শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
‘চন্দ্রশেখর ব্যানার্জী এবং লক্ষণ ঘড়ুইকে আপনারা বিপুল ভোটে জয়যুক্ত করে বিধানসভায় পাঠান। আমি কথা দিয়ে যাচ্ছি ডাক্তার বিধান চন্দ্র রায়ের পরে দুর্গাপুরে শিল্পের জোয়ার আনবে বিজেপি সরকার। কোন বাইরের লোকের এখানে কাজ করার দরকার নেই। স্থানীয় যুবক যুবতীরাই কাজ পাবে দুর্গাপুরের শিল্পাঞ্চলে। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়েছিলাম, এবারে আবার ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে হারিয়ে বাংলায় বিজেপির সরকার গঠন করব।’ বৃহস্পতিবার দুর্গাপুর পূর্ব বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে দুর্গাপুরের মানুষকে এমন প্রতিশ্রুতি দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
এদিন দুর্গাপুরের হাজার হাজার বিজেপি কর্মী সমর্থক, বিপুল সংখ্যক মহিলা কর্মী সমর্থকের উপস্থিতিতে বিশাল বিজয় সংকল্প সভায় অংশ নিয়ে বাংলায় তৃণমূল সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্যে বিজেপিকে ভোট দেওয়ার আহবান জানান শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘৩৪ বছর সিপিএমকে দিলেন, পনেরো বছর দিলেন তৃণমূলকে, পাঁচ বছর দেবেন না রামেদের? হাতে কাজ, পেটে ভাত এবং মাথায় ছাদ, এই অঙ্গীকার বিজেপির।’ এরপরই জনসমুদ্রের মধ্যে থেকে শোনা যায় ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি। অন্যদিকে তিনি বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে ‘রাম রাজ্য’ প্রতিষ্ঠা হবে, যেখানে মানুষের কাজ, খাদ্য ও বাসস্থানের নিশ্চয়তা থাকবে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে শিল্প ধ্বংসের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, টাটা প্রকল্প চলে যাওয়ার পর বহু শিল্প বন্ধ হয়েছে এবং বহু স্কুলে তালা পড়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের-এর সরকারকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘আর্থিক অনুদানের পাশাপাশি মদের দোকান বাড়িয়ে সমাজের ক্ষতি করা হয়েছে। বেকারত্ব ও পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা বৃদ্ধির অভিযোগ তুলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে শিক্ষিত বেকারদের চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত মাসে ৩০০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে।’ তিনি ছত্তিশগড়ের উদাহরণ টেনে বলেন, সেখানে বিজেপি সরকার কৃষকদের প্রতি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে ৩১০০ টাকা করে ধান কেনার সহায়তা দিয়েছে। একইভাবে বাঁকুড়ায় এসে অমিত শাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, বিজেপি সরকার এলে বাংলার কৃষকরাও সেই সুবিধা পাবেন। তিনি অভিযোগ করেন, নরেন্দ্র মোদি সরকার বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিলেও তৃণমূলের নেতারা তা কালোবাজারে পাচার করছে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিরোধী হেভিওয়েট নেতার এমন জনসভা রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট গুঞ্জনের সৃষ্টি করেছে।

গতকাল বালিতে তাঁর প্রচারে অশান্তির প্রশ্নে শুভেন্দু বলেন, ‘মাঝে মাঝে তৃণমূলের ৫ টাকার গুন্ডাবাহিনীকে এভাবেই জবাব দিতে হয়। একটা রাজনৈতিক দল প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে তাদের কর্মসূচি করছে আর সেখানে নোংরামি করছে তৃণমূল। এই নোংরামি, গুণ্ডামি ওদের সংস্কৃতিতে দাঁড়িয়ে গিয়েছে এটা থেকে রাজ্যকে বের করতে হবে।’ গাড়িতে নাকা চেকিং নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে নস্যাৎ করে দিয়ে শুভেন্দুর বিস্ফোরক দাবি, ‘ওঁর মাথার চিকিৎসা করাতে হবে। ওঁকে বলুন মাথার চিকিৎসা করাতে।’