প্রিয়াঙ্কা মান্না। কলকাতা সারাদিন।
বাংলার লক্ষ লক্ষ প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য বড় স্বস্তির খবর। স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনল রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর। এবার থেকে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে বেসরকারি হাসপাতালেও করা যাবে চার ধরনের অস্ত্রোপচার—হার্নিয়া, হাইড্রোসিল, ফিসারেক্টমি এবং জরুরি ভিত্তিতে আর্থোস্কোপিক সার্জারি। ইতিমধ্যেই এই সংক্রান্ত নয়া নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প চালু হওয়ার পর এতদিন এই চারটি অস্ত্রোপচার বেসরকারি হাসপাতালে করার অনুমতি ছিল না। স্বাস্থ্য দপ্তরের যুক্তি ছিল, সরকারি হাসপাতালগুলিতে এই ধরনের অপারেশনের জন্য যথেষ্ট উন্নত পরিকাঠামো ও দক্ষ চিকিৎসক রয়েছেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, রোগীদের অনেক ক্ষেত্রেই দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে অস্ত্রোপচারের তারিখ পাওয়ার জন্য। কোথাও তারিখ মিলছে না, কোথাও আবার মাসের পর মাস দেরি হচ্ছে। ফলে রোগীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছিলেন।
এই পরিস্থিতি বিবেচনা করেই ‘গেটকিপিং’ ব্যবস্থায় কিছুটা শিথিলতা আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনও সরকারি হাসপাতালে যদি হার্নিয়া, হাইড্রোসিল বা ফিসারেক্টমির অস্ত্রোপচার করতে পরিকাঠামোগত সমস্যা থাকে এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক লিখিতভাবে তা উল্লেখ করেন, তাহলে রোগী স্বাস্থ্যসাথী কার্ড ব্যবহার করে বেসরকারি হাসপাতালে সেই অস্ত্রোপচার করাতে পারবেন।
তবে আর্থোস্কোপিক সার্জারির ক্ষেত্রে নিয়ম কিছুটা আলাদা। শুধুমাত্র দুর্ঘটনাজনিত গুরুতর চোটের ক্ষেত্রে জরুরি ভিত্তিতে আর্থোস্কোপি বেসরকারি হাসপাতালে করা যাবে। অর্থাৎ, যে অপারেশন পরে করা সম্ভব (কোল্ড-ওটি), সেই ধরনের ক্ষেত্রে বেসরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্যসাথীর সুবিধা মিলবে না।
স্বাস্থ্য দপ্তরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “সাধারণ মানুষের স্বার্থের কথা মাথায় রেখেই গেটকিপিং ব্যবস্থায় এই সীমিত ছাড় দেওয়া হয়েছে। যাতে প্রয়োজনীয় রোগীরা সময়মতো চিকিৎসা পান।”
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করা হয়েছে নতুন নির্দেশিকায়। বেসরকারি হাসপাতালে এই অস্ত্রোপচারগুলি শুধুমাত্র সেই হাসপাতালের নিজস্ব শল্য চিকিৎসকরাই করতে পারবেন। অর্থাৎ, কোনও সরকারি হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক যদি কোনও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তবে তিনি সেখানে স্বাস্থ্যসাথীর আওতায় এই অপারেশন করতে পারবেন না। এর উদ্দেশ্য, সরকারি চিকিৎসকদের মাধ্যমে রোগীকে ইচ্ছাকৃতভাবে বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানোর প্রবণতা রোধ করা।
স্বাস্থ্য দপ্তরের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, কিছু ক্ষেত্রে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকেরা নানা অজুহাতে রোগীকে বেসরকারি হাসপাতালে রেফার করছেন এবং পরে সেখানেই অপারেশন করছেন। এই অনিয়ম ঠেকাতেই নতুন নির্দেশিকায় পরিষ্কার বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে এই পরিবর্তন একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের চিকিৎসা পাওয়ার পথ সহজ করবে, তেমনই অন্যদিকে স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার চেষ্টা করবে রাজ্য সরকার। এখন নজর থাকবে, নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর রোগীদের ভোগান্তি কতটা কমে এবং চিকিৎসা পরিষেবা কতটা দ্রুত ও কার্যকর হয়।