ভারতের অন্যতম বৃহৎ সরকারি ব্যাঙ্ক স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া (SBI) সম্প্রতি তাদের হোম লোন এবং গৃহসংক্রান্ত ঋণের সুদের হার বাড়ানোর ঘোষণা করেছে। এর ফলে হাজার হাজার ঋণগ্রহীতা নতুন আর্থিক চাপে পড়তে চলেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত গ্রাহকদের মাসিক ইএমআই (EMI) এবং ঋণ পরিশোধের মোট অঙ্ককে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেবে।
📌 কতটা বেড়েছে হোম লোনের সুদের হার?
আগে এসবিআই হোম লোনে সুদের হার থাকত ৭.৫০% থেকে ৮.৪৫%। কিন্তু ২৫ বেসিস পয়েন্ট বৃদ্ধির পর এখন সুদের হার দাঁড়িয়েছে ৭.৫০% থেকে ৮.৭০%। অর্থাৎ নিম্নসীমা অপরিবর্তিত থাকলেও ঊর্ধ্বসীমা বেড়েছে।
👉 নতুন সুদের হার কার্যকর হয়েছে ১ অগস্ট ২০২৫ থেকে।
📌 কেন বাড়ল হোম লোনের সুদ?
সাধারণত, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া (RBI) যখন রেপো রেট বাড়ায়, তখনই ব্যাংকগুলো সুদের হার বাড়ায়। তবে এবারে আরবিআই তাদের রেপো রেট ৫.৫৫% এ অপরিবর্তিত রেখেছে। তবুও এসবিআই আলাদা সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ আর্থিক চাহিদা, বাজার পরিস্থিতি এবং মুনাফার ভারসাম্য রাখতে গৃহঋণের সুদ বাড়ানো হয়েছে।
📌 কোন কোন ঋণে সুদ বেড়েছে?
এসবিআই শুধু হোম লোন নয়, একাধিক ধরণের ঋণের সুদ বাড়িয়েছে। যেমন –
🏡 হোম লোন (Term Loan): ৭.৫০% – ৮.৭০%
🏡 টপ-আপ লোন: ৮% – ১০.৭৫%
🏡 ওভারড্রাফ্ট টপ-আপ লোন: ৮.২৫% – ৯.৪৫%
🏡 প্রপার্টি লোন: ৯.২০% – ১০.৭৫%
🏡 রিভার্স মর্টগেজ লোন: ১০.৫৫% (ফিক্সড)
🏡 YONO Insta Home Top-Up Loan: ৮.৩৫%
📌 গ্রাহকদের কতটা চাপ বাড়বে?
ধরা যাক – একজন গ্রাহক ৩০ লক্ষ টাকার হোম লোন নিয়েছেন, মেয়াদ ২০ বছর।
আগে ৮.৪৫% সুদে EMI হত ২৫,৮৩০ টাকা
নতুন ৮.৭০% সুদে EMI হবে ২৬,২৭৮ টাকা
👉 অর্থাৎ মাসে ৪৫০ টাকা বাড়তি খরচ। বছরে প্রায় ৫,৪০০ টাকা।
২০ বছরে গ্রাহককে আগে ফেরত দিতে হত প্রায় ৬১.৯৯ লক্ষ টাকা। এখন দিতে হবে প্রায় ৬৩.০৬ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ বাড়তি খরচ দাঁড়াচ্ছে ১.০৭ লক্ষ টাকা।
যদি ঋণের অঙ্ক হয় ৫০ লক্ষ টাকা বা তার বেশি, তবে বাড়তি বোঝা দাঁড়াবে প্রায় ২ লক্ষ টাকা বা তারও বেশি।
📌 মধ্যবিত্ত ও তরুণ গ্রাহকদের চিন্তা বাড়ল
SBI দেশের সবচেয়ে বড় হোম লোন প্রদানকারী ব্যাঙ্ক। লাখ লাখ মানুষ বাড়ি কেনার স্বপ্ন পূরণ করতে এই ব্যাঙ্কের উপর নির্ভর করেন। কিন্তু নতুন সুদের হার তাদের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও তরুণ কর্মজীবী পরিবারগুলিকে EMI-এর অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হবে।
📌 গ্রাহকদের জন্য বিকল্প কী?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন –
EMI চাপ সামলাতে চাইলে ঋণের মেয়াদ বাড়ানো যেতে পারে।
একাধিক ব্যাংকের সুদের হার তুলনা করে ব্যালেন্স ট্রান্সফার লোন নেওয়া যেতে পারে।
বড় EMI কমাতে চাইলে প্রি-পেমেন্ট করা যেতে পারে।
তবে প্রতিটি বিকল্পেই কিছু বাড়তি শর্ত ও প্রসেস রয়েছে। তাই গ্রাহকদের উচিত ভালোভাবে হিসাব কষে পদক্ষেপ নেওয়া।
SBI Home Loan Interest Rate Hike 2025 নিঃসন্দেহে সাধারণ ঋণগ্রহীতাদের জন্য দুঃসংবাদ। ইতিমধ্যেই বাড়ির দাম ও মুদ্রাস্ফীতি সাধারণ মানুষের পকেটে চাপ ফেলেছে। তার উপর EMI-এর অতিরিক্ত বোঝা অনেকের আর্থিক পরিকল্পনা নষ্ট করে দেবে।
এখন দেখার বিষয়, অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকও কি এসবিআই-এর পথ অনুসরণ করে সুদের হার বাড়ায়, নাকি প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য গ্রাহকদের কিছুটা স্বস্তি দেয়।