাকছে পুলিশের কন্ট্রোল রুম। সেখানে বসে নিজে সবদিক নজরে রাখবেন এডিজি, আইনশৃঙ্খলা জাভেদ শামিম। থাকবেন পুলিশের অন্যান্য শীর্ষ কর্তারাও। রামনবমীতে রাজ্যজুড়ে প্রায় আড়াইশো মিছিল বেরনোর কথা। তার সবকটাই যাতে সুষ্ঠুভাবে শেষ হয়, সেটাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আর নবান্নে বসে নজরদারি চালাবেন পুলিশকর্তারা।
কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় শনিবার সকাল থেকে রামনবমীর মিছিলের প্রস্তুতি পর্ব ঘুরে দেখলেন পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা। কাশিপুর থেকে রবীন্দ্রসরণি, পার্ক সার্কাস, মেটিয়াবুরুজ, গার্ডেনরিচ সর্বত্র পুলিশি ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন পুলিশ কমিশনার। শনিবার বিকেলে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কলকাতা পুলিশ কমিশনার জানিয়ে দেন ৮০’র থেকে বেশি রামনবমীর মিছিল শহরে করার জন্য কলকাতা পুলিশের কাছে সংগঠকরা আবেদন জানিয়েছেন।
কলকাতা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রামনবমীতে কলকাতায় অনুমোদিত 43 মিছিল বের হবে। সেগুলির মধ্যে পাঁচটি বড় মিছিল। কোনও মিছিলের উদ্যোক্তা বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। আবার কোনও মিছিলের আয়োজক বিজেপি। রবিবার বিকেল চারটে অথবা সন্ধ্যা ছটা নাগাদ শুরু হবে। রবিবার সকালেও হবে মিছিল। সব মিলিয়ে ৪৩ পয়েন্ট থেকে বের হবে মিছিল। সকাল ৯টায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুর থেকে মিছিল বের হবে। যাবে রায় স্ট্রিট পর্যন্ত। এর পাশাপাশি ইএমন বাইপাস সংলগ্ন অভিষিক্তার সামনে গিয়ে বের হয়ে কসবাব অ্যাক্রপলিস মল পর্যন্ত যাবে। এই দুটো মিছিল শুরু হবে রবিবার সন্ধ্যা ৬টার সময়। বিকেলে রামনবমী মিছিল বের হবে উত্তর কলকাতা। বরানগর থেকে যাবে কাশিপুর পর্যন্ত। তেমনই আরিয়া দহ থেকে ডানলপ পর্যন্ত একটি মিছিল হবে।

এই মিছিলগুলি শুরু হবে এন্টালি, পিকনিক গার্ডেন, সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, হেস্টিংস, কাশীপুর থেকে। প্রত্যেকটি মিছিলেই থাকবে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ। পুলিশ কমিশনারের নির্দেশ, রামনবমীর মিছিলে থাকা পুলিশ আধিকারিক ও পুলিশকর্মীর শরীরে যেন ‘প্রোটেকটিভ গিয়ার’ থাকে। যদি কেউ ইট বা বোতল নিয়ে হামলা চালায়, সঙ্গে সঙ্গেই যেন পুলিশ এগিয়ে গিয়ে ব্যবস্থা নিতে পারে, সেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মিছিলগুলির উপর আকাশপথে নজর রাখবে ড্রোন। মিছিলের আগে ও পরে হাঁটবে পুলিশ। থাকবে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশের গাড়িও। আশপাশের রাস্তাগুলিতে থাকবে পুলিশের টহলদার গাড়ি।
পুলিশের নির্দেশ, বাইক নিয়ে মিছিল করা যাবে না। একমাত্র নির্দিষ্ট রুটেই মিছিল করা যাবে। যদি অন্য রুটে কেউ মিছিল করেন, তখন পুলিশ তা আটকাবে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে অস্ত্র নিয়ে যাতে মিছিল না হয় বা মিছিলে কারও হাতে অস্ত্র না থাকে, সেই ব্যাপারে নজর থাকবে পুলিশের। প্রত্যেকটি মিছিলের রুট, বিশেষ করে বড় মিছিলের রুটে থাকবে অতিরিক্ত সিসিটিভির ক্যামেরা। সিসিটিভির মনিটরে নজর রাখবে পুলিশ। এ ছাড়াও পুলিশকর্মী ও আধিকারিকদের পোশাকের সঙ্গে বডি ক্যামেরাও থাকবে। যদি কোনও সমস্যা হয়, ক্যামেরার ফুটেজ দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।