সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
নেপালের মতো বাংলাতেও রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের ডাক দিয়ে আদতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হত্যার চক্রান্ত করা হচ্ছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন তৃণমূল সাংসদ পার্থ ভৌমিক। নেপালের মতো বাংলাতেও দুর্নীতির বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান হওয়া প্রয়োজন বলে যুবসমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন ব্যারাকপুরের প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিং। তাঁর এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে একাধিক থানায় এফআইআর দায়ের করেছে তৃণমূল। বিজেপি নেতা অর্জুন সিং বলেন, নেপালের ১৮ থেকে ৩০ বছরের তরুণ-তরুণীরা যে সাহস দেখিয়েছে, তা বাংলার ছেলেমেয়েদেরও দেখানো উচিত। বিনা রক্তপাতে কোন দুর্নীতিগ্রস্থ শাসন ব্যবস্থা শেষ হয়না।
তবে অর্জুন সিংয়ের এই মন্তব্য আদতে মমতাকে করার জন্য প্রকাশ্য রাজনৈতিক উস্কানি বলে মনে করছেন ব্যারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিক। ব্যারাকপুরের তৃণমূল সাংসদ পার্থ ভৌমিকের নির্দেশে ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের বিভিন্ন থানায় বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছে এফআইআর। অভিযোগ বাংলায় উস্কানি দেওয়ার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীকে খুনের চক্রান্ত করছেন বিজেপি নেতা।
নেপালের গণঅভ্যুত্থান নিয়ে বলতে গিয়ে অর্জুন সিং বলেন, যেভাবে ১৮ থেকে ৩০ বছরের যুবকেরা রাস্তায় নেমে আন্দোলন করছে, সেইভাবে বাংলাতেও আন্দোলন হওয়া উচিত। আর বিনা রক্তপাতে কোনও আন্দোলন হয় না। অর্জুন সিংয়ের এই মন্তব্যে কারণেই ব্যারাকপুরের তৃণমূল সাংসদ মনে করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে খুন করার গভীর চক্রান্ত চালানো হচ্ছে। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে হওয়া এফআইআর নিয়ে বিন্দুমাত্র বিচলিত নন অর্জুন সিং। তাঁর দাবি, একটা বা দুটো কেন, ৪০০ থানায় এফআইআর করুক।

অর্জুন সিংয়ের সাফ জবাব, তিনি যে কথা বলেছেন সেখান থেকে তিনি পিছু হটবেন না। এমনকি ৪০০টা এফআইআর না হলে তাঁর মানসম্মান থাকবে না! প্রতিবেশী রাষ্ট্র নেপালে হিংসার পরিস্থিতির আবহে অর্জুন বলেন, কবে বাংলার যুবসমাজ জাগ্রত হবে রাজ্যের এই দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারকে উপড়ে ফেলার জন্য! আমরা অপেক্ষায় আছি। বিনা রক্ত ঝরিয়ে কোনও দুর্নীতিগ্রস্ত শাসন শেষ হয় না। অনেকে বলেন গান্ধীজি গান বাজিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিলেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে তাদের এই কথা বিশ্বাস করি না। বেকার যুবকরা নেপাল থেকে শিক্ষা নিক। সেখানে ১৮ থেকে ৩০ বছরের যুবকরা দেখিয়ে দিয়েছে। বাংলায় এমনটা দরকার আছে। যেদিন বাংলার যুবসমাজ জাগ্রত হবে, আমাদের মতো লোকেদের ডাকলে প্রথম সারির থেকে নেতৃত্ব দিতে রাজি আছি।
অর্জুন সিংয়ের এই মন্তব্যের পরেই তৃণমূলের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে তীব্র নিন্দা জানিয়ে লেখা হয়েছে, বিজেপি নেতা অর্জুন সিং এখন সরাসরি যুবসমাজকে অস্ত্র হাতে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং রাজ্যকে আরেকটি নেপালে পরিণত করার চেষ্টা করছেন। এটি সেই গুলি মারো ফ্যাসিবাদী মানসিকতা, যা বিজেপিকে সংজ্ঞায়িত করে। পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি সর্বদা শান্তি, উন্নয়ন এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে তুলে ধরে। এমন উস্কানিমূলক বক্তব্যের জবাব রাজ্যের মানুষ কড়াভাবে দেবে।
পাশাপাশি তৃণমূল সাংসদ পার্থ ভৌমিক অর্জুন সিং-কে ক্রিমিনাল’ ও ‘খুনি’ তকমা দিয়ে বলেন, অর্জুন সিং যে মন্তব্য করেছেন তা আদপে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে খুনের ইঙ্গিত বহন করে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাই। আমরা চাই পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা নিক। জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কিছু হলে তৃণমূলের সদস্য, সমর্থক ও বাংলার মানুষ অর্জুন সিংকে ছেড়ে দেবে না। তার যোগ্য জবাব দিয়ে দেবে। দেশে একটা স্বৈরাচারী সরকার চলছে। কিন্তু আমরা চাই না আমাদের দেশে নেপালের এমন গণহত্যা সংগঠিত হোক।