সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
দুর্গাপুরের বেসরকারি মেডিকেল কলেজ মেডিকেল কলেজের ছাত্রীকে গণধর্ষণের যে অভিযোগ উঠেছে সেই ঘটনায় সমস্ত অভিযুক্ত গ্রেফতার হয়ে গেলেও রাজনৈতিক চাপান উতোর বন্ধ হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে কলকাতা হাইকোর্টে মঙ্গলবার দায়ের হল একজোড়া মামলা।
সমস্ত অভিযুক্ত গ্রেফতার হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও এখনো পর্যন্ত হাসপাতালের সামনের এলাকায় অবস্থান ধরনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে প্রধান বিরোধীদল বিজেপি। দুর্গাপুর আসানসোল অথরিটি কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ ধারণা চালিয়ে যাওয়ার জন্য কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছে বিজেপি। যদিও এই অবস্থান ঘর না চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়নি আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট। সোমবারই নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি হাসপাতালে গিয়েছিলেন চিকিৎসকদের কাছ থেকে নির্যাতিতার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেওয়া জন্য। কিন্তু তিনি কথা বলতে পারেননি।
পরে তিনি সাংবাদিক বৈঠক করেন। প্রশাসন ও দুর্গাপুরের ওই বেসরকারি হাসপাতাল, যেখানে নির্যাতিতা চিকিৎসাধীন, তাদের ভূমিকায় ক্ষোভ উগরে দেন। এরপরই তিনি ধরনায় বসেন। বিজেপির তরফ থেকে যাতে ধরনা চালিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, তার অনুমতি চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়। কারণ পুলিশের তরফ থেকে এক্ষেত্রে অনুমতি মেলেনি। সে কারণেই হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চে মামলা দায়ের করা হয়েছে।ধরনা যাতে ১৯ তারিখ পর্যন্ত চালিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, তার আবেদন করা হয়েছিল। মামলা করার অনুমতি দিয়েছে অবকাশকালীন বেঞ্চ।
অন্যদিকে, এক ছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর থেকে যেভাবে বাংলার বিজেপি নেতারা এবং ওড়িশা থেকে একের পর এক বিজেপি নেতা মন্ত্রী এবং ওড়িশা সরকারের প্রতিনিধি দল দেশে সংশ্লিষ্ট মেডিকেল কলেজের নির্যাতিতার সঙ্গে দেখা করতে চাইছে এবং হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে তাতে মেডিকেল কলেজে অন্যান্য ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনার অসুবিধে হচ্ছে বলে অভিযোগ জানিয়েছে দুর্গাপুরের মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ। এই ধরনা নিয়ে দুর্গাপুর মেডিক্যাল কলেজের বক্তব্য, কলেজে পরীক্ষা চলছে। রোজ ১০০-১৫০ লোক ঢুকে পড়ছে। তাতে পরীক্ষা নেওয়ার ক্ষেত্রে অসুবিধা হচ্ছে। ছাত্রছাত্রীদের নির্বিঘ্নে পড়াশোনা করতেও অসুবিধা হচ্ছে। তাই বাইরের ওতো লোক যাতে না ঢোকেন, যাতে তাঁদের ঢোকার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়, তার অনুমতি চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। বিচারপতি শম্পা দত্ত পাল আবেদন মঞ্জুর করেছেন। এই দুটো মামলাই এই সপ্তাহে শুনানির সম্ভাবনা।