কনিষ্ক সামন্ত। কলকাতা সারাদিন।
একটি অঙ্গরাজ্যের বিধানসভায় দাঁড়িয়ে যারা দেশকে ছোট করেন তারা ভারতপ্রেমী হতে পারেন না। বৃহস্পতিবার বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইল সহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারতের বিদেশ নীতি নিয়ে যে মন্তব্য করেছিলেন তাকে দেশদ্রোহী মন্তব্য করে বিষ্ফোরক অভিযোগ করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, বিদেশ মন্ত্রক নিয়ে কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর বলার অধিকার নেই। তিনি দেশকে ছোট করেছেন। তিনি চান পশ্চিমবঙ্গকে বাংলাদেশ বানাতে। এই রাজ্যও যাতে জামাতের হাতে চলে যায় সেটাই উনি চান।
শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, যে ভাষায় উনি বক্তব্য রেখেছেন, তা একেবারেই অনৈতিক। বাংলাদেশের মুসলমান ও রোহিঙ্গাদের বাঁচানোর জন্য এই বাংলা ও বাঙালির খেলা কেউ বিশ্বাস করছে না।
পাশাপাশি, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন, চলতি মাসেই দমদম বিধানসভা এলাকায় বড়সড় প্রতিবাদ মিছিল এবং সভার আয়োজন করবেন তিনি। গত মঙ্গলবার বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে বাংলা ও বাঙালি সম্প্রদায়ের উপর বিজেপি-শাসিত রাজ্যের আক্রমণের প্রতিবাদে প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। সেই সময় শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু সেনাবাহিনীর আন্দোলনের মঞ্চ ভেঙে দেওয়ার প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বাংলাদেশের ১৯৭১ সালের পাক সেনার হামলার প্রসঙ্গ টেনে আনেন। এই বক্তব্যেই ক্ষুব্ধ হন বিজেপি বিধায়কেরা। সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদে সরব হন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে অধিবেশন থেকে সাসপেন্ড করেন।
অধিবেশন ছেড়ে বেরিয়েও বিষয়টি নিয়ে একইভাবে প্রতিবাদ জানান শুভেন্দু। তিনি সামাজিক মাধ্যমে ব্রাত্যের মন্তব্যের রেকর্ডিং ছড়িয়ে দিতে শুরু করেন। বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করছে, রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী দেশের সেনাবাহিনীকে অপমান করেছেন, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তাঁদের বক্তব্য, এই বার্তাটি দমদমের ভোটারদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। তাই উৎসবের মরশুম শুরুর আগেই সেখানে সভা ও মিছিলের আয়োজন করতে চলেছেন বিরোধী দলনেতা।
অন্যদিকে, ৫ সেপ্টেম্বর রাজ্য জুড়ে পালিত হচ্ছে শিক্ষক দিবস। প্রত্যেক বছর এই দিনটি অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে স্কুল, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পালন করেন ছাত্র ছাত্রীরা। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও এই কর্মসূচি পালন করা হয়। শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আজ মেদিনীপুরের বিভিন্ন জায়গায় সকাল থেকেই উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু। যেখানে কাঁথির একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর নন্দীগ্রামে সেই শিক্ষকদের সংবর্ধনা জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে যুক্ত হলেন তিনি। এদিন সাত সকালে কাঁথিতে শিক্ষক এবং কৃতি ছাত্র-ছাত্রীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আর তারপরেই তিনি পৌঁছে যান নন্দীগ্রাম এলাকায়। যেখানে নন্দীগ্রাম ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির শিক্ষা দপ্তরের উদ্যোগে শিক্ষক দিবস উপলক্ষে শিক্ষকদের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আর সেই অনুষ্ঠানেই উপস্থিত হন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা।