সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
“আমি আগেও বহুবার বলেছি কলকাতা আমার জন্মভূমি হলেও আমার প্রকৃত কর্মভূমি হল ডায়মন্ডহারবার।” এভাবেই রবিবার সকালে নিজের লোকসভা কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবারকে নিয়ে আবেগ তাড়িত বার্তা দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
গত ২ জানুয়ারি থেকে ‘সেবাশ্রয়’ কর্মসূচি শুরু করেছেন ডায়মন্ডহারহারের সাংসদ। বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবিরের ব্যবস্থা করা হয়েছে এখানে। স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিভিন্ন পরীক্ষা, ওষুধ প্রদান, প্রয়োজনে হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হচ্ছে এখান থেকে। ৭৫ দিন ধরে ‘সেবাশ্রয়’ কর্মসূচি চলবে। এই কর্মসূচির আওতায় ডায়মন্ডহারবার লোকসভা কেন্দ্রের প্রতিটি বিধানসভায় প্রায় ৪০টি জায়গায় স্বাস্থ্যপরীক্ষা শিবির চলছে।
স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন বোরহানপুরের বৃদ্ধা রিজিয়া বেওয়া। সেবাশ্রয় শিবিরের উদ্যোগে অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে এসে, তৎপরতার সঙ্গে চিকিৎসা করে, আবার অ্যাম্বুলেন্সে করেই বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয় তাঁকে। বৃদ্ধার নতুন জীবন ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন তাঁর ছেলে।
পাশাপাশি স্নায়ুর দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত দুই শিশুর চিকিৎসার দায়ভার নিজে কাঁধে তুলে নিয়েছেন অভিষেক। বাংলায় স্নায়ুর এই ব্যাধির চিকিৎসার সঠিক বন্দোবস্ত না থাকায় নিজ খরচে তাদের বেঙ্গালুরুতে নিমহানসে পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছেন অভিষেক। নার্ভের সমস্যা নিয়ে সেবাশ্রয় ক্যাম্পে এসেছিল ২ শিশু। ক্যাম্পে তাদের চিকিত্সার পর তাদের আরও উন্নত চিকিত্সার জন্য তাদের পরিবার ও একজন চিকিতসককে বেঙ্গালুরুর নিমহানস হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই চিকিৎসার দায়ভার গ্রহণ করেছেন অভিষেক। ওই দুই শিশুর মধ্যে একজন হল আলমিশা খাতুন। বাড়ি নোদাখালি। সে ভুগছে অ্যাসপেকসিয়া রোগে। অন্য শিশুটি হল নেহা মাঝি। বাড়ি হুগলি। তার অসুখটি হল স্পাইনাল মাসকুলার অ্যাট্রোফি। সেবাশ্রয় ক্যাম্পে পরীক্ষার পর দেখা যায় তাদের উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন। তাই ওই দুই শিশুকে ডা সুরজ হালদারের তত্বাবধানে নিমহানস হাসপাতালের পাঠানোর ব্যবস্থা করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

অন্যদিকে, দু’বছরের কৃতী মান্নাকে নিয়ে ‘সেবাশ্রয়’ ক্যাম্পে এসেছিলেন বাবা-মা। শিশুটি জটিল রোগে আক্রান্ত। তাঁকে সুস্থ করে তুলতে যে ইনজেকশনগুলি প্রয়োজন, তা কলকাতায় পাওয়া যায় না বলেই জানিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। এরপরই তড়িঘড়ি দিল্লির এইমস থেকে ওই ইনজেকশনগুলি তড়িঘড়ি আনানোর ব্যবস্থা করেন তিনি। কৃতীর যাবতীয় চিকিৎসার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।