সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
বাংলায় একুশের বিধানসভা নির্বাচনের মতো জয় শ্রীরাম স্লোগান তুলে নয়, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মা কালী এবং জয় মা দুর্গার নামে স্লোগান তুলে বিজেপি বাংলায় লড়তে চায় বলে দুর্গাপুরের জনসভা থেকেই বুঝিয়ে দিয়েছিলেন মোদিকে। আর এবারের ভোটের দিনগুলো ঘোষণার আগেই বাংলার মানুষের উদ্দেশ্যে রীতিমতো খোলা চিঠি দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এখানে বাংলায় লেখা চিঠিতে, ‘প্রিয় পশ্চিমবঙ্গবাসী’কে উদ্দেশ্য করে ‘জয় মা কালী’ স্লোগান তুলে চিঠির বক্তব্য শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ কোন পথে এগোবে, তা নির্ভর করছে মানুষের সচেতন সিদ্ধান্তের উপরেই। চিঠিতে তাঁর দাবি, তাঁর স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’র নারী, পুরুষ ও শিশুরা আজ বঞ্চনার শিকার, আর সেই যন্ত্রণা তাঁকে ব্যথিত করছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, পশ্চিমবঙ্গকে উন্নত ও সমৃদ্ধ রাজ্যে রূপান্তরিত করতে তিনি বদ্ধপরিকর এবং উন্নয়ন ও পরিবর্তনের পথে রাজ্যকে এগিয়ে নেওয়ার ডাক দেন। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী রাজ্যে অনুপ্রবেশের প্রসঙ্গ তুলে উদ্বেগ জানান তিনি এবং মহিলাদের নিরাপত্তাকে ভারতীয় জনতা পার্টি-র অগ্রাধিকারের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন।
চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী আক্ষেপ করে বলেন, স্বামী বিবেকানন্দ ও শ্রী অরবিন্দ-এর স্বপ্নের বাংলা আজ সংকীর্ণ ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতি, হিংসা ও অরাজকতার দিকে এগোচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে তিনি মানুষকে সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান। চিঠিতে তিনি আরও অভিযোগ করেন, সীমান্তবর্তী রাজ্য হিসেবে অনুপ্রবেশের সমস্যা ক্রমেই বাড়ছে, যা রাজ্যের নিরাপত্তা ও জনজীবনে প্রভাব ফেলছে। পাশাপাশি, নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাঁদের অন্যতম বড় প্রতিশ্রুতি বলেও জোর দিয়ে উল্লেখ করেন তিনি।
কি লিখেছেন মোদি
বাংলার মানুষের উদ্দেশ্যে লেখা খোলা চিঠিতে মোদি লিখেছেন, ‘আর মাত্র কয়েক মাস, তারপরেই নির্ধারিত হবে পশ্চিমবঙ্গের ভাগ্য। আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ কোন পথে চালিত হবে, তার গুরুদায়িত্ব নির্ভর করছে আপনার একটি সুচিন্তিত সিদ্ধান্তের উপর। আমার স্বপ্নের সোনার বাংলার আবালবৃদ্ধবনিতা আজ চরম বঞ্চনার শিকার৷ তাঁদের যন্ত্রণায় আমার হৃদয়ও আজ ভারাক্রান্ত। তাই অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে আমি একটিই সংকল্প গ্রহণ করেছি, পশ্চিমবঙ্গকে বিকশিত ও সমৃদ্ধ করে তোলার সংকল্প।
প্রধানমন্ত্রী চিঠিতে রাজ্য সরকারের উদ্দেশ্যে আক্রমণ শানিয়ে পশ্চিবঙ্গের মানুষকে বিবিধ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘রাজ্যের চরম অসহযোগিতা সত্ত্বেও জন-ধন যোজনায় উপকৃত হয়েছেন পশ্চিবঙ্গের ৫ কোটি মানুষ। স্বচ্ছভারত অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যে ৮৫ লক্ষ শৌচালয় নির্মাণ হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের রুগ্ন ও জীর্ণ দশা দেখে আমার হৃদয় ব্যথিত। গত ছয় দশকের অপশাসন ও তোষণের রাজনীতির কারণে পশ্চিবঙ্গের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। কর্মসংস্থানের অভাবে ভিন রাজ্যে পাড়ি দিচ্ছেন যুবকরা। নিরাপত্তার অভাবে পশ্চিমবঙ্গের মা-বোনেরা শঙ্কিত।’
কিছুদিন আগে শ্রীরামকৃষ্ণের ১৯১তম জন্মতিথিতে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে সোশাল মিডিয়ায় তাঁর নামের আগে ‘স্বামী’ শব্দ উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তা নিয়ে বাঁধে বিস্তর রাজনৈতিক কাজিয়া। তা-সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গবাসীকে লেখা চিঠি ভরা রইল বাঙালি মনীষীদের নাম। প্রধানমন্ত্রী লিখলেন, ‘স্বামী বিবেকানন্দ, ঋষি অরবিন্দের মতো যুগ পুরুষরা যে পশ্চিমবঙ্গের স্বপ্ন দেখেছিলেন…তা আজ ভোটব্যাঙ্কের সংকীর্ণ রাজনীতি, হিংসা, নৈরাজ্যে জর্জরিত। এটা আমার কাছে এবং সমগ্র পশ্চিমবঙ্গবাসীর কাছে অত্যন্ত পীড়াদায়ক। আজ এই পুণ্যভূমি অনুপ্রবেশ ও নারী নির্যাতনে কলঙ্কিত। কবিগুরুর সোনার বাংলায় আজ ভুয়ো ভোটারের দাপট। নৈরাজ্যের অন্ধকারে ডুবতে থাকা পশ্চিমবঙ্গকে নিয়ে আজ সারা দেশ চিন্তিত।’