কনিষ্ক সামন্ত। কলকাতা সারাদিন।
স্বাধীনতা দিবসের প্রভাতফেরি ও শোভাযাত্রা বাংলার এক ঐতিহ্য। দেশপ্রেমের আবেগকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে প্রতিবছর নানা সাংস্কৃতিক ও প্রতিযোগিতামূলক কর্মসূচির আয়োজন হয়ে থাকে। তারই অংশ হিসেবে কাঁথি লিও ক্লাবের পরিচালনায় আয়োজিত সত্যেন মিশ্র মেমোরিয়াল ইন্ডিপেন্ডেন্স ডে র্যালী কম্পিটিশান ২০২৫ এবছর বিশেষভাবে নজর কাড়ে।
কাঁথি শহরের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের বহু বিদ্যালয়কে নিয়ে দুটি বিভাগে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন হয়। প্রয়াত সমাজসেবী সত্যেন মিশ্রের স্মৃতিকে সম্মান জানাতেই বহু বছর ধরে এই উদ্যোগ চালিয়ে আসছে লিও ক্লাব।
এবারের প্রতিযোগিতায় মাধ্যমিক বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ১৭৫ বছরেরও বেশি পুরনো ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কাঁথি হাইস্কুল। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই বিদ্যালয়ের জয় গোটা কাঁথি শহরের গর্ব। মাধ্যমিক বিভাগের দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে কাঁথি ক্ষেত্রমোহন বিদ্যাভবন এবং তৃতীয় হয়েছে কন্টাই মডেল ইনস্টিটিউশন।
অন্যদিকে, প্রাথমিক বিদ্যালয় বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে কাঁথি ব্রাম্ভ বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই বিভাগে দ্বিতীয় স্থান দখল করেছে নিউ কন্টাই নার্সারি স্কুল। যুগ্ম তৃতীয় হয়েছে কন্টাই মডেল ইনস্টিটিউশন প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কাঁথি হাইস্কুল প্রাথমিক বিভাগ।
প্রতিযোগিতার বিচারকের দায়িত্বে ছিলেন অরিত্র দে, সোম্যদীপ মান্না, শুভঙ্কর বারিক ও তুহিনকান্তি প্রধান। তাঁদের নিরপেক্ষ মূল্যায়নের মাধ্যমেই ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
কাঁথি লিও ক্লাবের সভাপতি অনিক গিরি জানিয়েছেন – সমাজসেবক সত্যেন মিশ্রের স্মৃতিকে চিরস্থায়ী করতে এবং নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেমের বার্তা পৌঁছে দিতেই প্রতিবছর এই প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়। শুধু প্রতিযোগিতা নয়, এটি শিশুদের মধ্যে ঐক্যবদ্ধতা, শৃঙ্খলা ও সাংস্কৃতিক চেতনা গড়ে তোলে।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় সন্ধ্যায় কাঁথি লায়ন্স ক্লাবের সভাকক্ষে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের সভাপতি তপন সাহু, প্রাক্তন সভাপতি অশোক নন্দ, সাংস্কৃতিক কমিটির চেয়ারম্যান ডা: অনুতোষ পট্টনায়ক প্রমুখ। তাঁদের হাত থেকে বিজয়ী বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা পুরস্কার ও ট্রফি গ্রহণ করেন।

এই প্রতিযোগিতা প্রমাণ করে যে শিক্ষার্থীরা শুধু পড়াশোনায় নয়, দেশপ্রেম ও সাংস্কৃতিক কার্যকলাপেও সমান উৎসাহী। স্বাধীনতা দিবসের মতো জাতীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে এমন উদ্যোগ আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে – এটাই আশা করছে কাঁথি লিও ক্লাব।