সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
বিধানসভায় ফের শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে প্রিভিলেজ নোটিশ দিলেন পরিষদীয় মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। ‘সাম্প্রদায়িক বক্তব্য রেখেছেন বিরোধী দলনেতা।’ এই মর্মে তাঁর বিরুদ্ধে স্বাধিকার ভঙ্গের অভিযোগ আনা হল বিধানসভায়। পরের অধিবেশনে রিপোর্ট দেওয়া হবে।
গতকাল সাসপেন্ড হবার পরে, ‘হিন্দুত্ব….’ নিয়ে তাঁর মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই এই নোটিশ বলে তৃণমূল সূত্রে খবর। অধিবেশনের শুরুতেই অধ্যক্ষ স্বাধিকার ভঙ্গের নোটিশটি পড়েন। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, অরুপ বিশ্বাস, দেবাশিষ কুমার ও নির্মল ঘোষ এই নোটিশ আনেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে।
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সহ চার জন বিজেপি বিধায়ককে একমাসের জন্য ইতিমধ্যেই সাসপেন্ড করেছেন বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। শুভেন্দু অধিকারী ছাড়াও সাসপেন্ড করা হয়েছে অগ্নিমিত্রা পাল, বঙ্কিম ঘোষ এবং বিশ্বনাথ কারক। এর ফলে এক মাস বিধানসভার অধিবেশন বা আলোচনায় অংশ নিতে পারবেন না বিরোধী দলনেতা-সহ চার বিজেপি বিধায়ক।
এবার শুভেন্দুর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক বক্তব্য রাখার অভিযোগ এনেছেন শোভনদে চট্টপাধ্যায়-সহ ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, দেবাশিস কুমার, নির্মল ঘোষ। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে স্বাধিকার ভঙ্গের নোটিস ধরানো হল শুভেন্দুকে। যদিও শুভেন্দু কাল দাবি করেছিলেন, “হিন্দুদের পক্ষে কথা বলায় সাসপেন্ড, গর্ব অনুভব করছি”।
মঙ্গলবার বিধানসভার উল্লেখ পর্বে ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, মানসরঞ্জন ভুঁইয়া, শোভন দেব চট্টোপাধ্যায়রা গতকালের বিরোধী দলনেতার সদনের মধ্যে আচরন ও সাংবাদিক সন্মেলনে তার উক্তির তীব্র ধিক্কার জানান।
ফিরহাদ হাকিম বলেন, “কাল এমন একটা ঘটনা ঘটিয়েছে যা পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে এরকম ঘটনার সাক্ষী থাকে নি। তাঁর অসভ্য ভাষা প্রয়োগে সকলের মাথা নত হয়ে গেছে। নির্বাচনে লড়তে গেলে প্রত্যেককে শপথ নিতে হয়। কাল যে ভাষায় বিরোধী দলনেতা সংবিধানের বিরোধিতা করে ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতীয় ঐক্যকে অপমান করেছে।বিরোধী দলনেতার ব্যাবহার আমাদের লজ্জিত করেছে। আমরা হিন্দু মুসলিম ভাই ভাই,সরকার মানব ধর্ম ও মানব সেবা করে। তাই সরকার যখন কোনো প্রকল্প করে তা সকলের জন্য। ধিক্কার জানাই বিরোধী দলনেতা যে ব্যাবহার করেছে।আমরা সবাই লজ্জিত। জাতপাতের ভাগাভাগি করা যায় না। আমরা সবাই ভারতীয়। আপনার পাপ আপনাকেই শোধ করতে হবে।”
মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, “গতকাল আমরা অদ্ভূত একটা ঘটনার সাক্ষী হয়ে রইলাম। ইতিহাস এক নেতিবাচক দিকের সাক্ষী হয়ে রইলো। যখন দেশের সংবিধানের ৭৫ বছর পূর্ণ করে পরের প্রজন্মের উপর দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করার সময়। সেই সময় বিধানসভার গরিমাকে নষ্ট করলো তা আমাদের সবাইকে লজ্জা জনক জায়গায় পৌছে দিলো। ধিক্কার জানাই বিরোধী দলনেতাকে। বিরোধী দলনেতা বিভেদ তৈরী করছে। তাঁর বক্তব্য এখানকার মুসলমানদের তোয়াজ করা হয়? বিরোধী দলনেতা তার চেয়ারের গরিমা নষ্ট করেছে।”
মানস ভুঁইয়া বলেন, “ভারতবর্ষ সকলের ভারত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই কাজ করছে। সকলকে সঙ্গে নিয়ে চলছে। ভারত বর্ষের সংবিধানের মূলে যারা কুঠারাঘাত করেছে। ছি ছি ছি।”
শোভন দেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, “বিরোধী দলনেতার উক্তি গোটা জাতির লজ্জা, বাংলার লজ্জা, সংবিধানকে অপমান করেছে। সরকারের সমস্ত সদস্যকে, মুখ্যমন্ত্রীকেও আঘাত করেছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে তীব্র ধিক্কার জানাই।”