সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। দিনে দশ লক্ষ দর্শনার্থী আসতে পারবেন ‘দুর্গা অঙ্গন’-এ। সারাবছর মা দুর্গার পুজো হবে। এর হাত ধরেই কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। তীর্থক্ষেত্রের আশেপাশে প্রচুর কেনাবেচা হয়। অনেক দোকান হবে। কারুশিল্পীরা সুযোগ পাবেন। সংস্কৃতি জগতেরও কর্মসংস্থান বাড়বে। প্রতিদিন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে।’ নিউটাউনে প্রস্তাবিত দূর্গাঙ্গনের করে এভাবেই মন্দির তৈরীর প্রয়োজনীয়তা এবং তার ভবিষ্যৎ নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তাঁর কথায়, এই ‘দুর্গা অঙ্গন’ রাজ্যের মুকুটে আরও এক পালক। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, নিউটাউনে ১২.৬ একর জমিতে স্থাপন করা হবে এই ‘দুর্গা অঙ্গন’। বিশ্বের বৃহত্তম ‘দুর্গা অঙ্গন’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে এটি। ৩৬৫ দিন খোলা থাকবে। ৩৬৫ দিন পূজিত হবে মা দুর্গা।
নিউটাউন বাস স্ট্যান্ডের বিপরীতে অ্যাকশন এরিয়া–ওয়ানে তৈরি হবে এই ‘দুর্গা অঙ্গন’। যার জেরে বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের এখানে আসতে বিশেষ অসুবিধা হবে না। আজ সোমবার নিউটাউনে ‘দুর্গা অঙ্গন’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাঙালির সেরা উৎসব দুর্গাপুজোর রেশ এবার থাকবে সারাবছর ধরে। বছরে ৩৬৫ দিনই দেবী দুর্গার পুজো করা যাবে। আলাদা আলাদা মণ্ডপে হবে লক্ষ্মী, সরস্বতীর পুজোও।
প্রস্তাবিত দুর্গা অঙ্গনে কী কী থাকবে তা সবিস্তারে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই। নিউটাউনে ১৭.২৮ একর জমিতে তৈরি হওয়া দুর্গা অঙ্গনের চারপাশে থাকবে ২০ ফুট চওড়া রাস্তা। প্রতিদিন ১ লক্ষ ভক্ত আসতে পারবেন, উঠোনে একসঙ্গে হাজার ভক্তের বসার ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। ১০৮ দেবদেবীর মূর্তি, ৬৪ সিংহ মূর্তি থাকবে। ৩৬৫ দিন খোলা থাকবে দুর্গা অঙ্গন, দেওয়া যাবে পুজো। লক্ষ্মী, সরস্বতীর আলাদা মণ্ডপ, আলাদা প্রসাদ তৈরির ঘর এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ঘর তৈরি হবে। মন্দির চত্বরে তৈরি হবে দোকান, হবে কর্মসংস্থানের সুযোগ। এসব করতে মোট খরচ হবে ২৬১ কোটি ৯৯ লক্ষ টাকা।
আগামী বছর ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির মোকাবিলা করার জন্য তিনিও হিন্দুত্বের পথে হাঁটছেন বলে সিপিএম সহ বিরোধীরা যে অভিযোগ তুলেছে আজকের শিলান্যাস অনুষ্ঠান থেকে তার জবাব দিয়ে মমতা বলেন, ‘আমি সব ধর্মকে শ্রদ্ধা করি। সব ধর্মের সব অনুষ্ঠানে থাকি। কারণ, আমি মনে করি ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। জানেন এই দুর্গা অঙ্গন কেন তৈরি হচ্ছে? যাঁরা প্রশ্ন তুলছেন, তাঁদের বলি। ইউনেস্কো আমাদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপুজোকে কালচারাল হেরিটেজের তকমা দিয়েছে। তাদের স্বীকৃতিকে সম্মান জানাতে এই দুর্গা অঙ্গন তৈরি করা হল। সারাবছর এখানে মা দুর্গার নিত্যপুজো হবে।’
শিল্পকলা, ঐতিহ্যচর্চা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য আলাদা পরিকাঠামোও রাখা হচ্ছে এই প্রকল্পে। এ বছর অক্ষয় তৃতীয়ায় দিঘায় জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। ইসকনের দাবি অনুযায়ী, রবিবার সেই মন্দিরে পুণ্যার্থীর সংখ্যা প্রায় এক কোটিতে পৌঁছেছিল।
পাশাপাশি, সম্প্রতি উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে মাটিগাড়ায় নতুন মহাকাল মন্দির নির্মাণের জন্য জমি বরাদ্দের কথাও ঘোষণা করেছিলেন তিনি। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, এই শিলান্যাসের অনুষ্ঠান থেকেই মহাকাল মন্দিরের শিল্যানাস নিয়ে বড় ঘোষণা করে দেন মমতা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, জানুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহেই সেই মন্দিরের শিল্যানাস হবে। জমিও দেখা হয়ে গেছে, পরিকল্পনা তৈরি।