নবান্ন থেকে এল নতুন ঘোষণা! সরকারি কর্মীদের জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এল উৎসবের মরসুমে আরও এক বাম্পার সুখবর। করম পূজো উপলক্ষে ৩ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) ঘোষণা করা হল অতিরিক্ত ছুটি।
রাজ্য অর্থ দপ্তর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ওই দিন সমস্ত সরকারি অফিস, পুরসভা, জেলা পরিষদ এবং সরকার পোষিত প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। এমনকি চা বাগানেও কর্মরত আদিবাসী সম্প্রদায়ের কর্মীদের ছুটি থাকবে বলে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।
করম পূজো কী এবং কেন এই ছুটি গুরুত্বপূর্ণ?
করম পূজো মূলত আদিবাসী জনগোষ্ঠীর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। ভালো ফসল, সমৃদ্ধি ও প্রাকৃতিক ভারসাম্যের কামনায় এই পুজো আয়োজিত হয়। ছোটনাগপুর মালভূমি ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল, যেমন রাঢ়বাংলার পুরুলিয়া, ঝাড়খণ্ড, বিহার, ওড়িশা ও ছত্তিশগড়ে এই উৎসব জাঁকজমকের সঙ্গে পালিত হয়।
২০২৩ সাল থেকে করম পূজোর দিনটিকে পূর্ণ দিবস সরকারি ছুটি হিসেবে ঘোষণা করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এই সিদ্ধান্ত আদিবাসী সংস্কৃতিকে সম্মান জানানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন বিশিষ্ট মহল।
সরকারি কর্মীদের জন্য উৎসবের মরসুমে বাড়তি স্বস্তি
দুর্গাপুজোর লম্বা ছুটির পাশাপাশি এবার করম পূজোতেও ছুটি মেলায় রাজ্য সরকারি কর্মীদের মধ্যে খুশির হাওয়া। সরকারি কর্মীদের মতে, উৎসবের মরসুমে এক দিনের এই অতিরিক্ত ছুটি পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ করে দেবে। এটি সরকার ও কর্মীদের মধ্যে ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তুলতেও সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
তবে অর্থ দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কলকাতার রেজিস্ট্রার অফ অ্যাসিউরেন্স এবং কালেক্টর অফ স্ট্যাম্প রেভিনিউ-এর অফিস এই দিন খোলা থাকবে। অর্থাৎ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর ছুটির বাইরে থাকবে।
শারদোৎসবের সূচনায় করম পূজো ও ভাদু উৎসব
করম ও ভাদু উৎসবের মধ্য দিয়েই বাংলায় শারদোৎসবের সূচনা হয়। এই উৎসবগুলি শুধু ধর্মীয় দিক থেকেই নয়, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক দিক থেকেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। করম পূজো উমার আগমনের আভাস দেয়, যা বাংলার শারদীয়া আবহে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।
রাজ্য সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপ
রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বহু কর্মচারী ও সমাজকর্মী। একদিকে যেমন আদিবাসী সংস্কৃতিকে সম্মান জানানো হয়েছে, অন্যদিকে সরকারি কর্মীদের উৎসবমুখর আবহে মানসিক স্বস্তিও নিশ্চিত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত যে বাংলার সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং পরম্পরাকে মর্যাদা দেয়, তা বলাই বাহুল্য।