রঞ্জন দাস। কলকাতা সারাদিন।
কপাল খারাপ দিলীপ ঘোষের! তেমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে বিজেপির কর্মিসভার বৈঠক। কারণ দিলীপ ঘোষ মঞ্চে উঠতেই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল সেই মঞ্চের একাংশ। টাল সামলাতে না পেরে পড়ে যাচ্ছিলেন দিলীপ ঘোষও।
তারপরই তাঁকে মঞ্চ থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে এই ঘটনার পরে অবশ্য দিলীপ কর্মিসভা থেকে বেরিয়ে আসেননি। তিনি বিজেপির স্থানীয় নেতা কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বন্দে মাতরম গানটিও গান। কিন্তু কেন এমন বিপর্যয় তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
গোসাবাতে বিজেপির কর্মশালা শুরুর আগেই দিলীপ ঘোষের মঞ্চ ভেঙে বিপত্তি। জানা গিয়েছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার গোসাবা বিধানসভার বিজেপি এক নম্বর মন্ডলের পক্ষ থেকে আজ গোসাবা ঘাটের পাশেই বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় বুথ বিজয় সংকল্প কর্মশালা।
এই কর্মশালাতে উপস্থিত হন রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। জানা গিয়েছে, রবিবার গোসাবার ঘাটের বিজেপি কার্যাবয়ের পাশে পাশে বিজেপির ১ নম্বর মন্ডলের পক্ষ থেকে একটি কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে হাজির ছিলেন বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ দিলীপ ঘোষ। তিনি যখন মঞ্চে ওঠেন, আচমকাই নীচে বসে যায় কাঠের পাটাতনটি। দিলীপ ঘোষ মঞ্চে ওঠার পরে আরও বেশ কয়েকজনকর্মী সেখানে ওঠেন। এরপরেই ভার রাখতে না পেরে সেটি নিচের দিকে বসে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে টালমাটাল হয়ে যায় দিলীপ ঘোষ।

কর্মী সমর্থকদের সাহায্যে এবং নিজের চেষ্টায় দুর্ঘটনা ঘটেনি। মাটিতে পড়ে যাননি তিনি। দ্রুত ওই মঞ্চ থেকে নেমে যান কর্মীরা। সেই মঞ্চ থেকে নির্ধারিত কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। তবে এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। কাঠের পাটাতন বলে যাওয়ার জেরে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। কিন্তু সেটা কর্মীদের কারণে হয়নি। বড়সড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন দিলীপ ঘোষ। যদিও তাঁকে এতটুকু বিচলিত লাগেনি। কিছু সময়ের জন্য টালমাটাল হলেও নিজেকে সামলে নিয়েছেন তিনি। এরথেকেই নিজের ফিট থাকার বিষয়টি আরও একবার কর্মী সমর্থকদের সামনে প্রমাণ করলেন। কিন্তু মঞ্চ বাধার সময় কীভাবে কাজ হয়েছে, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

যদিও এই দুর্ঘটনার পরেও কর্মসূচি বাতিল করেননি দিলীপ ঘোষ। মঞ্চের অন্য একটি অংশে গিয়ে তিনি কর্মিসভায় বক্তব্য রাখেন এবং দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যে কর্মীদের চাঙ্গা করার বার্তাই উঠে আসে।
![]()
ওই সভায় এদিন বিজেপির রাখা ড্রপ বক্সে দিলীপ নিজের ব্যক্তিগত মন্তব্য পেশ করেন। বিজেপির রাখা এই ড্রপ বক্সে রাজ্যকে আগামী দিনে কেমন দেখতে চায় রাজ্যের বাসিন্দারা তারই পরামর্শ চাওয়া হয়েছে। বিজেপি এবার নিজেরা কোনও দলীয় ইস্তেহার লিখবে না বলেও জানিয়েছে। সংকল্পপত্র লেখা হবে রাজ্যের মানুষের পরামর্শে। যার জন্য রাখা হয়েছে ড্রপবক্স আর চালু করা হচ্ছে একটি টোল ফ্রি ফোন নম্বর।