সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
‘বাংলার একটা ঐতিহ্য, গরিমা আছে। এটা আমাদের বাংলার নববর্ষ। সঙ্গে অনেক রাজ্যেরও নববর্ষ আছে। বাংলা সম্প্রীতি, সংহতির, সংস্কৃতির পীঠস্থান। আসুন, শান্তি-সম্প্রীতি-সংস্কৃতির বার্তা দিয়ে আমরা নতুন ভোর নিয়ে আসি।’ বাংলার নববর্ষের সকালের এভাবেই বাংলার মানুষকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে বিধানসভা নির্বাচনের আবহে বাংলার মানুষকে একজোট হওয়ার জন্য আহ্বান জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নববর্ষের সকালেই নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করলেন বিশেষ ভিডিও বার্তা। সেই সঙ্গে লিখলেন, ‘রাজ্যের সকল প্রান্তের মানুষকে হৃদয়ের অন্তর থেকে জানাই বাংলা নববর্ষের শুভনন্দন। এই নবীন ঊষালগ্নে আপনাদের প্রত্যেকের জীবন হয়ে উঠুক গ্লানিমুক্ত। নতুনের এই আবাহনে প্রতিটি প্রাণ পবিত্রতায় ভরে উঠুক।
আমাদের বাংলা যেমন শিল্প-সংস্কৃতির পীঠস্থান, তেমনই সর্বধর্ম সমন্বয়ের পীঠস্থান। কিছু অশুভ শক্তি এই বাংলাকে কলুষিত করতে উঠেপড়ে লেগেছে। মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিচ্ছে দিল্লির জমিদাররা। মনে রাখবেন, এদের গণতান্ত্রিকভাবে জবাব দিতে হবে। আজকের এই শুভ দিনে আসুন আমরা সমবেতভাবে শপথ নিই; সবরকম সংকীর্ণতার দেওয়াল ভেঙে আমরা বেরিয়ে আসব। কোনও বিভেদকামী-স্বৈরাচারী শক্তি যেন আমাদের চিরকালীন শান্তি, ঐতিহ্যগত সম্প্রীতি আর সৌহার্দ্যের বন্ধন ছিন্ন করতে না পারে। সকলে ভালো থাকুন এবং সুস্থ থাকুন। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার সমুন্নত রাখতে – জোড়াফুল চিহ্নে ভোট দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সকল মনোনীত প্রার্থীকে বিপুল ভোটে জয়যুক্ত করুন।’
ভিডিওবার্তায় মমতা বাংলার মানুষের উদ্দেশ্যে লেখেন, ‘বাংলার একটা ঐতিহ্য, গরিমা আছে। এটা আমাদের বাংলার নববর্ষ। সঙ্গে অনেক রাজ্যেরও নববর্ষ আছে। বাংলা সম্প্রীতি, সংহতির, সংস্কৃতির পীঠস্থান। আসুন, শান্তি-সম্প্রীতি-সংস্কৃতির বার্তা দিয়ে আমরা নতুন ভোর নিয়ে আসি। আমাদের সরকার ১০৫টা সামাজিক প্রকল্প করেছে। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত, সব মানুষ এই প্রকল্পগুলি থেকে সুবিধা পান। আগামী দিনেও সব মানুষ যাতে ভাল থাকেন, সেটা দেখাই আমাদের আসল উদ্দেশ্য। দিল্লির জমিদারেরা অনেক অত্যাচার করছে, ভোট কাটছে, অনধিকার প্রয়োগ করছে। সব এজেন্সি দিয়ে বাংলার উপর জুলুম অত্যাচার করছে। এই অত্যাচারের বদলা নিন।
দয়া করে আপনারা ভোট দিন। যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, এসআইআরের জন্য যাঁরা আত্মহত্যা করেছেন, তাঁদের জন্য আমার মন কাঁদছে। আমি জানি, একটা পরিবারে চার জন ভোট দেবেন, এক জন পারবেন না, সেটা কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমি নিজে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গিয়েছি। ৩২ লক্ষ বাদ যাওয়া নামকে তুলতে পেরেছি। বাদবাকি যাঁরা আছেন, তাঁদের নামও আশা করি ভবিষ্যতে উঠবে। কারণ, ট্রাইবুনাল চলছে।দাঙ্গা নয়, অত্যাচার নয়, রক্ত নয়! ওরা দিল্লি থেকে চমকাচ্ছে। কোনও চমকানি নয়।’