শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
‘শহিদদের বলিদান, ভুলবে না নন্দীগ্রাম… বশ্যতা বিরোধের সংগ্রাম, আজও ভুলিনি নন্দীগ্রাম।’ এভাবেই আজ নন্দীগ্রাম গণহত্যা দিবস উপলক্ষে শহীদদের স্মরণ করলেন বাংলার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি লেখেন, অভিশপ্ত ১৪ই মার্চ ২০০৭… বশ্যতা বিরোধী নন্দীগ্রাম জমি রক্ষার আন্দোলনে তৎকালীন পুলিশ ও হার্মাদ বাহিনীর নৃশংস আক্রমণে নিহত নন্দীগ্রামের শহিদদের প্রতি আমার বিনম্র শ্রদ্ধা ও প্রণাম নিবেদন করি।’
২০০৮ সাল থেকেই তৃণমূলের নেতৃত্বে ভুমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটি ১৪ মার্চ দিনটিকে ‘নন্দীগ্রাম দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে। সেইসময় তৃণমূলে ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী, তিনিও এই নন্দীগ্রাম আন্দোলনের হাত ধরেই রাজ্য রাজনীতির অন্যতম মুখ হয়ে উঠেছিলেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের কয়েকমাস আগেই তিনি যোগ দেন বিজেপিতে। বর্তমানে তিনি বিরোধী দলনেতা এবং নন্দীগ্রামের বিধায়ক। গত কয়েক বছর ধরে এই দিনে বিজেপির তরফেও পৃথক কর্মসূচি পালন করা চলছে।
অন্যদিকে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রাজনৈতিক জনসভার মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীকে উত্তরীয় পরিয়ে অভ্যর্থনা জানান বিরোধী দলনেতা। আর সেই সভা থেকেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
তিনি বলেন, ‘যাঁরা রাষ্ট্রের বিরোধিতা করছে, তাঁদের কর্ণগোচর হওয়া দরকার। জোরে বলুন, ‘জয় শ্রীরাম’। লক্ষ লক্ষ মানুষ এসেছেন, তাঁদের সকলকে ধন্যবাদ।’ শুভেন্দুর সংযোজন, ‘রাজ্যের বিরোধিতা দলনেতা হিসেবে দল দিয়েছে সেটা গত পাঁচ বছর নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছি। প্রণাম নিবেদন করি নরেন্দ্র মোদীকে। ১৮ হাজার ৭০০ কোটি টাকার উন্নয়ন দিয়েছেন আজ প্রধানমন্ত্রী। পরিবর্তনের সংকল্প আজ নিতে হবে এই মঞ্চ থেকে। বাঁচতে চাই বিজেপি তাই। চোর মুক্ত, অনুপ্রবেশ মুক্ত, জঙ্গি মুক্ত, জিহাদী মুক্ত বাংলা চাই, বিজেপি তাই। মোদিজি বলেছেন পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষা শিল্প সব কিছুতে বাংলা এগিয়ে। মোদিজির নেতৃত্বে আমরা স্বপ্নের বাংলা গড়ব। পাল্টানো দরকার, তাই বিজেপি সরকার।’
বিরোধী দলনেতার পাশাপাশি বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘১২০টি দেশকে কোভিডের সময় সাহায্য করেছেন। যিনি স্বপ্ন দেখতে পারেন এবং সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতেন, সেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদী এখানে উপস্থিত হয়েছেন। এমন ভোটার লিস্ট কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি, সকল দেশের রানি সে যে আমার বঙ্গভূমি। এখানে গণতন্ত্র আক্রান্ত, বিরোধী দলনেতা আক্রান্ত। এমনকি, রাষ্ট্রপতিও বাদ যায় না।

তৃণমূলের বিদায় নিশ্চিত। তৃণমূল পশ্চিমবঙ্গে আর ক্ষমতায় ফিরছে না। আপনারা শান্তিপূর্ণ ভাবে বাড়ি ফিরতে পারবেন। মনে রাখবেন, মানুষ যাঁর উপর ভরসা রাখেন সেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এখানে উপস্থিত।’