সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
‘কোচবিহার ও রাজবংশীদের জন্য বিজেপি কিছু করেনি।’ মমতার হাত থেকে বঙ্গসম্মান নেওয়ার পরেই বিজেপির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন উত্তরবঙ্গের বিজেপি সাংসদ অনন্ত মহারাজ। আর তাতেই বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্টক ঘোষণার বহু আগে রীতিমতো রাজনৈতিক চাপে পড়ে গেল উত্তরবঙ্গে বিজেপির সাংগঠনিক ক্ষমতা।
আন্তর্জাতিক মাতৃ ভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে একই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজ। দেশপ্রিয় পার্কে এদিন মুখ্যমন্ত্রীর ভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে বিজেপি সাংসদকে ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মানে সম্মানিত করা হয়।
চলতি সপ্তাহেই কার্শিয়াংয়ের বিজেপি সাংসদ বিষ্ণু প্রসাদ শর্মা তৃণমূলে যোগ দেন। এবার কী তাহলে বিজেপি ছাড়ছেন অনন্ত মহারাজ? ভোটের আগে রাজ্যজুড়ে জোর জল্পনা তুঙ্গে। শনিবার রাজ্য সরকারের বঙ্গবিভূষণ সম্মান পেয়ে গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন রাজ্যসভার বিজেপি সাংসদ অনন্ত মহারাজ। কোচবিহার ও রাজবংশীদের জন্য বিজেপি কিছু করেনি বলে সরব হলেন তিনি। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী অনন্ত মহারাজের কাঁধে উত্তরীয় পরিয়ে স্মারক তুলে দেন। উত্তরবঙ্গে রাজবংশী ভোটব্যাঙ্কে তাঁর প্রভাবের কথা মাথায় রেখে এই ঘটনাকে নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ বলে মানতে নারাজ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। তাঁদের মতে, ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত থাকতে পারে এই ঘটনায়।
এদিকে, বঙ্গবিভূষণ সম্মান তুলে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনন্ত মহারাজের প্রশংসা করলেন। মমতা বলেন, রাজবংশীদের জন্য কাজ করে চলেছেন অনন্ত মহারাজ। সম্মান পাওয়ার পর নিজের একটি কবিতা পড়ে শোনান অনন্ত মহারাজ। সেখানে আর কিছু বলেননি তিনি। কিন্তু, সম্মান পাওয়ার পর বাইরে বেরিয়ে এসে বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি বলেন, ‘কোচবিহার ও রাজবংশীদের জন্য বিজেপি কিছু করেনি।’ তাঁর অভিযোগ, বিজেপি শাসনে উত্তরবঙ্গের মানুষ, বিশেষ করে রাজবংশী সম্প্রদায় অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার হয়েছে। এলাকায় উল্লেখযোগ্য কোনও উন্নয়নমূলক কাজ হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের অগস্টে বাংলা থেকে বিজেপির টিকিটে রাজ্যসভার সাংসদ হন অনন্ত মহারাজ। তবে বেশ কিছুদিন ধরেই বিজেপির সঙ্গে তাঁর দূরত্ব সামনে এসেছে।

অনন্ত মহারাজের বঙ্গবিভূষণ সম্মান পাওয়া নিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘অনন্ত মহারাজ আমার সহকর্মী, আমার সতীর্থ। আমরা একইসঙ্গে রাজ্যসভায় পাশাপাশি বসি।আমার সতীর্থ যদি পুরস্কৃত হন, সম্মানিত হন, আমার কাছে এর চেয়ে আনন্দের কিছু নেই।’ তবে বিজেপির বিরুদ্ধে অনন্ত মহারাজ যা বলেছেন, সেই নিয়ে প্রশ্নের জবাব দেননি শমীক।