বীরভূমে রাজনৈতিক হিংসার ছায়া আবার ফিরে এল। মল্লারপুর থানার বিশিয়া গ্রামে ঘটে গেল রক্তাক্ত ঘটনা। তৃণমূল নেত্রী তথা ময়ুরেশ্বর -১ পঞ্চায়েত সমিতির মৎস্য কর্মাধ্যক্ষ শাকিলা বিবির স্বামী বাইতুল্লা শেখকে লক্ষ্য করে পরপর তিনটি বোমা ছোড়ে দুষ্কৃতীরা। মর্মান্তিকভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে এই বোমা বিস্ফোরণে।
কীভাবে ঘটল হামলা?
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিশিয়া গ্রামের একটি মোড়ে বসে ছিলেন বাইতুল্লা শেখ। হঠাৎ করেই সেখানে হাজির হয় একদল দুষ্কৃতী। অভিযোগ, খুব কাছ থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে পরপর তিনটি বোমা ছোড়া হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় গুরুতর জখম হন তিনি। স্থানীয় বাসিন্দারা তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
কে বা কারা? উঠছে একাধিক প্রশ্ন
এই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। কারা এই হামলার পিছনে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। পরিবার সূত্রে স্পষ্ট কোনও মত না এলেও স্থানীয়রা মনে করছেন, এর পিছনে রাজনৈতিক শত্রুতার সম্ভাবনা প্রবল। বাইতুল্লা শেখের তৃণমূল ঘনিষ্ঠতা ও তাঁর স্ত্রীর পঞ্চায়েত স্তরের পদই হয়তো তাঁকে টার্গেট করবার অন্যতম কারণ।
পুলিশের তদন্তে কী উঠে আসছে?
মল্লারপুর থানার পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমেছে। এলাকায় চলছে টহলদারি, বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবারের সদস্যদের জেরা করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে রাজনৈতিক কোণ থাকছে কিনা। CCTV ফুটেজ সংগ্রহের পাশাপাশি ফোনকল ডিটেলসও খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা।
রাজ্যের নানা জায়গায় একই ছবি
এই একটি ঘটনা নয়। বিগত কয়েক মাসে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ, মালদহ ও বীরভূম— একাধিক জেলায় একের পর এক তৃণমূল নেতা খুন হয়ে যাচ্ছেন। রাজ্য রাজনীতির পরিপ্রেক্ষিতে এই ঘটনাগুলিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে রাজনৈতিক মহল। আগামী ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে শাসকদলের নেতাদের আতঙ্কিত করতে বিরোধীদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পরিকল্পনার আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকরা।
বীরভূমের মাটি ফের রঞ্জিত হল রক্তে। রাজনৈতিক শত্রুতা, ব্যক্তিগত বিদ্বেষ নাকি অন্য কোনও উদ্দেশ্য— এই প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরা। তবে এর মধ্যে দিয়ে যে আবার রাজ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতার ছবি স্পষ্ট, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।