সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
বাংলায় আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটের দামামা বাজিয়ে রবিবার হুগলির সিঙ্গুর থেকে সিঙ্গুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্লোগান তুলেছেন, ‘পাল্টানো দরকার, তাই বিজেপি সরকার।’ মোদির স্লোগানের পাল্টা দিতে গিয়ে রবিবারেই নদীয়ার বর্ণাঢ্য রোড শো থেকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই স্লোগানের পাল্টা বলেন, ‘বাংলার মানুষ পাল্টায়নি। আপনি শাস্তি দিয়ে পাল্টাতে চাইছেন। পাল্টাবেন আপনারা, বাংলার মানুষ পাল্টাবে না। মাথা নীচু করবে না বাংলা দিল্লির জল্লাদের কাছে। দিল্লির বহিরাগতরা পাল্টাবেন। বাংলার মানুষ পাল্টাবেন না। পরিবর্তন বিজেপি নেতাদের হবে।’ এরপরেই কার্যতন নাটকীয় হুঁশিয়ারি দিয়ে অভিষেক বলেন, ‘এমন পরিবর্তন হবে যে ২০২৬ এর পর প্রধানমন্ত্রী বাংলায় এসে জয় বাংলা বলবেন। কথা দিচ্ছি। মেয়ের কাছে থাকবে বাংলা। পারলে মোদিবাবু এবার দিল্লি সামলাক। মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে পাল্টানোর কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। ১৯০৫ সালে ব্রিটিশরা পারেনি। আপনারা বাংলাকে বানাবেন? আমায় কত ইডি, সিবিআই দিয়ে হেনস্থা করেছেন। সব এজেন্সি লাগিয়ে ভোটে হেরেছে।’
বাংলার ভোটার তালিকায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর প্রক্রিয়া ইস্যুতে আজ আগাগোড়া কেন্দ্রের বিজেপি সরকার এবং জাতীয় নির্বাচন কমিশন কে তীব্র আক্রমণ করেন অভিষেক। অভিষেক বলেন, ‘বাংলার মানুষের মৌলিক অধিকার এসআইআর-এর মধ্যে দিয়ে কেটে নিতে চায় বিজেপি। যে দল নদিয়াতে অবৈধভাবে দলীয় অফিস চালায়। অন্যের বাড়িতে, তারা আমাদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে? তাদের নাগরিকত্বর প্রমাণ দিতে হবে?’
মোদী-অমিত শাহকে একযোগে কার্যত বহিরাগত উল্লেখ করে এদিন আক্রমণ শানিয়ে অভিষেকের বক্তব্য, ‘অমর্ত্য সেনকে এসআইআরের নোটিস পাঠানো হয়েছে, দেবকে হিয়ারিংয়ের নোটিস পাঠানো হচ্ছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বা শ্রীচৈতন্য বেঁচে থাকলে তাঁদেরও হয়তো নোটিস পাঠানো হত।’ সরাসরি তাঁর চ্যালেঞ্জ, ‘উনি বৈধ, আমরা অবৈধ, এই তত্ত্ব চলছে। কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী এসআইআর করুন না, কত দম দেখি। একমাত্র বাংলা এর বিরুদ্ধে লড়ছে।’

বিজেপির বিরুদ্ধে বাংলাদেশি তকমা দেওয়ার অভিযোগ তুলে অভিষেক বলেন, ‘বাংলার ক্ষমতা দেখাতে হবে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে মানুষ বাড়ি থেকে বেরোতেই পারবে না, সবকিছুতে ফর্ম ফিলআপ করতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করে তাঁর একটাই কথা, ‘বাংলায় এসে পরিবর্তনের কথা বলছেন মোদী। কিন্তু ইতিহাস ভুলে যাচ্ছেন। লর্ড কার্জন বহু বছর আগে এসেও বাংলাকে ভাঙতে পারেননি। আর উনি…।’ গীতাপাঠে মারধর থেকে শুরু করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক যাত্রা, সব ওঠে এদিন অভিষেকের ভাষণে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কীভাবে ক্ষমতায় এসেছিলেন ৩৪ বছরের শাসন ভেঙে, তা বিজেপিকে জেনে নিতে বলেন অভিষেক। শেষে গীতাপাঠ অনুষ্ঠান নিয়ে সাম্প্রতিক ঘটনার উল্লেখ করে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের বক্তব্য, ‘একজন চিকেন প্যাটিস বিক্রি করায় মারধর করা হয়েছে। ৭০টা সিট পেয়ে যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে বেশি পেলে কী হবে।’