সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
সোমবার সুপ্রিম কোর্টে বাংলার এসআইআর মামলায় সন্তোষজনক রায়ের পরে মঙ্গলবার সকালে ফের বড়সড় স্বস্তি মমতার। সুপ্রিম কোর্টে পিছিয়ে গেল আইপ্যাক মামলার শুনানি। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্য পুলিশের ডিজি, কলকাতার পুলিশ কমিশনার এবং কলকাতা পুলিশের ডিসি সাউথের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের দায়ের করা মামলার শুনানি পিছিয়ে গেল বেশ খানিকটা। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আইনজীবী কপিল সিব্বল শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকার জন্যই আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পিছিয়ে গেল শুনানি।
চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি, ভোটের আলো ফুটতে-না-ফুটতেই তৃণমূলের ভোট-পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকে হানা দেয় ইডি। কয়লাপাচার সংক্রান্ত মামলার তদন্তে, প্রথমে লাউডন স্ট্রিটে সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে, পরে, সেক্টর ফাইভের গোদরেজ ওয়াটার সাইডে সংস্থার দফতরে তল্লাশি অভিযান চলে। এমতাবস্থায়, নজিরবিহীনভাবে তল্লাশি চলাকালীন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দুই জায়গাতেই পৌঁছে যান। এবং ইডি-র অভিযোগ, ফাইল থেকে শুরু করে মোবাইল ফোন পর্যন্ত ছিনিয়ে নেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে, হাইকোর্ট হয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় ইডি। আইপ্যাক-তল্লাশির সময়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়। সেই মামলায় রাজ্য পুলিসের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত ডিজি রাজীব কুমার থেকে শুরু করে কলকাতার সদ্য প্রাক্তন পুলিস কমিশনার মনোজ ভার্মার নাম উল্লেখ করা হয়। গত সপ্তাহের মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) এই মামলার শুনানির কথা ছিল আদালতে। কিন্তু ওই দিন শুনানি হয়নি। ইডির আবেদনের প্রেক্ষিতে শুনানি এক সপ্তাহ পিছিয়ে দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। গত ১৫ জানুয়ারির শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, ইডির বিরুদ্ধে মামলাকারী পক্ষকে হলফনামা দিতে হবে। গত ২ ফেব্রুয়ারি সেই হলফনামা জমা দেয় রাজ্য। তার পরেই গত সপ্তাহে ইডির তরফে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আবেদন করেন, রাজ্যের দেওয়া হলফনামা খতিয়ে দেখার জন্য সময় দেওয়া হোক। সেই আর্জির প্রেক্ষিতেই পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল গত সপ্তাহের শুনানি। সেই মতো মঙ্গলবার অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি ফের মামলাটি শুনানির জন্য ওঠার কথা ছিল। কিন্তু সরকার পক্ষের আইনজীবী সিব্বল অসুস্থতার কারণে ফের পিছিয়ে গেল শুনানি। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি ফের এই মামলা শুনানির জন্য উঠবে।
মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি পি কে মিশ্র ও বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চে যখন শুনানি শুরু হওয়ার উপক্রম, ঠিক তখনই একজন ‘জুনিয়র’ আইনজীবী এসে আবেদন জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী কপিল সিব্বল অসুস্থ, তাই শুনানির দিন পিছনো হোক। ওই আইনজীবী নিজেকে সিব্বলের ‘জুনিয়র’ বলে দাবি করেন। এমতাবস্থায়, কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা একবাক্যে শুনানি পিছনোর আবেদন মেনে নেন।