শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে বাংলায় বিজেপির পরিবর্তন যাত্রার অনুমতি দিল কলকাতা হাইকোর্ট। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ আজ স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে জানিয়ে দেন, যে সমস্ত শর্ত নির্দিষ্ট করা হয়েছে কোনভাবেই তা ভঙ্গ করা যাবে না পরিবর্তন যাত্রা চলাকালীন। তবে কোথাও যাতে কোনও আইনশৃঙ্খলা জনিত সমস্যা না হয়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে পুলিশকে। এই পরিবর্তন যাত্রায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা-সহ একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা আসবেন।
রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য আগেই জানিয়েছেন, মোট ৯টি পৃথক যাত্রা আয়োজন করা হয়েছে। ১ ও ২ মার্চ থেকে শুরু হবে এই কর্মসূচি। প্রথম দিনে কোচবিহার দক্ষিণ, কৃষ্ণনগর দক্ষিণ, কুলটি, গড়বেতা ও রায়দিঘি থেকে যাত্রার সূচনা হবে। ২ মার্চ ইসলামপুর, সন্দেশখালি, হাসান এবং আমতা থেকেও আরও চারটি যাত্রা বেরোবে।
দোল উৎসবের কারণে ৩ ও ৪ মার্চ কোনও কর্মসূচি রাখা হয়নি। ৫ থেকে ১০ মার্চের মধ্যে প্রায় পাঁচ হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করার লক্ষ্য নিয়েছে দল। বঙ্গ বিজেপির লক্ষ্য, প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্য দিয়ে এই যাত্রাকে নিয়ে যাওয়া। কর্মসূচির আওতায় থাকবে ৬০টি বড় জনসভা এবং আনুমানিক ৩০০টি ছোট সভা। বৃহত্তর কলকাতার ২৯টি বিধানসভা এলাকায় আলাদা করে ট্যাবলো বের করার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।
সবশেষে মার্চ মাসেই কলকাতার ব্রিগেড ময়দানে জনসভা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই সভাকেই ‘পরিবর্তন যাত্রা’র সমাপ্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে এই পরিবর্তন যাত্রা পরিকল্পনা ঘোষণা করা হলে ও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে তাদের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তার প্রেক্ষিতেই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল বিজেপি।
কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের নির্দেশ অনুযায়ী, বিজেপির এই পরিবর্তন যাত্রায় একসঙ্গে এক হাজারের বেশি মানুষের জমায়েত করা যাবে না। ১ মার্চ থেকে ৬ মার্চের মধ্যে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে হবে। শব্দবিধি সংক্রান্ত সমস্ত আইন কঠোরভাবে মানার কথাও জানানো হয়েছে।
রাজনৈতিক উস্কানিমূলক বক্তব্য নিয়েও সতর্কতা জারি করেছে আদালত। কোনও রকম কুরুচিকর বা উত্তেজনামূলক মন্তব্য করা যাবে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে – এমন মন্তব্য বা কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে। কর্মসূচির জেরে যানজট তৈরি করা যাবে না। প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হবে।
পাশাপাশি, অন্তত ২০ জন স্বেচ্ছাসেবকের নাম ও ফোন নম্বর আগে থেকেই পুলিশ প্রশাসনের কাছে জমা দিতে হবে, যাতে প্রয়োজন হলে দ্রুত যোগাযোগ করা যায়। সরকারি, বেসরকারি বা ব্যক্তিগত সম্পত্তির কোনও ক্ষতি করা চলবে না বলেও নির্দেশে উল্লেখ করা হয়েছে। যদি কোনওভাবে সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হয়, তার দায় সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলকেই নিতে হবে।

পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়েও আদালত কড়া অবস্থান নিয়েছে। অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সম্পূর্ণ এলাকা পরিষ্কার করতে হবে। এমনকি কর্মসূচি শেষ হওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যে অংশগ্রহণকারীদের অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।