সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
‘জীবিত হয়েও খসড়া তালিকায় মৃত’ জাতীয় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করে বারুইপুরের পর এবার কোচবিহারের ১০ জনকে নিয়ে র্যাম্পে হাঁটালেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
এদিন অভিষেক বলেন, ‘দেখতে পাচ্ছেন? আমার সঙ্গে ১০ জন রয়েছেন, সবাই কোচবিহার জেলার মানুষ। এই মাটিতে জন্মেছে। বড় হয়েছে, এই মাটিকে পদে পদে সমৃদ্ধ করেছে। এই ১০ জনকে, বিজেপির দালাল ইলেকশন কমিশন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার, মৃত বলে ঘোষণা করেছে। এই ১০ জন মানুষকে, এদের ভোটার লিস্ট থেকে নাম কেটে দেওয়া হয়েছে। বলে এদের কোনও অস্তিত্ব নেই, এরা মৃত।’ কোচবিহারে ‘রণ সংকল্প সভা’ থেকে সুর চড়িয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘জ্ঞানেশ কুমারকে আমি গিয়ে যে প্রশ্নগুলো করেছি, একটারও সদুত্তর দিতে পারেননি। আমাদের দিকে আঙুল উঁচু করে কথা বলছিলেন, আমি বললাম আঙুল নামিয়ে কথা বলুন। আপনি মনোনীত, আমি নির্বাচিত। বিজেপি নেতাদের দয়ায় আমরা এখানে আসিনি। মানুষ নির্বাচিত করে আমাদের পাঠিয়েছেন। আমরা মানুষের কাছে দায়বদ্ধ।’
ভোটের আগে কোমর বেঁধে মাঠে নেমে পড়েছে শাসক শিবির। রাজ্যের দিকে দিকে সভা করছেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার কোচবিহারের সভা থেকেও স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে তোপ দাগলেন বিজেপির বিরুদ্ধে। সুর চড়ালেন বাংলার বঞ্চনা নিয়ে। দিলেন হড় প্রতিশ্রুতি। তুলনা টানলেন বাংলার তৃণমূল শাসন আর কেন্দ্রের বিজেপির সরকারের মধ্যে। কোচবিহারবাসীদের জন্য বড় বার্তা দিয়ে মঞ্চ থেকেই বলেন, ‘আমি আপনাদের কথা দিয়ে যাচ্ছি আগামীতে কোচবিহারের সার্বিক উন্নয়ন, মা-মাটি-মানুষের সরকারের দায়িত্ব, কোচবিহারের সার্বিক উন্নয়নের দায়ভার আমার কাঁধে তুলে নিচ্ছি। যে ভালবাসা আপনারা দিয়েছেন সেই ঋণ আগামীদিনে উন্নয়নের মাধ্যমে পরিশোধ করব।’ অভিষেকের গলায় বড় প্রতিশ্রুতি শোনা যায় আবাস নিয়েও। তাঁর সাফ কথা খুব দ্রুত আরও ১৬ লক্ষ মানুষকে আবাসের বাড়ি দেওয়া হবে। তার মধ্যে কোচবিহারের বড় অংশের মানুষ বাড়ি পাবেন।
মঞ্চ থেকে অভিষেক বলেন, ‘১২ লক্ষ প্রকৃত প্রাপক যাদের আবাস প্লাস তালিকায় নাম ছিল তাঁদের গত বছর আমাদের সরকার বাড়ি দিয়েছে। আগামীতে ১৬ লক্ষ মানুষকে দেওয়া হবে। তারমধ্যে আগামী দু’মাসের দেড় লক্ষ মানুষ বাড়ি পাবে শুধু কোচবিহার থেকে। এটাও মা-মাটি-মানুষের প্রতিশ্রুতি, আমাদের মুখ্যমন্ত্রী কথা দিয়েছেন।

দেড় লক্ষ মানুষ মানে এক একটা বিধানসভা থেকে গড়ে ১৬-১৭ হাজার মানুষকে আমাদের সরকার বাড়ি করে দেবে, ছাদ করে দেবে।’ ঠিক এরপরই বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়াতে দেখা যায় অভিষেককে। বাংলার বঞ্চনা নিয়ে সুর চড়িয়ে বলেন, ‘দেওয়ার কথা ছিল মোদীর, বিজেপির। দিচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মা-মাটি-মানুষের সরকার। ওরা বলেছে, আমরা করেছি। আমাদের সরকার ১৫ বছর ক্ষমতায় আর নরেন্দ্র মোদীর বিজেপি সরকার ১২ বছর ক্ষমতায়।’