শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন পেশ করার দিনে কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্বের নির্দেশে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।
এবারে খড়গপুর থেকে দিলীপ ঘোষের মনোনয়নপত্র পেশ করার জন্য দিলীপ ঘোষের রথে সওয়ার হলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বাংলায় আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এইভাবে বিজেপির আদি এবং নব্য দই গোষ্ঠীর দুই নেতাকে এক ফ্রেমে নিয়ে এসে রীতিমতো মাস্টার স্ট্রোক দিল বঙ্গ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব।
শনিবার দুপুর ২ টো নাগাদ বর্ণাঢ্য রোড শো করে নির্বাচনী মনোনয়ন পেশ করেন খড়গপুর সদরের বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ। দিনভর তাঁর সঙ্গী ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। দিলীপের মনোনয়নে উপস্থিত ছিলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তাও। খড়গপুর মহকুমা শাসকের দফতরে মনোনয়ন জমা দেন দিলীপ। সকালে প্রায় ১০টা নাগাদ খড়গপুরের রাম মন্দিরে পুজো দিয়ে কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে মিছিল শুরু করেন দিলীপ ঘোষ। গোলবাজার এলাকা অতিক্রম করে সেই মিছিল পৌঁছয় খড়গপুর মহকুমা শাসকের কার্যালয়ে, যেখানে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন জমা দেন। হুড খোলা ট্যাবলোয় পাশাপাশি দাঁড়িয়ে শুভেন্দু ও দিলীপকে নিজেদের মধ্যে কথা বলতে ও হাসতে দেখা যায়। জনতার উদ্দেশে হাত নেড়ে অভিবাদনও করেন দুই নেতা।
একটা সময় দুজনের সম্পর্কটা সাপে-নেউলে হয়ে গিয়েছিল। সেইসব ভুলে কাছাকাছি এলেন রাজ্য বিজেপির দুই যুযুধান নেতা শুভেন্দু অধিকারী ও দিলীপ ঘোষ। হুড খোলা ট্যাবলোয় রোড শোয়ের মাঝে এদিন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু ও প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ একে অপরের গলায় মালা পরিয়ে দিলেন। অবিভক্ত মেদিনীপুরের দুই দাপুটে বিজেপি নেতা শুভেন্দু-দিলীপ দুজনেই বুঝিয়ে দিলেন দলের স্বার্থে তারা আবার এক হয়েছেন। মালাবদলের আগে শুভেন্দুর মাথায় পাগড়িও পরান দিলীপ। শুভেন্দু বেশ কিছুক্ষণ গল্প করেন দিলীপের সঙ্গে। দেখেই বোঝা যায়, দুজনের মধ্যে সম্পূর্ণের বরফ গলেছে। এমনও শোনা যাচ্ছে, শুভেন্দু ফের খড়গপুরে এসে দিলীপের সমর্থনে জনসভা করতে পারেন, আবার দিলীপও নন্দীগ্রামে বিরোধী দলনেতাকে জেতাতে ঝাঁপাতে পারেন। দীঘার জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনের সময় শুভেন্দু-দিলীপের মধ্যে বড় দূরত্ব তৈরি হয়েছিল।

প্রসঙ্গত, ভবানীপুরের পাশাপাশি পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম থেকে প্রার্থী হয়েছেন শুভেন্দু। আর খড়গপুর সদর থেকে প্রার্থী হয়েছেন দিলীপ ঘোষ। দাঁতনের জনসভা থেকে শুভেন্দু দাবি করেছেন অবিভক্ত মেদিনীপুরের ৩৫টি আসনের মধ্যে ৩০টি-র বেশিতে জয়ী হবে বিজেপি। প্রসঙ্গত, পূর্ব মেদিনীপুরে ১৬টি, পশ্চিম মেদিনীপুরে ১৫টি ও ঝাড়গ্রামে ৪টি বিধানসভা আসন আছে। গত বিধানসভা নির্বাচনে এই ৩৫টি-র মধ্যে বিজেপি মাত্র ৯টি-তে জয়ী হয়েছিল। তার মধ্যে সাতটিই এসেছিল অধিকারী গড় পূর্ব মেদিনীপুর থেকে।