West Bengal DA Arrears Supreme Court Case নিয়ে ফের উত্তাল রাজ্য রাজনীতি এবং সরকারি কর্মচারী মহল। বহু প্রতীক্ষিত এই মামলার শুনানি পিছিয়ে গেল সুপ্রিম কোর্টে। রাজ্য সরকারের তরফে দুই মাস সময় চাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত সোমবার শুনানিতে বিষয়টি বিশদে শুনতে চেয়েছে।
কী বলেছে রাজ্য সরকার?
সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি জানান, ডিএ বকেয়া কত টাকা, তা নির্ধারণের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কিন্তু এখনও হিসাব চূড়ান্ত হয়নি। তাঁর যুক্তি, হাইকোর্ট বা ট্রাইব্যুনাল কোথাও টাকার নির্দিষ্ট অঙ্ক বলা হয়নি। তাই বিষয়টি স্পষ্ট করতে এবং হিসাব তৈরি করতে সময় প্রয়োজন।
তবে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে, এই মামলার জাতীয় গুরুত্ব রয়েছে, এবং দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন। বিচারপতি সঞ্জয় কারোল ও প্রশান্ত মিশ্র জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সকাল থেকেই শুনানি শুরু হবে, এবং প্রয়োজনে প্রতিদিন শুনানি চলবে।
মামলাকারীদের বক্তব্য কী?
সরকারি কর্মীদের পক্ষে আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টের আগের নির্দেশ অমান্য করেছে। ২৭ জুনের মধ্যে ২৫% বকেয়া DA মেটানোর নির্দেশ দেওয়া হলেও তা মানা হয়নি। তাঁর দাবি, এবার ১০০% বকেয়া DA-ই অবিলম্বে মেটাতে হবে।
সরকারি কর্মচারীদের সংগঠনগুলির দাবি, রাজ্য সরকার পরিকল্পিতভাবে বিষয়টি ঘোলাটে ও জটিল করে তুলছে। এক নেতা বলেন, “কমিটি গঠন করে আরও সময় নেওয়ার অজুহাত খোঁজা হচ্ছে। রাজ্যের হাতে সমস্ত ডেটাবেস থাকলেও, বিলম্বই একমাত্র কৌশল।”
রাজ্যের আর্থিক যুক্তি মানছে না আদালত?
রাজ্যের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, যদি ৫০% বকেয়া DA দিতে হয়, তা হলে ৪০ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন। এই অর্থ রাজ্য সরকারের পক্ষে জোগাড় করা কঠিন। অথচ, কর্মচারীদের অভিযোগ, “যখন পুজো অনুদান বা প্রচার খাতে খরচ হয়, তখন টাকা আসে কোথা থেকে?”
বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা ৫৫% DA পান, যেখানে রাজ্যের কর্মীরা পান মাত্র ১৮%। এই ফারাক নিয়ে বহুদিন ধরেই DA parity-র দাবি উঠেছে।
সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, বিষয়টি আর শুধু আর্থিক দায় নয়, এটি রাজ্যের কর্মচারীদের অধিকার ও মর্যাদার সঙ্গে যুক্ত। তাই এই মামলার পূর্ণাঙ্গ শুনানি অত্যন্ত জরুরি। আদালতের কথায়, “এই মামলার সঙ্গে বহু সরকারি কর্মীর ভবিষ্যৎ জড়িত। তাই দ্রুত নিষ্পত্তি আবশ্যক।”
রাজ্য সরকারের আবেদনে সুপ্রিম কোর্ট এখনই সময় দেয়নি। শুনানি শুরু হবে মঙ্গলবার। West Bengal DA Arrears Supreme Court Case-এর এই শুনানি থেকেই স্পষ্ট হবে—
রাজ্য সরকারকে কত টাকা মেটাতে হবে
কত দিনের মধ্যে সেই টাকা দেওয়া হবে

আদালত আদেশ অমান্য করার জন্য কী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে
West Bengal DA Arrears Supreme Court Case শুধু একটি বকেয়া অর্থপ্রাপ্তির মামলা নয়, এটি সরকারি কর্মীদের প্রতি প্রশাসনের দায়বদ্ধতার পরীক্ষা।
শুনানি পিছিয়ে যাওয়া ও রাজ্যের বারবার সময় চাওয়ায় সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে।
এই পরিস্থিতিতে, শীর্ষ আদালতের রায়-ই এখন একমাত্র ভরসা।