সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
ভারত-পাক যুদ্ধের আবহে এবার রাজ্য বিধানসভার নিরাপত্তায় বিশেষ নজর। বাতিল করা হয়েছে কর্মীদের ছুটি, জানিয়েছেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়।
মঙ্গলের রাত থেকেই সীমান্তে যুদ্ধ যুদ্ধ পরিস্থিতি। এমন আবহে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নিরাপত্তা বাড়ানো হল। একই সঙ্গে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিধানসভার সব কর্মীর ছুটি বাতিলের বিজ্ঞপ্তিও জারি করা হল। শুক্রবার একথা জানান বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়।
পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পালটা দিয়েছে ভারত।
প্রথমে সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিতের পর অপারেশন সিঁদুর। একাধিক জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ভারতীয় সেনা। এখনও চলছে অভিযান। ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইতিমধ্যেই নবান্নের তরফে সমস্ত সরকারি কর্মীদের ছুটি বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার বিধানসভার স্পিকার জানালেন, সেখানকার কর্মীদের ছুটিও বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে নিরাপত্তা বাড়ানোর চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে বলে খবর। বিধানসভার নিরাপত্তায় কোনও ফাঁকফোকর রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, “অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। প্রত্যাঘাতের প্রভাব হয়তো বাংলা পর্যন্ত আসবে না। তবু আমরা নিরাপত্তায় কোনও ফাঁকফোকর রাখতে চায় না। পরিস্থিতি বিশেষে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তাই নিরাপত্তা বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মীদের ছুটিও বাতিল করা হল।”
প্রসঙ্গত, যুদ্ধ পরিস্থিতি মাথায় রেখে আগেই রাজ্য সরকারি কর্মীদের ছুটি বাতিল ঘোষণা করেছে নবান্ন। বুধবার এই মর্মে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, শারীরিক অসুস্থতার ক্ষেত্রে ছাড় মিলবে। তবে সেক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে।
এখানেই শেষ নয়, আপাতত নিজের এলাকাও ছাড়া যাবে না। যার যেখানে পোস্টিং সেখানেই থাকতে হবে বলে জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। তবে যারা বর্তমানে অসুস্থতার কারণে ছুটিতে রয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই নির্দেশ প্রযোজ্য নয়। গত বুধবার নবান্নের সাংবাদিক বৈঠক থেকে সেকথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। এবার বিধানসভার কর্মীদের ছুটিও বাতিল করা হল। তবে এ ব্যাপারে আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য আগেই রাজ্যবাসীর উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, “আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। রাজ্যের তরফে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে। যদি তেমন কিছু হয় এবং যদি আগে থেকে জানতে পারি তাহলে মানুষকে আমরা জানাব।”