শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
বাংলায় একুশের বিধানসভার নির্বাচনের আগে বিজেপির নেতাদের মুখে শ্লোগান উঠেছিল জয় শ্রীরাম। তবে বাংলার মানুষ যে জয় শ্রীরাম স্লোগান আত্মস্থ করতে পারেননি বলেই বিজেপিকে প্রত্যাখ্যান করেছে তা বোঝার পরেই ২০২৬ সালের বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে কয়েক মাস আগে দুর্গাপুরে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মুখে শোনা গিয়েছিল জয় মা দূর্গা এবং জয় মা কালী।
প্রধানমন্ত্রীর পদাঙ্ক অনুসরণ করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ গত মাসেই কলকাতায় এসে পুজো দিয়েছিলেন কালীঘাটের কালী মায়ের মন্দিরে। বাংলার ধর্ম ও সমাজ এবং সংস্কৃতির সঙ্গে নিজেদের মিলিয়ে দেওয়ার যে প্রচেষ্টা দুর্গাপুরের মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী করেছিলেন বুধবার তারই ফলশ্রুতি দেখা গেল নদীয়ার মায়াপুরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মুখে হরে কৃষ্ণ ধ্বনি শুনে।
বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘন্ট ঘোষণার আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর বঙ্গ সফর যে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক কারণে এমনটাই আশা করেছিলেন তৃণমূল বিজেপি থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ। কিন্তু আজ মায়াপুরের মঞ্চে উঠেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ অপ্রত্যাশিতভাবে ঘোষণা করেন, ‘আজ আমি এখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে নয়, বরং চৈতন্য মহাপ্রভুর ভক্ত হিসাবে এসেছি।’ আগে বহুবার মায়াপুরে আসার ইচ্ছা থাকলেও যে তা বারবার পিছিয়ে গিয়েছিল, তা নিয়ে আক্ষেপও ধরা পড়ে শাহের বক্তব্যে।
শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর মহারাজের ১২৫তম জন্ম উৎসব উপলক্ষে এদিন মায়াপুরে বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দেন অমিত শাহ। সেখানে পৌঁছেই প্রথমে মন্দিরে পুজো দেন। এরপর সরাসরি মঞ্চে বক্তব্য রাখেন শাহ। ভক্তদের সামনে প্রধানমন্ত্রীর বার্তাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘মায়াপুরে আসার আগে সকালেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। মায়াপুর আসার কথা আমি তাঁকে জানিয়েছিলাম। উনি মন থেকে মায়াপুরের সকল ভক্তদের ‘হরে কৃষ্ণ’ অভিবাদন জানিয়েছেন।’
মায়াপুরের মঞ্চে উঠেই বুধবার অমিত শাহ প্রথমে বলেন, ‘চৈতন্যদেব ভক্তি আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন। গোটা বিশ্বে এই আন্দোলন ছড়িয়েছিলেন। একটা গোটা জীবন শ্রীকৃষ্ণকে দিয়ে দেওয়া যথেষ্ঠ কঠিন বিষয়। এখানে এসে চেতনা জাগ্রত করার সুযোগ পেলাম।’ প্রথমেই তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, আজ তিনি এখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে আসেননি। তখনই তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন ভোটের আগে বঙ্গে এলেও অন্তত এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে কোনও রাজনৈতিক বার্তা দেবেন না। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আধুনিকতা ধর্মের শত্রু নয়। শ্রীকৃষ্ণের প্রতি ভক্তি অচল, তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা অটুট তখনই সব বাধা পেরিয়ে যাওয়া যায়। আমি আমার জীবনে অনেক বড় বড় ধর্ম পুরুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। তবে আমেদাবাদের একজন সাধু বলেছিলেন, উনি আমার সেবক। এই ভাবনা মনে থাকলে ঈশ্বর দূরে থাকে না। ভক্তি সিদ্ধান্ত স্বামীকে বলব, আপনিই যথার্থই একজন গুরু। ভক্তি সিদ্ধান্ত স্বামী জন্ম থেকে ব্রাহ্মণ ছিলেন না। বৈরাগ্য হল- খারাপ জিনিস দূর করে ভক্তি শ্রীকৃষ্ণের পায়ে অর্পণ করা।’ শুধু চলে যাওয়ার আগে বলে গেলেন, ‘হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ…।’

মায়াপুরে অমিত শাহের আসা নিয়ে মন্তব্য করেছেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, ‘ডেইলি প্যাসেনজারি। ভোট আছে বলে ইস্কনে অমিত শাহ। বাংলায় ইসকনের রথযাত্রায় মমতা আমন্ত্রিত থাকেন। মন্দিরের জমি জট মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই সমাধান করেছেন। পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের দায়িত্বে ইসকন। কাগজ পড়ে বক্তৃতা তো দিলেন। কিন্তু চিন্ময় প্রভু বাংলাদেশের জেলে আটকে পরে আছেন। আপনার কেন্দ্র কী করছে? চৈতন্য ও কৃষ্ণের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা এটা নয়।’