শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
বাংলায় ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে বড় ধাক্কা খেল তৃণমূল।নন্দীগ্রামের গাংড়া সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির নির্বাচনে বড় জয় পেল বিজেপি। সমবায়ের ৯টি আসনের সব কটিতেই জয়ী হয়েছেন গেরুয়া শিবিরের প্রার্থীরা। অন্যদিকে একটি আসনও দখল করতে পারেনি তৃণমূল বা বামেরা। জানা গেছে, মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৫৪৩ জন এবং ভোটদান করেছে ৪৩৮ জন।
আজ সকাল থেকেই এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নন্দীগ্রামের গাংড়া এলাকায় উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। এই সমবায়ের মোট ৯টি আসনেই প্রার্থী দিয়েছিল তৃণমূল এবং বিজেপি। সিপিএম লড়াই করেছিল মাত্র ২টি আসনে। টানটান লড়াইয়ের পর ভোট গণনা শুরু হলে দেখা যায়, সব কটি আসনেই বিজেপি প্রার্থীরা বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন।
নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হতেই জয়ের উল্লাসে মেতে ওঠেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। এলাকায় গেরুয়া আবির মেখে বিজয় মিছিল করেন তারা। নন্দীগ্রামের মতো রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সমবায় নির্বাচনে এই নিরঙ্কুশ জয় বিজেপির কাছে বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই জয় আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি কর্মীদের বাড়তি অক্সিজেন দেবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এদিকে ফল ঘোষণার পর বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা তৃণমূল নেতা বাপ্পাদিত্য গর্গকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখায় বলে অভিযোগ। যদিও বিজেপির তরফে এই দাবি উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গড়বে বলে জোরালো দাবি করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার নন্দীগ্রামের জনসভায় তিনি জানান, গত লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে বিজেপির প্রাপ্ত ভোট ছিল ৩৯ শতাংশ। সরকার গঠনের লক্ষ্যে হিন্দু ভোটারদের সমর্থন নিয়ে আরও অন্তত ৬ শতাংশ ভোট বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছেন তিনি। শুভেন্দুর মতে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে প্রকৃত ভারতীয় মুসলিমদের ভয়ের কোনো কারণ নেই, বরং তাঁরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন। এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি নিশানা করে শুভেন্দু চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। তিনি বলেন, ২০২৬ সালে মুখ্যমন্ত্রী আবারও নন্দীগ্রাম থেকে প্রার্থী হলে তাঁকে অন্তত ২০ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করা হবে। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই কেন্দ্রেই পরাজিত করেছিলেন শুভেন্দু। আসন্ন নির্বাচনে মুসলিম ভোটারদের একটি বড় অংশ তৃণমূলকে আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না বলেও দাবি করেন তিনি।
বর্তমানে রাজ্যে এসআইআরের শুনানিপর্ব চলছে। শুনানিপর্ব ঘিরে বিভিন্ন জায়গায় হয়রানির অভিযোগ সামনে আসছে। এমনকী শুনানি থেকে ফিরেই শনিবার জয়নগরের বাসিন্দা ৬৮ বছরের নাজিতুল মোল্লার মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। পরিবারের অভিযোগ, অসুস্থ শরীরে নাকে অক্সিজেনের নল লাগিয়ে এসআইআর শুনানিতে হাজিরা দেন নাজিতুল মোল্লা। একদিকে ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম না থাকা, অন্যদিকে শুনানিতে ধকল সহ্য করতে না পেরেই অসুস্থ হয়ে নাজিতুলের মৃত্যু হয় বলে দাবি পরিবারের। যা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। এই বিষয়ে বিরোধী দলনেতাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এই বিষয়ে কিছু টিপ্পনি করব না। তবে গোটা এসআইআর প্রক্রিয়ার মধ্যে কোনও কারণে কেউ মারা যাবেন না এমনটা তো হতে পারে না। জন্ম-মৃত্যু একটা সার্কেল। প্রতিদিনই ঘটে, প্রতি ঘণ্টাতেই ঘটে। সব জায়গাতেই রাজনীতি খোঁজা দরকার নেই।’