শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন—সংক্ষেপে এসআইআর (Special Intensive Revision)। ভোটার তালিকা সংশোধনের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া জুড়ে এবার সামনে এল এক বড় পরিবর্তন (Big change in SIR)। এতদিন পর্যন্ত ইনিউমারেশন ফর্মে আত্মীয়ের পরিচয় হিসেবে কেবল বাবা, মা, ঠাকুরদা বা ঠাকুরমার নাম ব্যবহার করা যেত। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সেই নিয়ম বদলে ফেলল কমিশন।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবার থেকে আত্মীয়ের পরিচয়ে ব্যবহার করা যাবে মায়ের বাবা—দাদু, মায়ের মা—দিদিমা, এমনকি দাদা, মামা, কাকা-র নামও। অর্থাৎ প্রথমবারের মতো ইনিউমারেশন ফর্মে আত্মীয়ের তালিকা বিস্তৃত হল—যা নিয়ে রাজ্য জুড়ে তৈরি হয়েছে তুমুল চাঞ্চল্য। এই সিদ্ধান্তকে কমিশন বলছে নিয়মের “সামঞ্জস্যতা”, তবে মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের মতে এটি “সরাসরি বাড়তি চাপ”!
কেন বাড়ল আত্মীয়ের তালিকা?
কমিশন সূত্রের দাবি, রাজ্যের বহু এলাকা থেকে অভিযোগ আসছিল—২০০২ সালের ভোটার তালিকায় বহু মানুষের বাবা বা পিতৃকুলের নাম নেই। বরং রয়েছে মাতৃকুলের নাম—দাদু, দিদিমা কিংবা মামাদের পরিচয়। সেই ক্ষেত্রেই ভোটারদের যোগ্যতা যাচাই (Eligibility verification) নিয়ে বড় সমস্যা তৈরি হচ্ছিল।
কমিশনের এক কর্তার বক্তব্য—
“যোগ্য ভোটারের নাম যাতে ভুলে বাদ না পড়ে, তাই আত্মীয়ের পরিধি বাড়ানো হয়েছে।”
অর্থাৎ মূল উদ্দেশ্য—কাউকে যেন ভুলভাবে বঞ্চিত না করা (No unfair voter exclusion)।
মাঠে বাড়ল বিভ্রান্তি ও চাপ
তবে ব্লক লেভেল অফিসারদের (BLOs) সুর একেবারেই অন্য। তাঁদের অভিযোগ—
ফর্ম বিলির কাজ শেষ হওয়ার পর হঠাৎ নিয়ম বদলানোয় মাঠে তৈরি হয়েছে নতুন বিশাল বিভ্রান্তি।
এক ক্ষুব্ধ BLO বলেন—
“ডেটা এন্ট্রির চাপই কম নয়। তার উপর আত্মীয় যাচাইয়ের নতুন বোঝা! ভুল হলে দায় আমাদেরই। এটা কি ন্যায্য?”
তাঁদের আশঙ্কা—ভোটার যদি মামা বা দাদুর নাম দেন, সেই নাম মিলিয়ে দেখতে হবে ২০০২ সালের তালিকার সাথে (Cross-checking with 2002 voter list)। অথচ সেই পুরনো তালিকা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই BLO-দের হাতে নেই। ফলে
দায়িত্ব + ঝুঁকি = দুটোই ফুলে ফেঁপে উঠছে।
‘ব্যাকরুম’ নির্দেশ—মূল আত্মীয় লিখতেই উৎসাহ দিন
জেলা প্রশাসনের সূত্র বলছে—নিয়ম শিথিল হলেও ERO–AERO স্তর থেকে নীরবে নির্দেশ এসেছে—
“বাবা, মা, ঠাকুরদা, ঠাকুরমার নাম লিখতেই ভোটারদের উৎসাহ দিতে হবে।”
অন্য আত্মীয়ের নাম আইনি ভাবে বৈধ হলেও সেটি বারণ না করে —“এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ” দেওয়া হচ্ছে।
কমিশনের নতুন সিদ্ধান্তে ভোটারদের জন্য পথ মসৃণ হলেও, মাঠে-ঘাটে কাজ করা BLO-দের ওপর কাজের চাপ ও বিভ্রান্তি যে আরও বেড়ে গেল, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।
একদিকে সৎ উদ্দেশ্য, অন্যদিকে বাস্তবিক জটিলতা—এই দুইয়ের মাঝে SIR প্রক্রিয়া এখন দাঁড়িয়ে চরম আলোচনার কেন্দ্রে।