শৌনক মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
বিশ্বজুড়ে ক্যান্সার প্রতিরোধে নতুন আশার আলো। ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি এক অভিনব mRNA প্রযুক্তি-ভিত্তিক ক্যান্সার প্রতিরোধী ভ্যাকসিন আবিষ্কার করেছেন, যা ভবিষ্যতে মানব শরীরেও প্রয়োগযোগ্য হতে পারে বলে আশাবাদী গবেষকরা।
ক্যান্সার, যার নাম শুনলেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, সেই মারণ রোগের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ খুঁজে পেতে বছরের পর বছর গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীরা। সেই প্রচেষ্টারই এক নতুন সাফল্য হল এই mRNA ভ্যাকসিন।
গবেষণার পেছনের কথা
এই ভ্যাকসিনটি প্রথমে ইঁদুরের শরীরে পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করা হয়। পরীক্ষার ফলাফল অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক। দেখা গিয়েছে, টিউমার থাকা সত্ত্বেও ইমিউনোথেরাপি ওষুধের সঙ্গে মিলিয়ে এই mRNA ভ্যাকসিন শক্তিশালী অ্যান্টিটিউমার প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে সক্ষম। অর্থাৎ, এটি সরাসরি টিউমারকে টার্গেট না করলেও, শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতাকে এমনভাবে সক্রিয় করে তোলে যাতে শরীর নিজেই টিউমারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারে।
PD-L1 প্রোটিন এবং টিউমার প্রতিরোধ
গবেষণায় জানা গিয়েছে, এই ভ্যাকসিন PD-L1 নামক একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিনের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়, যা টিউমারকে প্রতিরোধ সিস্টেমের কাছে আরও দৃশ্যমান করে তোলে। এর ফলে ইমিউনো থেরাপি আরও কার্যকর হয়, এবং শরীর নিজেই ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করতে সক্ষম হয়।
মানব পরীক্ষার প্রাথমিক ধাপ
গবেষণাপত্রটি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে Nature Biomedical Engineering পত্রিকায়। এতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে চারজন ক্যান্সার রোগীর শরীরে এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়েছিল এবং প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া ছিল ইতিবাচক। যদিও এখনও ব্যাপক মানবিক পরীক্ষা বাকি, তবে এটি ক্যান্সার চিকিৎসার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
করোনা ভ্যাকসিনের সঙ্গে মিল
এই ভ্যাকসিনে ব্যবহৃত mRNA প্রযুক্তি অনেকটাই করোনা ভ্যাকসিনের মতো। তবে পার্থক্য হল— এটি কোনও ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করে না, বরং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে এমনভাবে সক্রিয় করে তোলে যাতে তা টিউমারের বিরুদ্ধে নিজেই লড়াই করে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি একটি “প্রুফ অফ কনসেপ্ট”, অর্থাৎ ভবিষ্যতে এটি বিশ্বজনীন ক্যান্সার ভ্যাকসিন হয়ে উঠতে পারে।
গবেষকের বক্তব্য
গবেষণার প্রধান ডক্টর এলিয়ান সায়োর (Dr. Elias Sayour) জানিয়েছেন,
> “আমরা এমন একটি প্রযুক্তি তৈরি করেছি যা নির্দিষ্ট কোনও ক্যান্সার নয়, বরং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে এমনভাবে ট্রেন করে যাতে তা টিউমার ধ্বংসে সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারে।”
তিনি আরও বলেন,
> “অস্ত্রোপচার, কেমোথেরাপি ও রেডিয়েশনের মতো প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতির বাইরে বেরিয়ে, এই নতুন ভ্যাকসিন আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।”

ভবিষ্যতের সম্ভাবনা
বিশ্বজুড়ে ক্যান্সার রোধে যেখানে কোটি কোটি টাকা খরচ হচ্ছে, সেখানে এই ভ্যাকসিন যদি কার্যকর প্রমাণিত হয়, তাহলে তা মানব সভ্যতার জন্য এক যুগান্তকারী অর্জন হবে। এটি শুধু চিকিৎসার খরচ কমাবে না, বরং **অনেক আগেই রোগ ধরা পড়লে সম্পূর্ণভাবে ক্যান্সার নির্মূলের সম্ভাবনা জাগাবে