সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী শনিবারই ‘অযোগ্যদের’ তালিকা প্রকাশ করবে এসএসসি। আগামীকাল অর্থাৎ শনিবারের মধ্যেই অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশ হতে পারে, সুপ্রিম কোর্টে জানালেন এসএসসি-র আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এবং বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মার বেঞ্চ ‘অযোগ্যদের’ তালিকা প্রকাশ করার নির্দেশ দেয়। সেই অনুযায়ী শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে দাঁড়িয়ে এসএসসির আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, শনিবারই ‘অযোগ্য’দের তালিকা প্রকাশ করা হবে। কিন্তু, আদৌ সেই তালিকা কতটা সঠিক হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। বিকাশের সন্দেহ, হয়ত অর্ধেক তালিকা প্রকাশ করতে পারে এসএসসি শুধুমাত্র কোর্টের থেকে বেরিয়ে আসার জন্য। ওরা এত দিন আপ্রাণ চেষ্টা করেছে দুর্নীতি চাপা দেওয়ার জন্য। ওরা ভেবেছিলেন এই রকম সময় কাটিয়ে পার পেয়ে যাবেন। এখন সুপ্রিম কোর্ট ঘাড়ে চেপে আছে, উপায় নেই তাই বলছে কালকের মধ্যে প্রকাশ করবে। এবার দেখুন কী প্রকাশ করে। যা প্রকাশ করবে তা কতটা সঠিক সেই নিয়ে তো আমার মনে শঙ্কা আছে। ওরা হয়ত অর্ধেক লিস্ট বের করে সুপ্রিম কোর্টের চাপ থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করবে।
শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে অযোগ্য ঘোষিত প্রার্থীদের সংখ্যা জানতে চায় সুপ্রিম কোর্ট। এসএসসি জানায়, সেই তালিকায় রয়েছেন প্রায় ১৯০০ জন। শুনানির সময় আন্দোলনকারী নেতা চিন্ময় মণ্ডল বক্তব্য রাখতে চাইলে তাঁকে কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা করে আদালত। বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মা স্পষ্টভাবে বলেন, আপনি কোনও আলাদা মামলা দায়ের করেছেন? যদি না করে থাকেন, তবে পিছনে গিয়ে বসুন। এটা কোনও জনসমাবেশের মঞ্চ নয়।
একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের মন্তব্য, একজনও অযোগ্য প্রার্থী পরীক্ষায় বসতে পারবেন না। আগামী ৭ সেপ্টেম্বর পরীক্ষা স্থগিত করার আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন কয়েকজন চাকরিপ্রার্থী। তাঁদের আবেদন ছিল তাঁরা যোগ্য প্রার্থী। শুনানির সময় মামলাকারীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এখনও অযোগ্যদের পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবারের পর শুক্রবার ছিল সেই মামলার শুনানি। সেখানে কল্যাণ সওয়াল করছিলেন, যদি একজনও অযোগ্য পরীক্ষায় বসে তাহলে ব্যবস্থা নেবে কমিশন।
৭ ও ১৪ সেপ্টেম্বর নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। রাজ্যের দুই স্তরে মিলিয়ে প্রায় ৫ লক্ষ পরীক্ষার্থী বসবেন এই পরীক্ষায়। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই প্রার্থীদের মধ্যে প্রস্তুতি এবং উৎকণ্ঠা দুই-ই এখন চরমে। আগের নির্দেশ মেনে এসএসসি আবেদনের সময়সীমা ১০ দিন বাড়ায়। কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অ্যাডমিট কার্ড ডাউনলোড শুরু হবে ৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা থেকে। যদিও কোর্ট পরীক্ষা পিছনোর পরামর্শ দিয়েছিল, পুজোর ছুটির কারণে আর অন্য কোনও তারিখ পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এর পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্ট আগেই জানিয়ে দিয়েছিল, ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। বৃহস্পতিবারই কমিশনের তরফে এ ব্যাপারে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল। এর আগে সম্ভাব্য তারিখ জানিয়ে রাজ্যের জেলাশাসক ও ডিআইদের প্রস্তুতির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টের শুক্রবারের নির্দেশে পরীক্ষার সময়সূচি নিয়ে আর কোনও দ্বিধা রইল না। আগামী ৭ ও ১৪ সেপ্টেম্বর, নির্ধারিত তারিখেই হবে স্কুল সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবেই।
শুক্রবার এই মর্মে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি সঞ্জয় কুমার ও বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মার ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, যেসব প্রার্থীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আছে বা যাঁরা ইতিমধ্যেই অযোগ্য বা ‘দাগি’ ঘোষিত, তাঁদের পরীক্ষায় বসার অনুমতি দেওয়া যাবে না। আর এই বিষয়টি নিশ্চিত করার দায়িত্ব এসএসসি কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে।