শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
‘কখনো ‘যুব সাথী’ কখনো ‘যুবশ্রী’, নাম পাল্টে ভাঁওতা দেওয়ার অভ্যাস একই।’ এভাবেই ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে বাংলার বেকার যুবক-প্রতিদের জন্য বেকার ভাতা হিসেবে বাংলার যুব সাথী প্রকল্প চালু করেছেন সেই প্রকল্প আসলে ভাঁওতাবাজি বলে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এ প্রসঙ্গে আগেই শুভেন্দু অধিকারী ২০১৭ সালের যুবশ্রী প্রকল্পের উদাহরণ টেনে এনেছিলেন।
সম্প্রতি রাজ্য বিধানসভায় পাশ হয়েছিল বাজেট। সেখানে ‘বাংলার যুব সাথী’ নামে একটি নতুন প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। যে প্রকল্পে পাঁচ বছর পর্যন্ত মাসিক ১৫০০ টাকা করে পাওয়া যাবে। কিন্তু এই প্রকল্পকে তীব্র আক্রমণ করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এক ব্যক্তির কমেন্ট শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, সাধারণ মানুষকে লাইনে দাঁড় করানো বিষয়টি বদভ্যাসে পরিণত করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
জনৈক সুপ্রতিম চন্দ্র সরকার নামে এক ব্যক্তির সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের স্ক্রিনশট নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে তার বক্তব্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করে বিরোধী দলনেতা লিখেছেন, ‘আমার ব্যক্তিগত মতামত হলো এই ভদ্রলোকের বক্তব্য সম্পূর্ণ সঠিক কারণ শুধু উনি একা নন, ওনার মতোই সতেরো লক্ষ যুবক/যুবতী একই রকম ভাবে ফর্ম ভরে প্রতারিত হয়েছিলেন।
আর ইদানিং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানুষ কে অযথা লাইনে দাঁড় করানো বদভ্যাসে পরিণত করেছেন। যে কাজ আজকের দিনে অত্যন্ত সহজে বাড়িতে বসে অনলাইনে করা যায়, অহেতুক তার জন্য পয়সা খরচ করে অমুক ক্যাম্পে যাও, তার পর দীর্ঘ সময় প্রতীক্ষা করো…

রাজনৈতিক স্বার্থে মানুষ কে হয়রানি ভোগান্তির অভিজ্ঞতা করানো ওনার আদর্শ কার্যপ্রণালী হয়ে গেছে। বিগত দু’মাস ধরে নিজের দলের অনুগত বিএলও দের ব্যবহার করে ইচ্ছাকৃত ভুল ত্রুটি ঘটিয়ে মানুষ কে এসআইআর এর শুনানিতে দাঁড়াতে বাধ্য করেছেন, এবার পালা বেকার যুবক যুবতীদের। তবে শুধু লাইনে দাঁড়ানোর হয়রানি নয়, সাথে দোসর পুলিশের মার!
উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ায়, মালদার চাঁচলে বেকার ভাতার আবেদন করতে গিয়ে জুটছে পুলিশের লাঠি! কখনো ‘যুব সাথী’ কখনো ‘যুবশ্রী’, নাম পাল্টে ভাঁওতা দেওয়ার অভ্যাস একই, কিন্তু দেউলিয়া রাজ্যে প্রতিভার মূল্যায়ন অস্তিত্বহীন ও শিল্প, কল-কারখানার অভাবে যুব সমাজের ভবিষ্যৎ হতশ্রী !!!
তাই প্রথম থেকেই জোর করে লাইনে দাঁড়াতে বাধ্য করে, বেকার বলে দাগিয়ে না দিয়ে, সসম্মানে বাড়ি থেকে ফর্ম পূরণ করার সুযোগ করে দিলেই ভালো হতো। ক্যাম্পে পুলিশ ও মোতায়েন করার প্রয়োজন হতো না। আর এমনিতেই পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের চাকরিপ্রার্থীদের, পরীক্ষা দিয়ে চাকরি না পাওয়া ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির কারণে চাকরি হারা ‘বেকার’-দের পেটানোর অভ্যাস রয়েছে, বেকার ভাতার আবেদনকারীদের আবার কেন পুলিশের লাঠির ঘা খাওয়ানো?’