সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার যেমন অনুরোধ করেছেন, সুপ্রিম কোর্ট এখন স্পষ্টভাবে সেই নির্দেশ দিচ্ছে।’ বাংলার ভোটার তালিকায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য জাতীয় নির্বাচন কমিশনের উপরে সম্পূর্ণভাবে আস্থা না রেখে যেভাবে কলকাতা হাইকোর্টের তত্ত্বাবধানে ভিন রাজ্যের বিচারপতিদের দিয়ে কাজ করানোর নির্দেশ দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত, তাকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয় বলেই দেখছে বাংলার শাসক দল তৃণমূল।
এই রায়ের পর নির্বাচন কমিশনের বিরোধিতায় আরও প্রবলভাবে সরব হয়েছে বাংলার শাসকদল। তাদের অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ায় কার্যত নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তার জন্য জটিলতা আরও বেড়েছে। নিজেদের এক্স হ্যান্ডেলে তৃণমূল লেখে, ‘সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনের অযোগ্যতা এবং ব্যর্থতার ফলে সৃষ্ট বিশাল বাধা মোকাবিলায় প্রতিবেশী রাজ্য থেকে বিচারকদের মোতায়েনের অনুমতি দিতে বাধ্য হয়েছে। এই হস্তক্ষেপ নিজেই অনেক কিছু বলে।’
মঙ্গলবার, সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক অনুমোদিত সমস্ত নথি, যার মধ্যে আধার এবং মাধ্যমিক অ্যাডমিট কার্ড অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় দাবি এবং আপত্তি নিষ্পত্তির জন্য গ্রহণ করতে হবে। স্যোশাল মিডিয়া পোস্টে সরাসরি বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে এক বন্ধনীতে রেখে তৃণমূল লেখে, ‘আদালত ফের বলেছে যে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক অবহিত বা পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক অনুমোদিত সমস্ত নথি, যার মধ্যে আধার এবং মাধ্যমিক প্রবেশপত্র অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, বিচারাধীন দাবি এবং আপত্তি নিষ্পত্তির জন্য গ্রহণ করতে হবে। এই স্পষ্ট নির্দেশ বিজেপি-ইসিআই-এর লক্ষ্যবস্তু পরিবর্তন এবং ডকুমেন্টারি মান নিয়ন্ত্রণের যথেচ্ছ প্রচেষ্টাকে ভেঙে দেয়। বাংলায় ভোটারদের বেছে বেছে লক্ষ্যবস্তু করার, ভয় দেখানোর এবং হয়রানির ষড়যন্ত্র আবারও একটি দৃঢ় আদালত কর্তৃক বাধার সম্মুখীন হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলিকে আইনের সীমানার মধ্যে কাজ করতে হবে, দলীয় স্বার্থের নির্দেশে নয়।’ তৃণমূল সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে লিখেছেন, ‘বাংলায় ভোটারদের বেছে বেছে টার্গেট, ভয় দেখানো এবং হয়রানির ষড়যন্ত্র আবারও একটি দৃঢ় বিচারিক বাধার সম্মুখীন হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলিকে আইনের সীমানার মধ্যে কাজ করতে হবে, দলীয় স্বার্থের নির্দেশে নয়।’
অবশ্য বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য পালটা তৃণমূলকেই দুষেছেন। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে তাঁর প্রতিক্রিয়া, ‘ভিনরাজ্য থেকে বিচারপতি গোটা প্রক্রিয়াকে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার প্রথম থেকে বাধা দিয়ে আসছে। সব জায়গায় সকলে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে। সিএমও-তে নিয়োগের জন্য বিক্ষোভ চলছে। নির্বাচন কমিশনের ব্যাপার সেটা। এখানকার বিচারপতিরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। প্রক্রিয়া শেষ করতে ভিনরাজ্য থেকে আসতে হবে।’