স্বাধীনতা দিবসের আগে রাজধানী দিল্লি যেন পরিণত হয়েছে ধর্ষণ নগরীতে। দিল্লির অভিজাত নারেলা এলাকায় নয় বছরের দুই নাবালিকাকে গণধর্ষণের ঘটনার রেশ মিটতে না মিটতেই এবারে দিল্লির আরেক অভিজাত এলাকার শিবির লাইনসে ২৪ বছরের এক তরুণীকে গণধর্ষণ করল চারজন। সন্ধ্যে থেকে সারারাত ধরে পানীয়ের সঙ্গে ড্রাগস মিশিয়ে দফায় দফায় চারজন গণধর্ষণ চালানোর পাশাপাশি গোটা ধর্ষণ প্রক্রিয়ার ভিডিও রেকর্ড করে বলে অভিযোগ। তবে পরের দিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নিয়ন্ত্রণাধীন দিল্লি পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো সত্বেও এখনো অধরা ৪ ধর্ষক।
মুখে কুলুপ মোদি-র চূড়ান্ত ব্যর্থ শাহের পুলিশ
কয়েকদিন আগেই বাংলায় এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভীষণ চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন দেশে বাংলার মত একটা রাজ্য আছে ভেবেই! যেখানে নাকি ভারতের মধ্যে একমাত্র মহিলারা নির্যাতিত হন এবং ধর্ষিত হন! দুর্গাপুরের জনসভা থেকে নির্লজ্জ রাজনৈতিক আক্রমণ করে বাংলার কুৎসা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, তৃণমূলের মা মাটি মানুষের সরকারে বাংলার মেয়েদের সঙ্গে যে অন্যায় হচ্ছে যেখানে হৃদয় ভারাক্রান্ত হয় এবং প্রবল রাগ ও হয়। যা হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে তা খুব চিন্তার। পশ্চিমবঙ্গের হাসপাতাল সুরক্ষিত নয়। এই নির্মমতা থেকে বাংলাকে মুক্ত করতে হবে। তার জন্য পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার দরকার।
কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে দিল্লিতে ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার আসার পর থেকেই প্রত্যেক দিন বেড়ে গিয়েছে রাজধানী দিল্লিতে ধর্ষণের সংখ্যা। অথচ সম্পূর্ণ চূড়ান্ত ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে প্রায় প্রত্যেকটি ঘটনাতেই নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে অমিত শাহের নিয়ন্ত্রণাধীন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দিল্লী পুলিশ।
কি ঘটেছে
জানা গিয়েছে, দিল্লির উত্তরাঞ্চলের সিভিল লাইনস এলাকায় হাউস পার্টিতে আমন্ত্রণ জানিয়ে ২৪ বছরের এক তরুণীকে গণধর্ষণ করা হয়েছে। তিলক নগরের বাসিন্দা ওই তরুণী জানিয়েছেন, তাঁর সঙ্গে এক মহিলা এবং চারজন পুরুষ জড়িত ছিলেন এই অপরাধে। পুলিশ ইতিমধ্যেই মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করলেও কাউকে গ্রেফতার করেনি। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার রাতে এক বন্ধুর বাড়িতে পার্টিতে যোগ দিতে যান তরুণী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বোনও। বন্ধুর বাড়িতে পৌঁছে তিনি দেখেন, বন্ধু ছাড়াও আরও চারজন পুরুষ উপস্থিত। তরুণীর অভিযোগ, তাঁকে একটি পানীয় দেওয়া হয়, যেখানে মাদক জাতীয় কিছু মেশানো ছিল। কয়েক চুমুক খাওয়ার পরই তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। অভিযোগ অনুযায়ী, অজ্ঞান অবস্থায় ওই তরুণীকে বাথরুমে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একাধিক ব্যক্তি মিলে তাঁকে গণধর্ষণ করে এবং ঘটনাটির ভিডিও রেকর্ড করে। পরবর্তীতে অভিযুক্তরা তাঁকে হুমকি দেয়, এই ঘটনা কাউকে জানালে ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
সারারাত ধরে গণধর্ষণের পরে অভিযুক্তরা তাঁকে বাড়ির বাইরে ফেলে রেখে যায়। প্রায় ১৩-১৪ ঘণ্টা পরে, সোমবার সকালে তিনি সাহস সঞ্চয় করে সিভিল লাইনস থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ তাঁর বয়ান রেকর্ড করার পাশাপাশি মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করে। পরে বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু হয়। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে অভিযোগ দায়ের করার পরে প্রায় ৭২ ঘণ্টা অর্থাৎ তিন দিন কেটে গেলেও এখনো পর্যন্ত অভিযুক্তদের কাউকে গ্রেফতার করা তো দূরের কথা আটক পর্যন্ত করেনি দিল্লী পুলিশ।
নির্যাতিতার পরিবার এবং বন্ধুবান্ধবের অভিযোগ, যে চার যুবক তাকে ধর্ষণ করেছে এবং তার সঙ্গে যে বান্ধবী ছিলেন তারা প্রত্যেকেই সমাজের প্রভাবশালী পরিবারের সদস্য। এছাড়াও যে বাড়িতে হাউস পার্টি আয়োজন করা হয়েছিল তার বাবা ভারতীয় জনতা পার্টির দিল্লির অত্যন্ত প্রভাবশালী এক নেতা। তাই পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্যেও অভিযুক্তদের কাউকে থানায় পর্যন্ত ডেকে পাঠায়নি। যদিও দিল্লি পুলিশের সাফাই, অভিযুক্তদের খোঁজে অভিযান চলছে। ঘটনাস্থল এবং আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি পার্টিতে উপস্থিত প্রত্যেকের পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে তদন্তকারী দল। দিল্লী পুলিশের এক আধিকারিক দাবি করেন, অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। আমরা প্রমাণ সংগ্রহের কাজ দ্রুততার সঙ্গে চালাচ্ছি। অভিযুক্তদের শীঘ্রই গ্রেফতার করা হবে।